সাইয়্যিদাতুন নিসা, শাহযাদীয়ে রসূল, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল শান


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নুবুওওয়াত শরীফ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের ছয় বছর পর যখন পবিত্র রিসালত শরীফ উনার ই’লান মানুষের কাছে দিয়ে যা”েছন; তখনও কুরাইশবাসী এবং অন্যান্য লোকেরা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বর্ণনাহীন বর্বর যুলুম-অত্যাচার করে। নাঊযুবিল্লাহ!
কিš‘ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুতাবিক পবিত্র রিসালত শরীফ উনার সুসংবাদ মানুষের কাছে পৌঁছাতে থাকলেন।
একদিন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র কা’বা শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র নামায আদায় করছিলেন। ঠিক এমন সময় এক মালউন কাফির উনার নূরে আতহার পবিত্র জিসিম মুবারক উনার উপর উটের নাড়িভুঁড়ি রেখে চলে গেল। নাঊযুবিল্লাহ!
এই সংবাদ মুকতাদায়ে মু’মিনাত, পাকদারে মদীনা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, শাহযাদীয়ে রসূল, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার কাছে পৌঁছলে সাথে সাথে তিনি উনার আব্বাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে হাযির হয়ে উনার নূরে আতহার জিসিম মুবারক হতে সেসব আবর্জনা সরিয়ে নিলেন। সুবহানাল্লাহ! তখন উনার বয়স মুবারক ছিল খুবই অল্প অর্থাৎ প্রায় নয় বছর।
উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সবসময় উনার আব্বাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল খিদমতের আঞ্জাম দিয়েছেন; যা অবর্ণনীয়। যার ফলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হলেন আমার গোশত মুবারক উনার একটি অংশ মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
মুকতাদায়ে মু’মিনাত, পাকদারে মদীনা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, শাহযাদীয়ে রসূল, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার আব্বাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এত মুহব্বত করতেন; যা মানুষের ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। তার একটি উদাহরণ: যখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাতে চলে যান, তখন মুকতাদায়ে মু’মিনাত, পাকদারে মদীনা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, শাহযাদীয়ে রসূল, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সবসময় পবিত্র রওজা শরীফ উনার মধ্যে অব¯’ান করতেন এবং অধিকাংশ সময় বেহুঁশ অব¯’ায় থাকতেন। সুবহানাল্লাহ!
আল্লামা হযরত জামী রহমতুল্লাহি তিনি শরহে জামী কিতাবে মুকতাদায়ে মু’মিনাত, পাকদারে মদীনা, জিগার গো-শায়ে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, শাহযাদীয়ে রসূল, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার একটি ক্বাছীদা শরীফ উনার অংশ উল্লেখ করেন,
অর্থাৎ মুকতাদায়ে মু’মিনাত, পাকদারে মদীনা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, শাহযাদীয়ে রসূল, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, “আমার আব্বাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জুদায়ীর কারণে আমার উপর এমন কষ্ট যা”েছ, এই কষ্ট যদি কোনো দিনের উপর রাখা হয়, তাহলে দিনটি রাতে পরিণত হবে। আর যদি কোনো রাতের উপর রাখা হয়, রাতটি দিনে পরিণত হবে।” সুবহানাল্লাহ! তাহলে ফিকিরের বিষয় তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম উনাকে কত মুহব্বত করতেন।
কায়িনাতের সমস্ত মহিলাদের জন্য ফরয হলো- মুকতাদায়ে মু’মিনাত, পাকদারে মদীনা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, শাহযাদীয়ে রসূল, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম, পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করা এবং উনার ছিরত-ছূরত মুবারককে মাঢ়ির দাঁত দিয়ে আঁকড়িয়ে ধরা। আর উনাকে সুক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম-পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করতে হলে, হাদিয়ে আলম, নকশায়ে ছিদ্দীক্বা, আওলাদে রসূল হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক ছোহবতকে লাযিম করে নিতে হবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি মুজাদ্দিদে আয’ম, হাবীবে আ’যম, ক্বিবলায়ে হারামাইন, হামিলে নূরে কিবরিয়া, আওলাদে রসূল মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম ও উনার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে আমাদের নিজের জানের চেয়েও বেশি মুহব্বত করার এবং হাক্বীক্বীভাবে অনুসরণ-অনুকরণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন!

 

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে