সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ্ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কে মুনাফিক ও কাফিরগোষ্ঠীর অপপ্রচারের সঠিক জাওয়াব এবং প্রকৃত ঘটনা


বর্ণিত আছে যে, সম্মানিত নবুয়ত মুবারক প্রকাশের ১০ম বছরে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে চিন্তান্বিত দেখে বিশিষ্ট ছাহাবী ও নিকট-আত্মীয় হযরত উছমান ইবনে মাজউন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আহলিয়া, বিশিষ্ট ছাহাবিয়া, হযরত খাওলা বিনতে হাকীম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বললেন: ইয়া রসুলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আবার নিসবাতুল আযীম শরীফ করুন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জানতে চাইলেন: কাকে? হযরত খাওলা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বললেন: সাইয়্যিবাহ ও বাকেরা (কুমারী) দুই রকম ব্যক্তিত্বই আছেন। যাকে আপনার পছন্দ হয়, উনার বিষয়ে কথা বলা যেতে পারে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবার জানতে চাইলেন: উনারা কারা? হযরত খাওলা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বললেন: যিনি সাইয়্যিবাহ তিনি হচ্ছেন হচ্ছেন অধিক বয়স্কা, হযরত সাওদা বিনতে যাম’য়া আলাইহাস সালাম এবং যিনি বাকেরাহ তিনি হচ্ছেন হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত মেয়ে অল্প বয়স্কা, হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম। (উল্লেখযোগ্য যে, সে সময় পর্যন্ত পর্দার আদেশ জারী হয়নি। পর্দার আদেশ জারী হয় হিজরী ৫ম সনে)। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি তিনি সালাম ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি উনাদের অভিভাবকদের সাথে গিয়ে কথা বলুন। তদানুযায়ী হযরত খাওলা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা প্রথমে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম (হযরত সাওদা বিনতে যাময়া’ আলাইহাস সালাম) উনার পিতা যাময়া উনার সাথে কথা বললেন এবং পরে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সাথে কথা বললেন। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার পিতা যাময়া এই প্রস্তাবে রাযী হন। অতঃপর হযরত খাওলা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার নিকট প্রস্তাব নিয়ে গেলে তিনি বললেন যে, আমার পিতা তিনি তো হযরত যুবায়র ইবনে মুতঈম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে আমার এই মেয়ের বিবাহের ব্যাপারে ইতিপূর্বে কথা দিয়েছেন। তবে এই ব্যাপারে আমি মুতঈম ইবনে আদীকে জিজ্ঞাসা করে দেখি সে কি এখনও আমার এই মেয়ের সাথে তার ছেলের বিবাহের ব্যাপারে সম্মত আছে কিনা। অতঃপর হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি মুতইমের বাড়ী গিয়ে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে, মুতঈম ইবনে আদী তার আহলিয়াকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে। তার আহলিয়া যেহেতু কাফির ছিল সে রাযী হলো না। কাজেই মুতইম ইবনে আদীও তার ছেলে হযরত যুবায়র রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বিবাহের ব্যাপারে অসম্মতি জ্ঞাপন করল। এবার হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার পিতার প্রদত্ত ওয়াদা সম্পর্কে নিশ্চিন্ত হলেন এবং শুকুরগুজারী করলেন তা সাথে কৃত ওয়াদা থেকে মুক্ত হতে পেরে। অতঃপর উভয় আভিভাবক উনাদের সম্মতিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে এ দু’টি নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয় এবং অতঃপর সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার সাথে আক্দ মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখযোগ্য যে, ইসলাম পূর্ব আরবে বাল্যবিবাহের নিয়ম বহুল প্রচলিত ছিল। যেমন হযরত যুবায়র ইবনে মুতঈম রদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু উনার সাথে হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার শিশু অবস্থাতেই বিবাহের ওয়াদা দেয়া হয়েছিল। তাছাড়া নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুই জন মহাসম্মানিতা মেয়ে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নুরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম (হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম) এবং সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নুরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম (হযরত উম্মে কুলছুম আলাইহাস সালাম) উনাদের শিশু অবস্থায় আবু লাহাবের দুই ছেলে উতবা ও উতাইবার সাথে বিবাহ স্থিরিকৃত হয়েছিল। পরে সুরা লাহাব বা মাসাদ শরীফ নাযিল হলে উতবা ও উতায়বা উভয়ে অযোগ্য প্রমাণিত হয় ফলে আবু লাহাব ও তার স্ত্রী উম্মে জামিলা উভয়ে স্বেচ্ছায় মেনে নেয়। তাই উনাদেরকে আবু লাহাবের গৃহে যেতে হয়নি। হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: এই স্থিরিকৃত আক্বদ ভঙ্গ হওয়ার ঘোষণা ছিল আহলে বাইত শরীফ উনাদের জন্য সম্মানজনক, আর আবু লাহাবের জন্য অপমান ও লাঞ্ছনার কারণ। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ্ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে আরো কয়েকটি কারণ এইরূপ বর্ণিত আছে যে, হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাাম উনাকে মুবারক স্বপ্নে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার প্রতিকৃতি মুবারক দেখিয়েছিলেন। পবিত্র হাদীছ শরীফে উল্লেখ রয়েছে,
إن جبريل جاء بصورتها فى خِرْقَةِ حرير خضراء إلى النبى صلى الله عليه و سلم ، فقال: هَذِهِ زَوْجَتُكَ فِى الدُّنْيَا وَ الآخِرَةِ
অর্থ: হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম সবুজ রেশমী জুব্বায় আবৃত করে হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার ছুরত মুবারক নিয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আগমন করেন এবং বলেন যে, ইনিই হচ্ছেন দুনিয়া ও আখিরাতে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বিছালি শান মুবারক প্রকাশের পর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যধিক হুযনী শান মুবারক প্রকাশ করেন। হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে দোলনায় নিয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আগমন করেন এবং বলেন, এই সম্মানিত শিশু আপনার দুঃখ-বেদনা এবং মর্মপীড়া দূর করে দিবেন। তিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার স্থলাভিষিক্ত হবেন। সুবহানাল্লাহ! এ বর্ণনা হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খাছায়েছুল কুবরা কিতাবে উল্লেখ করেছেন। এতদ্ব্যতীত বুখারী শরীফে অন্যান্য হাদীছ শরীফেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে। এসব বর্ণনা থেকে বুঝা যায় যে, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার শিশু অবস্থায় আক্দ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হয় খালিক্ব, মালিক, রব্ব, মহান আল্লাহ পাক উনারই মর্জি মুবারক এবং নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী।
সম্মানিত নবুয়ত মুবারক প্রকাশের ১০ম সনে, হিজরতের তিন বছর পূর্বে, পবিত্র মক্কা শরীফে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে পবিত্র মাহে শাওয়াল শরীফ উনার ২১ তারিখ, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ অর্থাৎ পবিত্র সোমবার শরীফ সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ্ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আক্দ বা নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। তখন উনার বয়স মুবারক ছিলেন ৬ বছর। (উসুদুল গাবা, ইছাবা)।
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ্ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মোহর মুবারক পাঁচ শত দিরহাম নির্ধারণ করা হয়, যা একজন ব্যতীত সকল উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে প্রদান করা হয়। হযরত বানাতু রসুলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সকলকের ব্যাপারেও এইরূপ মোহর মুবারক নির্ধারন করা হয়। আরবে একটি কু-প্রথা ছিল, যে আরবরা পবিত্র শাওয়াল শরীফ মাসে উনারা বিয়ে-শাদি করতোনা। অতীতে কোন এক পবিত্র শাওয়াল শরীফ মাসে আরবে প্লেগ রোগ দেখা দেয়। এ কারণে তারা এ মাসটিকে অশুভ বলে বিশ্বাস করতো। নাউযুবিল্লাহ! এবং এ মাসে কোন বিয়ে শাদির অনুষ্ঠান করতো না। (তাবাকাত)। তৎকালীন আরবের কিছু লোকের এ বিশ্বাসও ছিল যে, এ মাসে নববধুকে ঘরে আনলে তাদের সম্পর্ক টিকে না, ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীমাহ শরীফ এমন অমূলক বিশ্বাসের ভিত্তিমূলে কুঠারাঘাত করে (ইবনে কাছীর: আস-সীরাহ)। আরো তিন বছর পরে অর্থাৎ উনার ৯ বছর বয়স মুবারকে পবিত্র মদীনা শরীফে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে পবিত্র হুয্রা শরীফে তুলে নেন। হুযরা শরীফে তুলে নেয়ার মাসটিও ছিলেন মাহে শাওয়াল শরীফ (উসুদুল গাবা, ইছাবা)।
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ্ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আবাসিক পবিত্র হুযরা শরীফ ছিল বর্তমানে মসজিদে নববী শরীফে যেখানে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ সেখানে। উনারই পবিত্র হুযরা শরীফে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন এবং এখানেই উনার পবিত্র রওযা শরীফ নির্ধারিত হয়।
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার জীবনী মুবারক আলোচনায় একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচনা প্রয়োজন। তা এই যে, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার অল্প বয়সে নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে কাফির, মুশরিক এবং মুনাফিকগণ চু-চেরা করে থাকে। তারা হচ্ছে বাল্য বিবাহের বিরোধী। স্বাভাবিকভাবেই দ্বীন ইসলাম উনার দুশমন যারা তারা তো এইরূপ চু-চেরা করবেই, তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই।
একটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের নিসবাতুল আযীম শরীফ সমূহ বিভিন্ন বয়সে অনুষ্ঠিত হয়েছিলেন। যেমন, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সাথে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যখন প্রথম নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হন, তখন উনার বয়স মুবারক ছিলেন ২৫ বছর এবং সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মুল মু’মিনীন আল-উলা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক ছিলেন ৪০ বছর। উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর পরবর্তীতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফসমূহ যেসব হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে অনুষ্ঠিত হয়েছিলেন, উনারা প্রায় সবাই ছিলেন বিভিন্ন বয়সের। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফে বিয়ে-শাদির ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণ করে কোনরূপ বাধ্যবাধকতা জারি করা হয়নি।
খালিক, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি জানেন মানব জাতির কল্যাণ কিসে নিহিত রয়েছে। তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে “খায়রে কাছীর” বা যাবতীয় কল্যাণকর বিষয়সমূহ হাদিয়া মুবারক করেছেন। এজন্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব উনার যাবতীয় কার্যাবলীকে পবিত্র কুরআন মজীদে “উসওয়াতুন হাসানা” (উত্তম আদর্শ) বলে ঘোষণা দিয়েছেন। কাজেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মানবজাতির জন্য সর্ব বিষয়ে আদর্শ এবং উনার যাবতীয় কার্যাবলী পবিত্র সুন্নত উনার অন্তর্ভূক্ত। পবিত্র সুন্নত উনার ইহানতকারী অর্থাৎ যারা পবিত্র সুুন্নত উনাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, অমান্য করে তারা কাফির।
মুজাদ্দিদে আযম, সাইয়্যিদুনা মামদুহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উম্মুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমেই বাল্যবিবাহকে সুন্নত হিসাবে সাব্যস্ত করেছেন। কারণ উনার আক্দ বা নিসবাতুল আযীম শরীফ সম্পন্ন হয়েছে ৬ বছর বয়স মুবারকে। মূলত, পবিত্র ২১শে শাওয়াল শরীফ হচ্ছেন সুমহান বরকতময় “বাল্য বিবাহ দিবস”। সুবহানাল্লাহ! তাই পবিত্র ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে বলা, বাল্য বিবাহকে কটাক্ষ করা এবং বাল্য বিবাহ রোধে আইন করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভূক্ত এবং চির জাহান্নামী হওয়ার কারণ। নাউযুবিল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আযম, সাইয়্যিদুনা মামদুহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র শান মুবারক উনার বিরোধিতা করেই বৃটিশ সরকার ১৯২৯ ঈসায়ী সালে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন প্রবর্তন করেছিল। নাউযুবিল্লাহ! তাতে ইসলাম-বিদ্বেষী যালিম বৃটিশ বেনিয়াদের প্রণীত আইনে শাস্তির মেয়াদ ১ মাসের কারাদন্ড এবং ১ হাজার টাকা জরিমানার বিধান ছিল। তবে বৃটিশ সরকার এ ধরণের আইন প্রণয়ন করলেও সামাজিকভাবে তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। আমরা জানি আমাদের পূর্ববর্তী মুরব্বীদের আমলে বাল্য বিবাহের বহুল প্রচলন ছিল। সেজন্য সমাজে বর্তমান সময়ের মত এরূপ বেপর্দা ও বেহায়াপনা ছিল না। বর্তমান বাংলাদেশ সরকার আরো জঘন্যভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধী অর্থাৎ পবিত্র ও মহাসম্মানিত কুরআন শরীফ এবং পবিত্র ও মহাসম্মানিত সুন্নাহ শরীফ উনাদের বিরোধী কথিত “বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন” তৈরী করেছে। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! যা মূলত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই বিরুদ্ধে বলা, যা কাট্টা কুফরী। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! সরকারের জন্য ফরয হচ্ছে অতিসত্বর বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন প্রত্যাহার করা এবং বাল্যবিবাহকে খাছ সুন্নত হিসাবে মেনে নেয়া।
বাল্যবিবাহ যে সবাইকে করতে হবে, এমন বিধান সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে দেয়া হয়নি। ইহা একটি ঐচ্ছিক বিষয়, ইচ্ছা করলে করা যাবে এবং ইচ্ছা না করলে নাও করা যাবে। কিন্তু বাল্যবিবাহ সুন্নত হওয়ার কারণে ইহার বিরুদ্ধে বলা বা ইহার বিরুদ্ধে কোনরূপ কার্যক্রম গ্রহণ করা কুফরীর শামিল এবং চির জাহান্নামী হওয়ার কারণ।
ইফকের ঘটনা
হিজরী ৬ সনে বনু মুস্তালিক গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সফর-সঙ্গীনী ছিলেন। মুনাফিক বিন উবাই বিপুল সংখ্যক মুনাফিক সঙ্গে নিয়ে এই অভিযানে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে শরীক হয়। আল্লামা ইবনে সা’দ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: ইতিপূর্বে কোন জিহাদেই এত সংখ্যক মুনাফিক যোগদান করেনি। অভিযান শেষে এই মুনাফিকরা নানাভাবে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করে। এই সফরেই তারা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে কেন্দ্র করে এক ষড়যন্ত্র পাকায়। ষড়যন্ত্রের বিবরণ এইরূপ: বনু মুস্তালিক অভিযান হতে ফিরবার পথে যখন সমগ্র বাহিনী বিশ্রাম করছিলেন, তখন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি উনার হাওদা মুবারক হতে বের হয়ে দূরে হাজত মুবারক স¤পাদন করতে যান। ফিরে এসে দেখেন যে, উনার মুবারক হারটি কোথায় পড়ে গিয়েছে। তিনি হাওদার পর্দা তুলে না রেখেই হারের সন্ধানে চলে যান। ইতোমধ্যে রওয়ানা হওয়ার সময় হলে তত্তাবধায়কগণ এসে দেখেন হাওদা মুবারক যথারীতি পর্দাবৃত। উনারা মনে করলেন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম হাওদা মুবারকেই আছেন। সুতরাং উনারা হাওদা মুবারকটি উষ্ট্রপৃষ্ঠে উঠিয়ে দেন। তারপর কাফেলা রওয়ানা হয়ে যায়। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম ফিরে এসে দেখেন যে কাফেলা চলে গিয়েছে। তিনি ধৈর্য না হারিয়ে নিজকে আপাদমস্তক আবৃত করে সেখানেই বসে রইলেন। তিনি জানতেন যে, কাফেলা রওয়ানা হওয়ার পর কোন কিছু পড়ে থাকল কিনা তা দেখার জন্য লোক নিযুক্ত থাকে। এ অভিযানে বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত ছাফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু এ কাজের জন্য নিযুক্ত ছিলেন। হযরত ছাফওয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে চিনতে পেরে স্বীয় উটটি বসিয়ে তিনি দূরে সরে গেলেন। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম হাওদা মুবারকে উঠে পর্দা ফেলে দিলে তিনি উটের রশি ধরে চললেন এবং অবশেষে কাফেলার সাথে মিলিত হলেন।
একমাত্র হযরত ছাফওয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু উনার সাথে ফিরতে দেখে মুনাফিকগণ উনার নামে নানা প্রকার অপবাদ রটাতে থাকে। নাউযুবিল্লাহ। পবিত্র মদীনা শরীফে ফিরবার পর কথাটি ছড়িয়ে ক্রমে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার কানে গেলে তিনি মর্মাহত হন এবং মারিদ্বী শান মুবারক অবস্থায় তিনি কিছুদিনের জন্য পিতৃগৃহে অবস্থান মুবারক করেন। এই অপবাদের গুজব অবগত হয়ে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অতিশয় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এ সময় উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র শান মুবারকে এবং অপবাদ রটনাকারীর পরিণাম স¤পর্কে সুরা নূরে আয়াত শরীফ অবতীর্ণ হয়। নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার নিকট উপস্থিত হন ও উনাকে সেই আয়াত শরীফগুলি পড়ে শুনান। এতে সকল প্রকার ভ্রান্তির অপনোদন হয়। যারা অপবাদ দিয়েছিল তাদেরকে কুরআন শরীফে মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী শাস্তি দেয়া হয়। আরবী ভাষায় ইফ্ক অর্থ মিথ্যা রটনা। এজন্যই ইহা ইফ্কের ঘটনা হিসাবে প্রসিদ্ধ।
তায়াম্মুমের আয়াত শরীফ নাযিল:
একবার এক সফরে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে ছিলেন। ঐতিহাসিক ইবনে সা’দের মতে এটা ছিল আল-মুরাইসী জিহাদকালীন সফরের ঘটনা। কাফেলা যখন জাতুল যাইশ অথবা আল-বায়দা নামক স্থানে পৌঁছে, তখন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার গলার হার মুবারক কোথায় পড়ে যায়। সাথে সাথে ব্যাপারটি তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অবহিত করেন। সময়টি ছিল ভোর হওয়ার কাছাকাছি। নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কাফেলাকে এখানে অবস্থানের নির্দেশ মুবারক দেন এবং এক ব্যক্তিকে হারটি খোঁজার জন্য দ্রুত পাঠিয়ে দেন। ঘটনাক্রমে যেখানে তাঁবু গেড়েছিলেন, সেখানে বিন্দুমাত্র পানি ছিল না। এদিকে ফজরের নামাযের সময় হয়ে গেল। অনেকে ধারণা করলেন, ইহা একটি অপ্রত্যাশিত বিপদ। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালামও এই ঘটনায় চিন্তিত হলেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাওমী শান মুবারক থেকে জেগে সব অবহিত হন। এ সময় সূরা নিসা শরীফ উনার ৪৩ নং আয়াত শরীফ নাযিল হয়। মহান আল্লাহ পাক নির্দেশ দেন যে, যদি পানি পাওয়া না যায় তবে পাক মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে নিবে।
তায়াম্মুমের হুকুম একটি পুরস্কার বিশেষ। যা এই উম্মতের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ পাক অযু গোসল প্রভৃতি পবিত্রতার জন্য এমন এক বস্তুকে পানির স্থলাভিষিক্ত করে দেন, যার প্রাপ্তি পানি অপেক্ষাও সহজ। আর এই সহজ ব্যবস্থাটি পূর্ববর্তী কোন উম্মতকে দেয়া হয়নি। আয়াত শরীফ নাযিল হলে হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্বোধন করে বললেন, আমার কলিজার টুকরা মেয়ে! আমার জানা ছিল না যে, আপনি এতখানী কল্যাণময়ী। আপনার উছীলায় মহান আল্লাহ পাক মুসলিম উম্মাহকে এতখানি বরকত ও আসানী দান করলেন। (মুসনাদ, সিয়ারু আলামিন নুবালা)! এরপর কাফেলা চলার জন্য যখন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার উটটি উঠানো হয়, সেই উটের নীচেই মুবারক হারটি পাওয়া যায়। সুবহানাল্লাহ! (তফসীরে ইবনে কাছীর, সিয়ারু আলামিন নুবালা)।
ঈলা বা তাখঈর-এর ঘটনা:
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার হায়াত মুবারকে ঈলা বা তাখঈর-এর ঘটনা পবিত্র আহলে বাইত শরীফে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ইহা হিজরী ৯ম সন, মতান্তরে আহযাব ও বনু কুরাইজার সমসাময়িক কালের ঘটনা (বুখারী শরীফ)। তখন আরবের দূর দূরান্তরে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার আলো ছড়িয়ে পড়েছিল। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বায়তুল মালে প্রতিনিয়ত সম্পদ জমা হচ্ছিল। তা সত্বেও হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা মিতব্যয়িতার ভিতর দিয়ে চলছিলেন। তাছাড়া উনাদের প্রত্যেকেরই ছিল মেহমানদারীর অভ্যাস ও দান-খয়রাতের অভ্যাস। উনাদের জন্য যা কিছু বরাদ্দ করা হতো, উনারা সবই দান করে দিতেন। এ কারণে বায়তুল মালের অর্থ-সম্পদের আধিক্য দেখে উনারা ধারণা করলেন, উনাদের বরাদ্দ সেই হিসাবে বৃদ্ধি করার প্রস্তাবনা পেশ করা যেতে পারে। এজন্য উনারা সকলে একসাথে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য আর্জি পেশ করেন।
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার হুযরা শরীফ সংলগ্ন আর একটি ঘর ছিল যাকে “আল-মাশরাবা” বলা হতো। হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব উত্থাপিত হলে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের থেকে পৃথক হয়ে সেখানেই অবস্থান মুবারক করতে লাগলেন। নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইচ্ছা মুবারক করলেন যে, এক মাস তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের নিকটবর্তী হবেননা। এই ঘটনাটি মুনাফিকরা প্রচার করে দেয় যে, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সকলকে তালাক প্রদান করেছেন। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! এ কথা শুনে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা মসজিদে নববী শরীফে সমবেত হন। হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা কান্নাকাটি শুরু করলেন। কিন্তু কেউ এ বিষয়ে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করার সাহস পেলেন না।
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি খবর পেয়ে মসজিদে নববী শরীফে এসে দেখেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা চিন্তিত অবস্থায় চুপচাপ বসে আছেন। অতঃপর হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে দুই বার কোন সাড়া পেলেন না। তৃতীয় বারে অনুমতি পেয়ে হুজরা শরীফে ঢুকে দেখেন নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একটি চৌকি মুবারকে শুয়ে আছেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম ঘরের চারদিকে দৃষ্টি বুলিয়ে দেখলেন, সেখানে কয়েকটি মাটির পাত্র ও শুকনো মশক ছাড়া আর কোন জিনিস নেই। এ অবস্থা দেখে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার চোখে অশ্রু নেমে আসল। তিনি বললেন, ইয়া রসুলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম! আপনি কি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে তালাক দিয়েছেন? তিনি জবাব দিলেন, না। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমি কি এ সুসংবাদ মুসলমানদের মধ্যে প্রচার করে দিব? নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অনুমতি দিলে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উচ্চস্বরে “আল্লাহু আকবার” ধ্বনি দিয়ে এ সুসংবাদ শুনিয়ে দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে খালিক, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তাখঈর এর আয়াত শরীফ নাযিল করেন। আয়াত শরীফটি এইরূপ-
يَا أيُّهَا النَّبِىُّ قُلْ لِأزْوَاجِكَ إنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَ زِيْنَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَ أُسَرِّحْكُنّ سَرَاحًا جَمِيْلًا- وَ إنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللهَ وَ رَسُوْلَهُ وَ الدَّارَ الْآخِرَةَ فَإنَّ اللهَ أعَدَّ لِلْمُحْسِنَاتِ مِنْكُنَّ أجْرًا عَظيْمًا –
অর্থ: হে নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম! আপনি আপনার আজওয়াজে মুতাহহারাতগণ উনাদেরকে বলুন, আপনারা যদি দুনিয়া ও তার চাকচিক্যই পেতে চান তবে আসুন, আমি আপনাদেরকে ভোগ-সামগ্রী দিয়ে উত্তমভাবে রোখছতের ব্যবস্থা করে দেই। আর যদি আপনারা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে এবং পরকালের (সম্মানিত) আবাসস্থল পেতে চান, তবে জেনে রাখুন আপনাদের মধ্যে যাঁরা নেককার, উনাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক মহাপ্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন (সুরা আহযাব শরীফ-২৯)।
এই আয়াত শরীফ যখন নাযিল হলো, তখন নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রথম সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার সাথে কথা বললেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনাকে একটি কথা বলছি, খুব তাড়াতাড়ি জবাব দিবেন না। আপনার পিতা-মাতা উনাদের মতামত জেনে নিবেন। অতঃপর নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এ আয়াত শরীফটি পাঠ করে শুনালেন এবং বললেন: খালিক, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট থেকে এই ফরমান মুবারক এসেছেন। সঙ্গে সঙ্গে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, এ বিষয়ে আমার বাবা-মার নিকট কি জিজ্ঞাসা করব? আমি তো খালিক, মালিক, রব্ব, মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার রসুল আপনাকে এবং পরকালের সফলতাই চাই। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার এই জবাবে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত খুশী হন। তিনি বললেন, বিষয়টি আপনার নিকট যেভাবে উপস্থাপন করেছি, অন্যান্য আজওয়াজে মুতাহহারাতগণ উনাদের নিকটও উপস্থাপন করব। অতঃপর নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্যান্য হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের নিকটও বিষয়টি একইভাবে উপস্থাপন করেন। উনারা সকলেই সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার ন্যায় জবাব দেন। সুবহানাল্লাহ! সীরাত গ্রন্থসমূহে এই ঘটনা তাখঈর এর ঘটনা হিসাবে অভিহিত হয়েছে।
তাখঈর অর্থ ইখতিয়ার দান করা অর্থাৎ কোন আহলিয়া তার স্বামীর সাথে থাকবে, নাকি তার নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এ দু’টির কোন একটি গ্রহণের সিদ্ধান্ত করার ইখতিয়ার আহলিয়াকে অর্পণ করা। তবে বিশিষ্ট আলেমগণের মতে উপরোক্ত আয়াত শরীফে তালাকের ইখতিয়ার দেয়া হয়নি, তালাক প্রার্থনার ইখতিয়ার দেয়া হয়েছিল। অর্থাৎ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ইচ্ছা করলে তালাক প্রার্থনা করতে পারতেন। অতঃপর উনাদের সে প্রার্থনা পূরণ করা হতো। কিন্তু উনারা সে কাজ করেননি। (তফসীরে মাজহারী)
হযরত ক্বাতাদা রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা খালিক, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে বেছে নিলে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের প্রতি খুশী প্রকাশ করেন এবং প্রতিদান স্বরূপ উনাদের মধ্যেই আজওয়াজে মুতাহহারাত উনাদের সংখ্যা সীমিত করে দেন। অতঃপর খালিক, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لَا يَحِلُّ لَكَ النِّسَاءُ مِنْ بَعْدُ –
অর্থ: এরপর আপনার জন্য অন্য কোন আহলিয়া হালাল নয়। (৩৩:৫২) (তফসীরে মাজহারী)।
বস্তুত ইহা ছিল হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের বেমেছাল শান মুবারক প্রকাশের হিকমত স্বরূপ। আর এ বিষয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার আয়াত শরীফ নাযিল দ্বারা বুঝা গেল যে, খালিক, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার প্রিয়তম হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মর্জির সামান্যতম খেলাফও পছন্দ করেন না, আর হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান-মান সমস্ত উম্মতের মান-মর্যাদা অপেক্ষা বহু গুণ উর্ধ্বে।
নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের সময় হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ্ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারক:
নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের সময় সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম নজিরবিহীনভাবে মুবারক খেদমতের আঞ্জাম দেন।
বিদায় হজ্জের ছফর থেকে প্রত্যাবর্তনের পর দুই মাস অতিবাহিত হলে হিজরী ১১ সনের পবিত্র ছফর মাসের ১৮ বা ১৯ তারিখে একদিন মধ্যরাতে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র বিছানা মুবারক থেকে উঠলেন এবং হযরত আবু রাফি’ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অথবা হযরত আবু মুওয়ায়হিবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নামে একজন খাদিমকে সঙ্গে নিয়ে জান্নাতুল বাক্বী শরীফ কবরস্থানে তাশরীফ মুবারক আনেন এবং দীর্ঘসময় ধরে দোয়া করতে থাকেন। অতঃপর খাদিমকে বলেন, খালিক, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে উনার নিকট চলে যাওয়ার কিংবা ক্বিয়ামত পর্যন্ত দুনিয়াতে থাকার ইখতিয়ার মুবারক দিয়েছেন। আমি উনার সান্নিধ্যে গমনকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। হুজরা শরীফে ফিরে আসার পরপরই উনার পবিত্র নুরুল হুদা মুবারকে (পবিত্র মাথা মুবারকে) ব্যথা আরম্ভ হয়। (তাবাক্বাত) অতঃপর, ক্রমে উনার মারিদ্বী শান মুবারক বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতদসত্বেও তিনি হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের হুজরা শরীফে মুবারক অবস্থানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চললেন। অতঃপর কোন এক ইয়ামুস সাব্ত (শনিবার) সন্ধ্যায় হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সকলের উপস্থিতিতে তিনি বললেন, আগামীকাল আমি কার ঘরে অবস্থান করব? ধারাবাহিকতা হিসাবে সেদিন ছিল সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ্ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার হুজরা শরীফে অবস্থানের সময়। হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বললেন, যেখানে আপনার মর্জি হবে সেখানেই অবস্থান করুন। সুতরাং তিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ্ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক আনয়ন করেন। হুজরা শরীফের দরজা ছিল মসজিদের প্রথম সারির একেবারে বরাবরে। এই মারিদ্বী শান অবস্থায়ও নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযে ইমামতি করতে থাকেন। উনার ইমামতে সর্বশেষ নামায ছিল মাগরিবের নামায। এই নামাযের সময় পবিত্র নুরুল হুদা মুবারকে (পবিত্র মাথায়) ব্যথার কারণে তিনি পবিত্র নুরুল হুদা মুবারকে রুমাল বেঁধে রেখেছিলেন (মুসলিম শরীফ, বুখারী শরীফ)।
পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পাঁচ দিন পূর্বে পবিত্র ইয়াওমুল খামীস (বৃহস্পতিবার) নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গোসল মুবারক করার ইরাদা করেন। সুতরাং উনাকে একটি টবে বসিয়ে উনার জিসিম মুবারকের উপর সাত মশক পানি ঢেলে দেয়া হলো। এতে কিছুটা সুস্থতা অনুভব করলে তিনি পবিত্র নুরুল হুদা মুবারকে (পবিত্র মাথা মুবারকে) পট্টি বেঁধে যোহরের নামাযের সময় মসজিদে নববী শরীফে তাশরীফ মুবারক আনয়ন করেন। নামায শেষে মিম্বর শরীফে উঠে সুদীর্ঘ খুতবা মুবারক প্রদান করেন। এই খুতবা মুবারকের মধ্যে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে তিনি উল্লেখ করেন, খালিক, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার এক বান্দাকে দুনিয়ায় থেকে যাওয়া অথবা উনার নিকট চলে যাওয়া এ দু’য়ের একটি নির্বাচন করার ইখতিয়ার দিয়েছেন। তখন ঐ বান্দা খালিক, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট চলে যাওয়াকে প্রাধান্য দিলেন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের অনেকেই ক্বওল শরীফের ইঙ্গিত বুঝতে পারলেন। আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি কেঁদে দিলেন এবং বললেন, আমাদের মাতা-পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক! নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সান্ত¡না দিলেন এবং উনার প্রশংসা করলেন। অতঃপর ইরশাদ মুবারক করলেন, মসজিদমুখী ঘরসমূহের সব দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে, শুধু হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার খিড়কি দরজা ব্যতিরেকে। এতে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতের দিকে ইঙ্গিত রয়েছে যাতে নবী নিযুক্ত খলীফা নামাযে ইমামতি করার জন্য আসা যাওয়া সহজ হয় (মুসলিম শরীফ)।
অত্যন্ত দীর্ঘ এই খুতবা মুবারক দিয়ে তিনি পবিত্র হুজরা শরীফে ফিরে আসেন এবং তখন মারিদ্বী শান মুবারক আরো বৃদ্ধি পায়। এই অবস্থা দেখে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামগণ এবং আরো কতিপয় মহিলা ছাহাবী পবিত্র হুজরা শরীফে সমবেত হন (মুসনাদে ইবনে হাম্বাল)।
এই ঘটনাটি ছিল পবিত্র ইয়াওমুল খামীস দিনের। এই দিন ইশার নামাযের সময় নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন তিন বার গোসল মুবারক করে নামাযের জন্য উঠে যেতে চাইলেন, কিন্তু প্রতিবারেই মারিদ্বী শান মুবারকের বিষয়টি সুস্পষ্ট হলো। চতুর্থ বারের পর তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
مروا أبا بكر فليصل بالناس
অর্থ: হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে বলুন, তিনি যেন নামায পড়িয়ে দেন। (বুখারী শরীফ)
তখন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ-ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি নিবেদন করেন, হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি অত্যন্ত কোমল-প্রাণ মানুষ। আপনার স্থানে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করার উনার পক্ষে সম্ভব হবে না। তিনি হয়ত কেঁদে ফেলবেন এবং উনার আওয়ায মুছল্লীগণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে না। নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পুনরায় একই নির্দেশ দিলেন। তিনি পূণরায় ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে বলুন তিনি যেন নামাযে ইমামতি করেন। অতঃপর নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হায়াত মুবারকেই উনার পবিত্র নির্দেশে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম মোট ১৭ ওয়াক্ত নামাযে ইমামতি করেন। পবিত্র ইয়াওমুল খামীস দইশা থেকে পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াম শরীফ (পবিত্র ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার শরীফ) ফজর পর্যন্ত। (তাবাকাত)
হিজরী ১১ সনের পবিত্র মাহে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহুর (পবিত্র মাহে রবীউল আউয়াল শরীফ) উনার পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ অর্থাৎ ১২ তারিখ, পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াম শরীফ (পবিত্র ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার শরীফ) নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। এই সময় উনার পবিত্র নুরুল হুদা মুবারক (পবিত্র ছের মুবারক) সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার কোল মুবারকে ছিলেন। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের সময় আমি নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম উনার পবিত্র যবান মুবারকে এই পবিত্র ক্বওল শরীফটি শুনতে পেলাম-
أللهم الرفيق الأعلى
অর্থ: আয় আল্লাহ পাক! আমার পরম বন্ধুর সন্নিকটে।
তিন বার এই পবিত্র ক্বওল শরীফটি তিনি উচ্চারণ করেন এবং অতঃপর বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। কিন্তু সে সময় আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। পরে অন্যান্য মহিলাগণকে কাঁদতে দেখে কি ঘটনা ঘটে গিয়েছে, সে বিষয় আমি উপলব্ধি করতে পারলাম। তখন আমি খুব আস্তে করে উনার পবিত্র নুরুল হুদা মুবারক (পবিত্র ছের মুবারক) বালিশের উপর রেখে দিলাম এবং দাঁড়িয়ে উঠে ক্রন্দন করতে লাগলাম। (ইবনে হিশাম, মুসনাদ)।
আল্লাহুম্মা ছল্লি আলা সাইয়্যিদিনা ওয়া নাবিয়িনা ওয়া শাফিয়িনা ওয়া হাবীবিনা ওয়া মাওলানা ওয়াছিলাতী ইলাইকা ওয়া আলা আলিহী ওয়া আছহাবিহি ওয়া বারিক ওয়া সাল্লিম।
নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহুু আলাইহি ওয়া সাল্লাাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর:
নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের সময় সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক ছিল ১৮ বছর। অতঃপর দুনিয়াবী হায়াত মুবারকে তিনি আরো ৪৭ বছর ছিলেন। উনার পবিত্র হুজরা শরীফেই নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ নির্দিষ্ট হয়। যতদিন তিনি হায়াত মুবারকে ছিলেন, এই পবিত্র রওযা শরীফের পাশে উনার নিজ হুজরা শরীফেই অবস্থান মুবারক করতেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে এই পবিত্র রওযা শরীফে দাফন মুবারক করার পূর্ব পর্যন্ত তিনি হিজাব ছাড়া পবিত্র রওযা শরীফে আসতেন। কারণ, তখন সেখানে যে দু’জন শায়িত ছিলেন উনারা একজন হচ্ছেন নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আর অন্যজন হচ্ছেন উনার সম্মানিত আব্বাজান হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম। উনাদের পাশে যখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে দাফন মুবারক করা হয়, তখন তিনি বলতেন, এখন সেখানে যেতে গেলে হিজাবের (পর্দার) প্রয়োজন। সে জন্য তখন থেকে তিনি পবিত্র রওযা শরীফে হিজাব পরে আগমন করতেন।
নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি প্রথম খলীফা হিসাবে অধিষ্ঠিত হন। হিজরী ১৩ সনে জুমাদাল উখরা মাসের ২২ তারিখ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তিনি প্রায় দুই বছর তিন মাস খিলাফতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বে তিনি উনার সম্মানিত মেয়ে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করেন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাফন মুবারকে কতখানি কাপড় ছিল? মেয়ে বললেন তিন খানা সাদা কাপড়। আবার জিজ্ঞাসা করেন তিনি কোন্ দিন বিছাল শরীফ লাভ করেন। তিনি জবাব দেন, পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াম শরীফ (পবিত্র ইছনাইনিল আযীম শরীফ অর্থাৎ পবিত্র সোমবার শরীফ) তিনি বললেন, তাহলে আজ রাতে আমাকেও যেতে হবে। তিনি ঠিক সেদিন দিবাগত রাতেই বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। (খলীফাদের ইতিহাস)
অতঃপর দ্বিতীয় খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত কাল দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণযুগ। তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের জন্য বার্ষিক ১০ হাজার দিরহাম ভাতা নির্ধারণ করেন। আর সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার জন্য বার্ষিক ১২ হাজার দিরহাম নির্ধারণ করেন। যেহেতু তিনি নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বাধিক প্রিয় ছিলেন সেজন্য তিনি এই বর্ধিত অর্থ বরাদ্দ করেন।
তৃতীয় খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত যূর নূরাইন আলাইহিস সালাম ১২ বছর খিলাফতে আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। প্রথম ছয় বছর সকল প্রকার হাঙ্গামা মুক্ত শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছিল। তারপর থেকে ধীরে ধীরে ইহুদী ও মুনাফিকগণ মিথ্যা অভিযোগ দাঁড় করিয়ে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে। ইহুদী ষড়যন্ত্রের ইতিহাস এইরূপ যে, ইবনে সাবা নামে এক ইহুদী সন্তান মুসলমান হয়েছে বলে নিজেকে প্রকাশ করে। ইহুদীদের নিয়ম হলো, শত্রু হিসাবে যদি শত্রুর ক্ষতি করতে না পারে তাহলে রূপ পাল্টিয়ে বন্ধু হয়ে যায়। তারপর ধীরে ধীরে গোপন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শত্রুর সর্বনাশের চূড়ান্ত করে ছাড়ে। অতীতে ঈসায়ী ধর্মের সাথেও তারা এমন আচরণই করেছিল। এই ইহুদী সন্তান ইবনে সাবা এ কথা প্রচার করতে থাকে যে, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু ওয়া আলাইহিস সালাম প্রকৃতপক্ষে খিলাফতের হক্বদার। খিলাফতের বিভিন্ন ছোট-খাট রাজনৈহিত ঘটনাকে বাহানা বানিয়ে সে তার ষড়যন্ত্রের জালকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়। ইতিহাসে ইহাই ‘সাবাই আন্দোলন’ নামে পরিচিত। এই ষড়যন্ত্রের ফলে অবশেষে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে শাহাদত বরণ করতে হয়। এ সময় পর্যন্ত সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি সার্বক্ষণিকভাবে মুসলিম উম্মাহর বিশেষত মহিলা সমাজের মধ্যে দ্বীন সংক্রান্ত বিষয়ে তা’লীম ও তালক্বীন দিয়ে যাচ্ছিলেন। সাবাই আন্দোলনের জের স্বরূপ বিদ্রোহীরা যখন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার গৃহ অবরোধ করে, সে সময় সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি হজ্জে গমণ করেছিলেন। হজ্জ শেষে তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ ফিরছিলেন, এ সময় তিনি খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহাদতের খবর পান।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে