সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক


পরিচিতি মুবারক:
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন বনু হিলাল গোত্রে, উনার সম্মানিত পিতা উনার নাম মুবারক হযরত হারিছ বিন হাযান আলাইহিস সালাম, সম্মানিতা মাতা উনার নাম মুবারক হযরত হিন্দা বিনতে আওফ আলাইহাস সালাম (তাবাক্বাত, আনসাবুল আশরাফ)।
উনার পূর্ব নাম মুবারক ছিল র্বারা। নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই নাম মুবারক পরিবর্তন করে হযরত মায়মুনা আলাইহাস সালাম রাখেন। তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের খালা ছিলেন। উনার পূর্ব আহালের নাম আবু রুহম বিন আবদুল উয্যা এবং তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার আহলিয়া হযরত উম্মুল ফদ্বল লুবাবা আল-কুবরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার আপন বোন ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! (উসুদুল গাবা)
সম্মানিত বিলাদত শরীফ:
পবিত্র মক্কা শরীফে সম্মানিত নবুওয়ত প্রকাশের ৩১ বছর পূর্বে পবিত্র মাহে রজবুল হারাম শরীফ উনার ৩ তারিখ, পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদুল আইয়াম শরীফ অর্থাৎ পবিত্র ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ, তিনি সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! (দৈনিক আল ইহসান শরীফ ৬-১০-১৪৩৯)।
উনার উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন কয়েকজন বোন:
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার নিকট-আত্মীয়দের মধ্যে উনার বেশ কয়েকজন বোন বিশেষ মর্যাদা সম্পন্ন ও বিখ্যাত ছিলেন। এক বোন হযরত উম্মুল ফদ্বল লুবাবা আল-কুবরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আহলিয়া, উনার ৬ ছেলে ছিলেন ইসলামের প্রসিদ্ধ সন্তান, বিশিষ্ট ছাহাবী উনাদের নাম- হযরত ফযল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত মা’বাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত কুসাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আবদুর রহমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। উনার দ্বিতীয় বোন হযরত লুবাবা ছুগরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা সাইয়্যিদুনা হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্মানিত মাতা, তৃতীয় বোন হযরত বারযাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা হযরত ইয়াযীদ ইবনুল আছাম্ম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাতা, উনার ৪র্থ বোন, উম্মু হাফীদের নাম ছিলেন হযরত হুযায়লা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা।
হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি “আল-মুয়াত্তা” কিতাবে এবং বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফে এইরূপ একটি বর্ণনা রয়েছে যে, একবার নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার বাড়ীতে যান। সেখানে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস আলাইহিস সালাম এবং হযরত খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উপস্থিত ছিলেন। উনাদের সামনে গুঁই-সাপের গোশত উপস্থাপন করা হয়। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম তিনি বলেন: এই গোশ্ত আমার বোন হযরত হুযায়লা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা পাঠিয়েছেন। নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গুঁই-সাপের গোশ্ত খেলেন না। কিন্তু উনার অনুমতিতে অন্যেরা খেলেন।
হযরত ইমাম ত্বহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একটি বর্ণনায় জানা যায় যে, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি না খাওয়ার কারণে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম তিনিও এই গোশ্ত খেলেন না। উনারা চার জনই ছিলেন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার বৈমাত্রেয় বোন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার বৈপিত্রেয় বোন হযরত আসমা বিনতে উমাইস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত জা’ফর ত্বইয়ার বিন আবী তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আহলিয়া। মুতার জিহাদে সাইয়্যিদুনা হযরত জা’ফর ত্বইয়ার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু শাহাদাত বরণ করলে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সাথে উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয় এবং উনার ঔরস শরীফে হযরত মুহম্মদ বিন আবী বকর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার সাথে উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। উনার ঔরস শরীফে হযরত ইয়াহইয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত আওন রহমতুল্লাহি আলাইহি নামে দুইজন বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার অপর এক বৈপিত্রেয় বোন হযরত সালমা বিনতে উমাইস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ছিলেন সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদুনা হযরত হামযা আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আহলিয়া। সুবহানাল্লাহ! (আনসাবুল আশরাফ)
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে নিসবাতুল আযীম শরীফ:
নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার দু’টি শাদী মুবারক হয়েছিলেন। প্রথম আহাল উনার সাথে উনার জুদাই হয়ে যায়। দ্বিতীয় আহাল আবু রুহম ইবনে আবদুল উয্যা ৭ম হিজরীতে ইনতিকাল করেন। আবু রুহমের ইনতিকালের পর ৭ম হিজরী সনের পবিত্র মাহে জিলক্বদ শরীফ উনার ১৬ তারিখ নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উনার নিসবাতুল অযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ক্বাযায়-উমরা পালন করার জন্য পবিত্র মক্কা শরীফে তাশরীফ আনয়ন করেছিলেন। উমরা আদায়ের পর পবিত্র মদীনা শরীফে ফেরার পথে পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে ৬ থেকে ১২ মাইল দূরে সারাফ নামক মনযিলে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিশ্রাম গ্রহণ করেন। এখানেই সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে তাশরীফ মুবারক আনয়ন করেন। বর্ণিত আছে যে সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলেছিলেন: হযরত মায়মুনা বিনতুল হারিছ আলাইহাস সালাম বিধবা হয়ে গিয়েছেন, আপনি উনাকে শাদী করলে উত্তম হবে? অতঃপর সম্মানিত চাচা উনার অনুরোধ রক্ষার্থে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। যা ছিলেন নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বশেষ নিসবাতুল আযীম শরীফ। পবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক ছিলেন ৫০ বছর ৪ মাস ১৩ দিন। সুবহানাল্লাহ! (দৈনিক আল-ইহসান শরীফ)।
হযরত ইবনে আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার একটি বর্ণনায় জানা যায়, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র উমরা আদায়কালীন সময় পবিত্র মক্কা শরীফে। তিনি পবিত্র উমরা পালন উপলক্ষে তিন দিন সেখানে অবস্থান করেন। তৃতীয় দিনে হুয়ায়তিব ইবনে আবদিল উয্যা আরো কয়েকজন কুরাইশ ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে দেখা করে বলে: হুদায়বিয়ার চূক্তি অনুযায়ী আপনার অবস্থানের মেয়াদ আজ শেষ হয়ে যাচ্ছে। নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: আমি তোমাদের মধ্যে আরো অল্প কিছু সময় অবস্থান করলে তোমাদের এমন কি অসুবিধা হবে? ইতিমধ্যে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার সাথে আমার নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমি তোমাদের মধ্যে ওলীমা মুবারক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে পারতাম। আর তোমরাও ওলীমা মুবারক উনার খাবারে শরীক থাকতে পারতে? তারা বলল: যেহেতু সময় শেষ হয়ে গেছে, অতঃপর নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে বেরিয়ে এসে পবিত্র “সারাফ” নামক স্থানে একটি তাঁবুতে অবস্থান মুবারক করতে থাকেন। এই পবিত্র স্থানেই নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খেদমতে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম মুবারক তাশরীফ আনয়ন করেন এবং উনাদের সাক্ষাত মুবারক হন। সুবহানাল্লাহ! (সীরতে ইবনে হিশাম)
নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম “উমরাতুল কাযা” আদায়কালীন সময়ে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার সাথে উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এ ব্যাপারে সকল সীরাত বিশেষজ্ঞগণ একমত। তবে ফুকাহায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের কিছু মত-পার্থক্য রয়েছে যে, নিসবাতুল আযীম শরীফ উনার সময়ে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহরাম অবস্থায় ছিলেন, নাকি বিনা-ইহরাম অবস্থায় ছিলেন (ত্ববাক্বাত)।
হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এই মত-পার্থক্যের সমন্বয় করতে গিয়ে বলেছেন: উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়েছে ইহরাম অবস্থায়, আর উনাদের সাক্ষাত মুবারক হয়েছেন উমরা আদায়ের পর বিনা-ইহরাম অবস্থায়। সুবহানাল্লাহ! (আসাহহুস সিয়ার)।
ফযীলত ও মর্যাদা:
বিখ্যাত যোদ্ধা সাইয়্যিদুনা হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু উনার আপন খালা ছিলেন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনাকে খুব বেশী স্নেহ করতেন। এই নিসবাতুল আযীম শরীফ উনার পর পরই সাইয়্যিদুনা হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন্হু ইসলাম গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার মুবারক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে উনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় তিনি বলেন-
إنها كانت من أتقانا لله و أوصلنا للرحم –
অর্থ: আমাদের মধ্যে তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে সবচেয়ে বেশী ভয় করতেন এবং সবচেয়ে বেশী আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখতেন। (তাবাক্বাত, সিয়ারু আলামিন নুবালা)
উনার অভ্যাস ছিল দাস-দাসী ক্রয় করে মুক্ত করে দেয়া। এজন্য তিনি মাঝে মাঝে ধার কর্জ করতেন। একবার তিনি খুব বড় অঙ্কের অর্থ কর্জ করেন। উনাকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি এত বড় অংকের কর্জ কিভাবে পরিশোধ করবেন? উত্তরে তিনি বলেছিলেন: কোন লোকের যদি সদিচ্ছা থাকে যে সে ধারকৃত টাকা পরিশোধ করবে, তবে মহান আল্লাহ পাক নিজেই ইহা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন। সুবহানাল্লাহ! (তাবাকাত)
সম্মানিত শরীয়ত উনার আদেশ নিষেধের ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। এ ব্যাপারে কোন রকম নমনীয়তা উনার মধ্যে ছিল না। একবার উনার এক নিকট আত্মীয় উনার সাথে দেখা করতে আসে। তার মুখ থেকে মদের গন্ধ আসছিল। তিনি লোকটিকে শক্তভাবে ধমক দেন। তাকে তিনি বলে দেন: তুমি আর কখনও আমার নিকট আসবে না। (তাবাক্বাত, সিয়ারু আলামিন নুবালা)
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম তিনি নারী জাতীর আদর্শ ছিলেন। দ্বীন সংক্রান্ত বিষয়ে এবং আখলাকে ইছলাহী অর্জনের জন্য তিনি নারী সমাজকে সব সময় নছীহত করতেন। একবার এক মহিলা অসুস্থ অবস্থায় মান্নত করেন যে, যদি মহান আল্লাহ পাক উনাকে সুস্থ করেন, তবে তিনি পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস শরীফে গিয়ে নামায আদায় করবেন। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছায় তিনি সুস্থ হয়ে উঠেন। তখন তিনি মান্নত পূর্ণ করার জন্য বায়তুল মুকাদ্দাসে যাবেন, এ উদ্দেশ্যে তিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার নিকট বিদায় নিতে আসেন। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনাকে বুঝালেন যে, পবিত্র মসজিদে নববী শরীফে নামায আদায়ের ছাওয়াব অন্য যে কোন মসজিদের চেয়ে হাজার হাজার গুণ বেশী। সুতরাং তুমি সেখানে না গিয়ে এখানেই অবস্থান কর এবং পবিত্র মসজিদ নববী শরীফে নামায আদায় করলেই তোমার মান্নত পূর্ণ হবে। অতঃপর উক্ত মহিলা উনার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং উনার নছীহত অনুযায়ী কাজ করেন। সুবহানাল্লাহ! (তাবাক্বাত)
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার এক খাদেমা একবার হযরত ইবনে আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার বাড়ীতে গিয়ে দেখেন, উনাদের আহাল ও আহলিয়ার বিছানা বেশ দূরে দূরে। খাদেমা মনে করলেন সম্ভবত: উনাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়েছে। কিন্তু জিজ্ঞেস করে জানতে পারেন, তা নয়। বরং উনার আহলিয়ার মাসিক মারিদ্বী শানের সময় হযরত ইবনে আব্বাস আলাইহিস সালাম পৃথক বিছানায় চলে যান। খাদেমা ফিরে এসে সব কথা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনাকে জানিয়ে দেন। তিনি দাসীকে বললেন: যাও, তাকে গিয়ে বল, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নতের প্রতি এত উপেক্ষা কেন? তিনি তো সব সময়ই আমাদের বিছানায় আরাম করতেন, কখনও পৃথক বিছানায় অবস্থান করতেন না। সুবহানাল্লাহ! (আল-ইসাবা, কানযুল উম্মাল)
একবার হযরত ইবনে আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার খালা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাক্ষাত করতে আসেন। উনার মাথার চূল মুবারক ও দাঁড়ী মুবারক অবিন্যস্ত দেখে উনার খালা প্রশ্ন করেন: বেটা, তোমার এ অবস্থা কেন? সাইয়্যিদুনা হযরত ইবনে আব্বাস আলাইহিস সালাম বললেন: উম্মে আম্মারের (অর্থাৎ উনার আহলিয়ার) এখন মাসিক মারিদ্বী শান চলছে। তিনিই আমার কেশ পরিপাটি করে থাকেন। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম তিনি বললেন: বাহ! খুব ভালো! আমরা যখন সেরূপ অবস্থায় থাকতাম, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের কোলে উনার ছের মুবারক রেখে আরাম করতেন, পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতেন। সে অবস্থায় মাদুর উঠিয়ে আমরা মসজিদে নববী শরীফে রেখে আসতাম। বেটা! হাতে কি কিছু থাকে? (অর্থাৎ তোমার আহলিয়া উনার হাত দিয়ে তোমার কেশ পরিপাটি করতে বাধা কোথায়?) (মুসনাদ)
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত হাদীছ শরীফের সংখ্যা ৪৬, মতান্তরে ৭৬। বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ সহ অন্যান্য হাদীছ শরীফের কিতাবে সেগুলি সংকলিত হয়েছে। উনার বর্ণিত হাদীছ শরীফের মাধ্যমে শরীয়তের গুঢ়তত্ত্ব সম্পর্কে উনার গভীর জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়। অনেক বিখ্যাত ছাহাবী উনার নিকট হতে হাদীছ শরীফ শুনেছেন এবং বর্ণনা করেছেন। উনাদের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন: হযরত ইবনে আব্বাস আলাইহিস সালাম, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ ইবনুল হাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আবদুর রহমান ইবনুস সায়িব রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইয়াযীদ ইবনে আছাম্ম রহমতুল্লাহি আলাইহি (উনারা সবই উনার বোনের ছেলে)। হযরত উবায়দুল্লাহ আল-খাওলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত নাদবা রহমতুল্লাহি আলাইহা, হযরত আতা ইবনে ইয়াসার রহমতুল্লাহি আলাইহা, হযরত সুলায়মান ইবনে ইয়াসার রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং আরো অনেকে। সুবহানাল্লাহ! (সিয়ারু আলামিন নুবালা)।

মুহাদ্দিছে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের হিসাব মতে রাবীদের বর্ণনা অনুযায়ী উনার বর্ণিত হাদীছ শরীফ উনার সংখ্যা ৪৬ বা ৭৬ বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সকল উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ অনুসারী। কাজেই উনাদের কাজকর্ম, কথা-বার্তা, আচার ব্যবহার সবই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অন্তর্ভূক্ত। হিজরী ৭ম সন থেকে হিজরী ৫১ সনে উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত প্রায় ৪৪ বছর উম্মুল মু’মিনীন হিসাবে তিনি আম জনসাধারণের মধ্যে এবং খাছ ভাবে আম-মহিলাগণের মধ্যে তা’লীম তরবিয়তে ব্যাপৃত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

বিছাল শরীফ:
হিজরী ৫১ সনে যখন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফে হজ্জ পালন করতে গমন করেন। হজ্জ পালন শেষে তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। বিছালী শান মুবারক প্রকাশের তারিখটি ছিলেন পবিত্র মাহে যিলহজ্জ শরীফ উনার ১৯ তারিখ, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদুল আইয়াম শরীফ অর্থাৎ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ। তখন উনার বয়স মুবারক হয়েছিলেন ৯৪ বছর ৫ মাস ১৬ দিন। সুবহানাল্লাহ! (দৈনিক আল ইহসান শরীফ ৬-১০-১৪৩৯)।

হযরত ইয়াযীদ ইবনে আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন: বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়য়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম পবিত্র মক্কা শরীফে উনার মারিদ্বী শান মুবারক প্রকাশিত হয়। মারিদ্বী শান যখন খুব প্রকট হয়, তিনি বললেন: আমাকে তোমরা পবিত্র মক্কা শরীফ উনার বাইরে নিয়ে যাও, পবিত্র মক্কা শরীফে আমার বিছাল শরীফ হবে না। কেননা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেছেন: পবিত্র মক্কা শরীফে আমার বিছাল শরীফ হবে না। তখন লোকগণ উনাকে বহন করে সারফ নামক স্থানে সেই গাছটির নিকট নিয়ে যান, যেখানে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে একটি তাঁবুতে নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর উনার মুবারক খেদমতে তিনি তশরীফ মুবারক এনেছিলেন। অতঃপর ঐ স্থানটিতেই উনার বিছালী শান মুবারক হয়ে যায়। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশে এখানেই উনার দাফন মুবারক সুসম্পন্ন হয়। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার জানাযার নামায পড়ান (সীরতে ইবনে হিশাম, খাছায়েছুল কুবরা)।

যখন উনার পবিত্র জিসিম মুবারক খাটিয়ায় উঠানো হয়, তখন হযরত ইবনে আব্বাস আলাইহিস সালাম বললেন: সাবধান! ইনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা আহলিয়া। সমস্ত মু’মিনদের সম্মানিতা মাতা। খুব বেশী ঝাঁকি দিবেন না, খুব আদবের সাথে নিয়ে চলবেন। সুবহানাল্লাহ! (তাবাক্বাত)
(সূত্রসমূহ: দৈনিক আল-ইহসান শরীফ, উসুদুল গাবা, ইছাবা, তাবাকাত, সিয়ারু আলামিন নুবালা, আনসাবুল আশরাফ, আসাহহুস সিয়ার, সীরতে ইবনে হিশাম, মুসনাদ, কানযুল উম্মাল, খাছায়েছুল কুবরা)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে