সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক


 

সম্মানিত পরিচিতি মুবারক:
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আবনা তথা ছেলে আওলাদ আলাইহিমুস সালাম এবং মহাসম্মানিতা বানাত তথা মেয়ে আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন মোট আট (৮) জন। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার ধারাবাহিকক্রমে উনাদের সম্মানিত নাম মুবারক হচ্ছেন,
১. সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম,
২. সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম,
৩. সাইয়্যিদুনা হযরত ত্বইয়িব আলাইহিস সালাম,
৪. সাইয়্যিদুনা হযরত ত্বাহির আলাইহিস সালাম,
৫. সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুক্বইয়্যাহ আলাইহাস সালাম,
৬. সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম
৭. সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম এবং
৮. সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি শুধু উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারিয়াহ ক্বিবত্বিইয়্যাহ আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত বরতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। আর অন্যান্য সকল আবনা আলাইহিমুস সালাম এবং বানাত আলাইহিন্নাস সালাম উনারা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে দুনিয়ার যমীনে মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা বানাত (মেয়ে আওলাদ) আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে ‘ঊলা’ বা প্রথমা। সুবহানাল্লাহ! আর মহাসম্মানিত আবনা’ আলাইহিমুস সালাম এবং মহাসম্মানিতা বানাত আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে ‘ছানিয়াহ’ তথা দ্বিতীয়া। সুবহানাল্লাহ!
বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত ফযীলত মুবারক এক কথায়- তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিণী। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ :

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম উনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের প্রায় ১১ বছর পূর্বে ২১শে জুমাদাল উখরা শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ বা’দ ফজর মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী জিন্দেগী মুবারক অনুযায়ী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ২৯ বৎসর পার হয়ে ৩০ বৎসর চলতে ছিলেন। আর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক ছিলেন ৪৪ বছর। সুবহানাল্লাহ!
স্মরণীয় যে, দুনিয়ার কোনো কিতাবে উপরোক্ত বর্ণনাটি উল্লেখ নেই; বরং এটা মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার একখানা অভূতপূর্ব বেমেছাল সম্মানিত তাজদীদ মুবারক, যা উনার বেমেছাল শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ। সুবহানাল্লাহ! এর মাধ্যমেই প্রতিভাত হয় যে, মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার কত বেমেছাল আখাচ্ছুল খাছ তায়াল্লুক-নিসবত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত আক্বীক্বাহ মুবারক দেয়া এবং সম্মানিত নাম মুবারক রাখা:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত আওলাদ, লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সপ্তম দিনে উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত আক্বীক্বাহ মুবারক দেন এবং উনার সম্মানিত নাম মুবারক রাখেন ‘হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত লালন-পালন মুবারক:
আফদ্বলুন নিসা ওয়ান নাস বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি উনার সম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার সম্মানিতা মাতা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের সর্বাধিক সম্মানিত আদর-যতœ মুবারক-এ, সম্মানিত তত্ত্বাবধান মুবারক-এ লালিত-পালিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি উনার সম্মানিত পিতা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং সম্মানিতা মাতা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের যাবতীয় সমস্ত খুছূছিয়াত ও বৈশিষ্ট্য মুবারক উনার অধিকারিণী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত ইলম মুবারক:
মূলত, মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত প্রকার ইলম মুবারক হাদিয়া করেছেন। শুধু সম্মানিত ওহী মুবারক নাযিল হওয়া ব্যতীত সমস্ত প্রকার সম্মানিত ইলম মুবারক উনার অধিকারিণী ছিলেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! তাছাড়া তিনি উনার সম্মানিত পিতা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে এবং তিনি উনার সম্মানিতা মাতা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার কাছ থেকে সরাসরি সম্মানিত ইলাম মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত ছূরত মুবারক:
উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত ছূরত মুবারক ছিলেন অত্যন্ত সুন্দর, বেমেছাল বা তুলনাহীন। উনার মেছাল বা দৃষ্টান্ত তিনি নিজেই। সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের সকল গুণে গুণান্বিত। সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের মাক্বাম মুবারক-এ অনন্যা।” সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার হুবহু নকশা মুবারক।” সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত লেবাস মুবারক:
সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার লিবাস মুবারক সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ رَاَيْتُ عَلـٰى حَضْرَتْ زَيْنَبَ بِنْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَليْهِ وَسَلَّمَ قَمِيْصَ حَرِيْرٍ سِيَرَاءَ.
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (পর্দার হুকুম নাযিল হওয়ার পূর্বে) আমি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে অতি সুন্দর রেশমী পোশাক মুবারক, যা ছিলো ডোরাকাটা হালকা নকশাওয়ালা, পরিধান করা অবস্থায় দেখেছি।” সুবহানাল্লাহ! (নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, মুস্তাদরকে হাকিম)

সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক:
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّـمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُـطَـهِّـرَكُـمْ تَطْهِيْرًا.
অর্থ: “হে সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে। অর্থাৎ তিনি আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আহযাব শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ৩৩)
এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত আযীমুশ শান শাদী মুবারক:
সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ ইবনে রবী’ ইবনে আব্দিল উয্যা ইবনে আবদে শামস ইবনে আবদে মানাফ ইবনে কুছাই আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আপন বোন হালাহ বিনতে খুওয়াইলিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার সম্মানিত আওলাদ। অর্থাৎ তিনি হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার আপন খালাতো ভাই। সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নসবনামা মুবারক পিতা ও মাতা উনাদের উভয়ের দিক থেকে উপরে যেয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নসবনামা মুবারক উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি যাবতীয় উত্তম গুণাবলী মুবারক উনাদের অধিকারী ছিলেন এবং সম্মানিত মক্কা শরীফ-এ অত্যন্ত সৎ ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিত্ব মুবারক হিসেবে সকলের মাঝে পরিচিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশ পাওয়ার পূর্বে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার আযীমুশ শান শাদী মুবারক সম্পন্ন করেন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বানাত আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে সর্বপ্রথম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনারই আযীমুশ শান শাদী মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। তাহলে এই আযীমুশ শান শাদী মুবারক-এ নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনারা কত বেমেছাল খুশি মুবারক প্রকাশ করেছেন তা কুল কায়িনাত কল্পনাও করতে পারবে না। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত আযীমুশ শান শাদী মুবারক-এ সম্মানিত হাদিয়া মুবারক:
আযীমুশ শান শাদী মুবারক-এ সম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং সম্মানিতা মাতা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের পক্ষ থেকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে যে সকল সম্মানিত হাদিয়া মুবারক দেয়া হয়েছিলো, সে সকল সম্মানিত হাদিয়া মুবারক উনাদের মধ্যে ইয়ামেনের প্রসিদ্ধ আকীক পাথরের একখানা হার মুবারকও ছিলো। এই সম্মানিত হার মুবারকখানা হাদিয়া মুবারক করা হয়েছিলো উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পক্ষ থেকে। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ:
আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশ পাওয়ার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তা সর্বপ্রথম উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট প্রকাশ করেন। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনিই পুরুষ-মহিলা সকলের পূর্বে সর্বপ্রথম সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনার সাথে সাথে উনার মহাসম্মানিত বানাত আলাইহিন্নাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস তিনি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনারাও সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি অল্প সময়ের ব্যবধানে সংবাদ মুবারক পাওয়ার সাথে সাথে এসে সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনারাই পুরুষ-মহিলা সকলের মাঝে সর্বপ্রথম সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া:
সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন। এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَلْـحَارِثِ بْنِ الْـحَارِثِ الْغَامِدِىِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قُلْتُ لِاَبِـىْ مَا هٰذِهِ الْـجَمَاعَةُ قَالَ هٰؤُلَاءِ قَوْمُ ۨ اجْتَمَعُوْا عَلـٰى صَابِئٍ لَّـهُمْ قَالَ فَتَشَرَّفْنَا فَاِذَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو النَّاسَ اِلـٰى تَوْحِيْدِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَالْاِيْـمَانِ بِهٖ حَتَّى ارْتَفَعَ النَّهَارُ فَتَصَدَّعَ عَنْهُ النَّاسُ وَاَقْبَلَتِ امْرَاَةٌ قَدْ بَدَا نَـحْرُهَا تَبْكِىْ تَـحْمِلُ قَدَحًا وَّمِنْدِيْلًا فَنَاوَلَتْهُ مِنْهَا فَشَرِبَ وَتَوَضَّاَ ثُـمَّ رَفَعَ رَأْسَهٗ اِلَيْهَا فَقَالَ يَا بُنَيَّةُ خَـمِّرِىْ عَلَيْكِ نَـحْرَكِ وَلَا تَـخَافِـىْ عَلـٰى اَبِيْكِ غَلَبَةً وَّلَا ذُلًّا فَقُلْتُ مَنْ هٰذِهٖ قَالُوْا هٰذِهٖ حَضْرَتْ زَيْنَبُ عَلَيْهَا السَّلَامُ اِبْنَتُهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “হযরত হারিছ ইবনে হারিছ আল গ¦ামিদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন যে, একদা তিনি উনার পিতার সাথে সম্মানিত মক্কা শরীফ-এ গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একদল লোককে জড়ো হওয়া অবস্থায় দেখতে পেলেন। তখন তিনি উনার সম্মানিত পিতা উনাকে বলেন, হে আমার সম্মানিত পিতা, কি কারণে লোকেরা এখানে জড়ো হয়েছে, এটা কিসের জামায়াত? জবাবে উনার পিতা বলেলন, একজন ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি উনার সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক ও রিসালাত মুবারক প্রকাশ করেছেন। এই কারণে উনার সম্প্রদায়ের লোকজন উনার নিকট জমায়েত হয়েছে। তিনি বলেন, অতঃপর আমরা একটু উঁচু জায়গায় আরোহণ করে দেখতে পেলাম যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত তাওহীদ মুবারক ও সম্মানিত ঈমান মুবারক উনাদের দিকে আহ্বান মুবারক করছেন। জনতা সেখানে দুপুর পর্যন্ত ছিলো। (তারা উনাকে কষ্ট দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়েছিলো এবং বিভিন্নজন বিভিন্ন এলোমেলো কথাবার্তা বলতেছিলো।) এরপর লোকেরা চলে যেতে শুরু করলো। তখন একজন সম্মানিতা মহিলা তিনি কাঁদতে কাঁদতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য এক পাত্র পানি মুবারক ও একটি রুমাল মুবারক নিয়ে অতি দ্রুততার সাথে সেই দৃশ্যপটে উপস্থিত হলেন। তিনি সেখানে এতো বেকারার ও ব্যতিব্যস্ত অবস্থায় উপস্থিত হলেন যে, তিনি তখন নিজেকে যথাযথভাবে আবৃত করতে পারেননি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত পাত্র মুবারক থেকে পানি মুবারক পান করলেন এবং ওযূ মুবারক করলেন। (আর রুমাল মুবারকখানা দিয়ে সম্মানিত মুখম-ল মুবারক ও হাত মুবারক মুছলেন।) অতঃপর তিনি উনার মাথা মুবারক উনার দিকে উত্তোলন করে এ কথা মুবারক বললেন,
يَا بُنَيَّةُ خَـمِّرِىْ عَلَيْكِ نَـحْرَكِ وَلَا تَـخَافِـىْ عَلـٰى اَبِيْكِ غَلَبَةً وَّلَا ذُلًّا
“হে আমার সম্মানিতা আওলাদ আলাইহাস সালাম, আপনি আপনার চাদর মুবারক দিয়ে নিজেকে আবৃত করুন এবং আপনার পিতার জন্য এতো অধিক চিন্তা করা থেকে বিরত থাকুন।”
হযরত হারিছ গ¦ামিদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম। ইনি কে? লোকজন বললো, তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা আওলাদ, লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারনী ৩/৪৩৩, আল আহাদ ওয়াল মাছানী ৫/১৫৯, মাজমাউয যাওয়াইদ ৫/৪৩৬, জামিউল আহাদীছ ২৩/২১৩)

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল মুহব্বতপূর্ণ সম্পর্ক:

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনাদের মাঝে ছিলো বেনযীর মুহব্বতপূর্ণ সম্পর্ক। উনাদের সেই সম্মানিত সম্পর্ক মুবারক উনার গভীরতা প্রকাশ পায়- যখন কুরাইশরা সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনাকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলো তখন।
যখন কুরাইশরা অনুভব করলো যে, কোনো পরিকল্পনা করেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার দাওয়াত মুবারক থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না। তখন তারা নতুন পরিকল্পনা করলো। কুরাইশরা বলে উঠলো, তোমাদের সর্বনাশ হোক! তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে নিজেদের ছেলেদের বিবাহ করিয়ে উনার দুশ্চিন্তা নিজেদের ঘাড়ে তুলে নিয়েছো। নাঊযুবিল্লাহ! তোমরা যদি উনার বানাত আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের থেকে নিজেদের ছেলেদেরকে বিচ্ছন্ন করে নাও, তাহলে তিনি উনাদেরকে নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন। নাঊযুবিল্লাহ! তাদের মধ্যে অনেকে এ কথা সমর্থন করে বললো, এ তো চমৎকার যুক্তি। নাঊযুবিল্লাহ! তারা দল বেঁধে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার নিকট গিয়ে বললো, “আপনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান এবং উনাকে উনার পিতা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পৌঁছে দিন। উনার পরিবর্তে আপনি আপনার পছন্দমত কুরাইশদের যে কোনো সুন্দরী নারীকে বিবাহ করতে পারবেন।”
উল্লেখ্য, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার এবং উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাদের সাথে আবূ লাহাবের দুই পুত্র উতবা এবং উতাইবার আক্বদ মুবারক সম্পন্ন হয়েছিলো। যেহেতু তখন উনাদের বয়স মুবারক অল্প ছিলো, তাই উনারা তাদের ঘরে তাশরীফ মুবারক নেননি। একই প্রস্তাব আবূ লাহাবের দুই পুত্র উতবা এবং উতাইবার নিকটও দেয়া হয়েছিলো। তারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া থেকে মাহরূম হয়ে গিয়েছিলো। নাঊযুবিল্লাহ!
কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি দৃঢ়তার সাথে কুরাইশদের এ ধারণা বাতিল করে দিলেন। তিনি বললেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার কসম, তা হয় না। আমি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার থেকে কস্মিনকালেও বিচ্ছিন্ন হতে পারবো না। উনার পরিবর্তে সমস্ত মহিলা আমাকে দিয়ে দিলেও আমার পক্ষে তা কস্মিনকালেও সম্ভব হবে না।” সুবহানাল্লাহ!
সুতরাং এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল মুহব্বতপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জবান মুবারক-এ সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা:

সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি কুরাইশদের নিকট যেই জবাব দিয়েছেন তাতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুবই সন্তুষ্ট মুবারক হয়েছিলেন। যা তিনি পরবর্তীতে প্রকাশ করেছেন। যখন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি আবূ জেহেলের কন্যাকে শাদী মুবারক করতে চেয়েছিলেন, তা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট জানতে পেরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুতবা মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেছিলেন,
اَمَّا بَعْدُ اَنْكَحْتُ حَضْرَتْ اَبَا الْعَاصِ بْنَ الرَّبِيْعِ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَحَدَّثَنِـىْ وَصَدَقَنِـىْ وَاِنَّ حَضْرَتْ فَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ بِضْعَةٌ مِّنِّـىْ وَاِنِّـىْ اَكْرَهُ اَنْ يَّسُوْءَهَا وَاللهِ لَا تَـجْتَمِعُ بِنْتُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبِنْتُ عَدُوِّ اللهِ عِنْدَ رَجُلٍ وَّاحِدٍ فَتَرَكَ حَضْرَتْ عَلِىٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ الْـخِطْبَةَ.
অর্থ: “আমি আমার আওলাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম উনাকে হযরত আবুল আছ ইবনে রবী আলাইহিস সালাম উনার নিকট শাদী মুবারক দিয়েছিলাম। তিনি আমার সাথে প্রশংসনীয় আচরণ মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন সত্যবাদী এবং এমন একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক, যিনি উনার কথা মুবারক রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! নিশ্চয়ই সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি আমার সম্মানিত জিসম মুবারক উনার সম্মানিত গোশত মুবারক উনার একখানা টুকরো মুবারক। আমি উনার কষ্ট বরদাশত করতে পারি না। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আওলাদ আলাইহাস সালাম এবং উনার শত্রুর কন্যা একজনের নিকট থাকতে পারে না। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি এই সিদ্ধান্ত পরিত্যাগ করেন।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ ইত্যাদি)

সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার প্রেক্ষাপট:
দ্বিতীয় হিজরী শরীফ উনার সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ-এ সম্মানিত বদর জিহাদ মুবারক সংঘটিত হয়। সেই সম্মানিত জিহাদ মুবারক-এ এক হাজার কুরাইশ অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনিও ছিলেন। বস্তুত তিনি উনার অনিচ্ছা সত্ত্বেও কুরাইশদের পিড়াপিড়ির কারণে জিহাদে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি কস্মিনকালেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে বা সম্মানিত মুসলমান উনাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্য সেখানে উপস্থিত হননি। কারণ, তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার ন্যায় ভিতরে ভিতরে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তখনও তা প্রকাশ করেননি। যা হোক, যুদ্ধে কুরাইশরা পরাজিত হয়। তাদের ৭০ জন নিহত এবং ৭০ জন বা তার চেয়ে বেশি সংখ্যক লোক বন্দি হয়। এ সকল বন্দিদের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনিও ছিলেন। বন্দিদেরকে যখন সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ নিয়ে যাওয়া হলো, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নির্দেশ মুবারক দিলেন,
اِسْتَوْصُوْا بِالْاُسَارٰى خَيْرًا
অর্থ: ‘আপনারা বন্দিদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন।’
উনারা তা করেছিলেন। উনারা নিজেরা খেজুর খেতেন, কিন্তু বন্দিদের রুটি প্রদান করতেন। সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ অগণিত খেজুর গাছ ছিল। সুতরাং খেজুর ছিল সস্তা। কিন্তু গম ও যবের মতো খাদ্যশস্য অধিক মূল্যে খরিদ করতে হতো। তা সত্ত্বেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যথাযথভাবে পালন করেন ও অপরের জন্য ত্যাগের উদাহরণ প্রদর্শন করেন। সুবহানাল্লাহ!
যুদ্ধবন্দিদের হত্যা করা সে সময়ের রীতি ছিলো। এই জন্য সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত বদর জিহাদ মুবারক উনার যুদ্ধবন্দিদের হত্যা করার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে তাদের নিকট থেকে মুক্তিপণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত মুবারক গ্রহণ করেন। এক হাজার থেকে তিন বা চার হাজার দিরহাম প্রত্যেক বন্দি থেকে মুক্তিপণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিলো।
যখন মক্কাবাসীরা অবগত হলো বন্দিদের মুক্তিপণের মাধ্যমে মুক্ত করার সুযোগ রয়েছে, তারা অতিসত্বর সে সুযোগ গ্রহণ করলো। লোকেরা তাদের পরিবারের সদস্যদের মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থ দ্রুত সংগ্রহ করলো। যদিও সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি সম্পদশালী ছিলেন, কিন্তু সে সময় উনার নিকট মুক্তিপণের অর্থ ছিলো না। তাই তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার নিকট মুক্তিপণের ব্যবস্থা করার জন্য বার্তা মুবারক পাঠালেন। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত শাদী মুবারক উনার সময় উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার থেকে হাদিয়াস¦রূপ যে সম্মানিত হার মুবারকখানা পেয়েছিলেন, সেই সম্মানিত হার মুবারকখানা মুক্তিপণ হিসেবে দেয়ার সিদ্ধান্ত মুবারক গ্রহণ করলেন। মক্কাবাসীরা মুক্তিপণের অর্থ প্রদানের জন্য সম্মানিত মদীনা শরীফ গমন করলো। তাদের মাঝে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার দূত আমর ইবনে রবী’, যিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার আপন ভাই তিনিও ছিলেন। এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ لَمَّا بَعَثَ اَهْلُ مَكَّةَ فِـىْ فِدَاءِ اَسْرَاهُمْ بَعَثَتْ حَضْرَتْ زَيْنَبُ عَلَيْهَا السَّلَامُ فِـىْ فِدَاءِ اَبِـى الْعَاصِ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِـمَالٍ وَّبَعَثَتْ فِيْهِ بِقِلَادَةٍ لَّـهَا كَانَتْ عِنْدَ خَدِيْـجَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَدْخَلَـتْهَا بِـهَا عَلـٰى حَضْرَتْ اَبِـى الْعَاصِ عَلَيْهِ السَّلَامُ. قَالَتْ فَلَمَّا رَاٰهَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَقَّ لَـهَا رِقَّةً شَدِيْدَةً وَّقَالَ اِنْ رَاَيْتُمْ اَنْ تُطْلِقُوْا لَـهَا اَسِيْرَهَا وَتَرُدُّوْا عَلَيْهَا الَّذِىْ لَـهَا. فَقَالُوْا نَعَمْ. وَكَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَخَذَ عَلَيْهِ اَنْ يُّـخَلِّىَ سَبِيْلَ حَضْرَتْ زَيْنَبَ عَلَيْهَا السَّلَامُ اِلَيْهِ وَبَعَثَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وَرَجُلًا مِّنَ الْاَنْصَارِ فَقَالَ كُوْنَا بِبَطْنِ يَأْجِجَ حَتّٰى تَـمُرَّ بِكُمَا حَضْرَتْ زَيْنَبُ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَتَصْحَبَاهَا حَتّٰى تَاْتِيَا بِـهَا.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মক্কাবাসীরা মুক্তিপণের অর্থ প্রদানের জন্য সম্মানিত মদীনা শরীফ গমন করলো। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনিও সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার মুক্তি পণ দিয়ে উনার দূত (আমর ইবনে রবী’ উনাকে) প্রেরণ করলেন। মুক্তিপণ হিসেবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি উনার দূতকে কিছু মালসহ সেই সম্মানিত হার মুবারকখানাও দিয়ে প্রেরণ করেছিলেন, যেই সম্মানিত হার মুবারকখানা ছিলো উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার। সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক হওয়ার সময় উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উক্ত সম্মানিত হার মুবারকখানা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করেছিলেন। যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সেই সম্মানিত স্মৃতিবাহী হার মুবারকখানা দেখলেন, তখন তিনি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হলেন। তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে বললেন,
اِنْ رَاَيْتُمْ اَنْ تُطْلِقُوْا لَـهَا اَسِيْرَهَا وَتَرُدُّوْا عَلَيْهَا الَّذِىْ لَـهَا
‘যদি আপনারা যথাযথ মনে করেন, তাহলে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার বন্দি তথা সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনাকে মুক্ত করে দিন এবং উনার সম্মানিত হার মুবারকখানাও ফেরত দিন।’
তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আহুম উনারা বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি যা ইরশাদ মুবারক করেছেন, তাই হবে। অর্থাৎ উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনাকেও মুক্ত করে দিলেন এবং সেই সম্মানিত হার মুবারকখানাও ফেরত দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
অবশ্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনাকে শপথ মুবারক করালেন যে, তিনি সম্মানিত মক্কা শরীফ প্রত্যাবর্তন করার পর সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত মদীনা শরীফ পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত যায়িদ ইবনে হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে এবং একজন হযরত আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদেরকে পাঠালেন এবং উনাদেরকে বলে দিলেন, আপনারা দু’জন সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার অনতিদূরে ‘বাত্বনে ইয়া’জিজে’ অবস্থান করবেন। যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি সেখানে উপস্থিত হবেন, তখন সেখান থেকে আপনারা উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়ে উনাকে সম্মানিত মদীনা শরীফ নিয়ে আসবেন।” (আবূ দাঊদ, মুসনাদে আহমদ, আস সুনানুল কুবরা লিননাসাঈ, আল মু’জামুুল কাবীর, হাকিম, বাইহাক্বী, মিশকাত ইত্যাদি)

সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার স্মরণ মুবারক-এ ক্বাছীদা শরীফ পাঠ:
সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি বেমেছাল মুহব্বত মুবারক করতেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি যখন হিজরত মুবারক করে সম্মানিত মদীনা শরীফ তাশরীফ মুবারক রাখেন, তখন তিনি উনার জুদায়ীর কারণে অত্যন্ত দুঃখে-কষ্টে কালাতিপাত করতে থাকেন। একদা তিনি যখন সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার পাশ দিয়ে সিরিয়া যান, তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার স্মরণ মুবারক-এ একখানা ক্বাছীদা শরীফ পাঠ করেন এভাবে,
ذَكَرْتُ زَيْنَبَ عَلَيْهَا السَّلَامُ لَمَّا وَرَدْتُّ اَرَمَا…. فَقُلْتُ سَقْيًا لِّشَخْصٍ يَّسْكُنُ الْـحَرَمَا
بِنْتُ الْاَمِيْنِ جَزَاهَا اللهُ صَالِـحَةٌ …….وَّكُلُّ بَعْلٍ سَيُثْنِىْ بِالَّذِىْ عَلِمَا
অর্থ: “যখন আমি আরামা নামক স্থানে এসে পৌঁছি, তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে স্মরণ হয়। আমি বললাম, যিনি সম্মানিত হেরেম শরীফ বসবাস করছেন, আপনি উনাকে সজীব রাখুন, উনাকে পানি পান করিয়ে ধন্য করুন। অর্থাৎ উনার কাছ থেকে আমার পানি মুবারক পান করতে ইচ্ছা হলো। আল আমীন তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি উত্তম বদলা হাদিয়া করুন। তিনি ছিলেন একজন ছালিহা তথা পুণ্যবতী মহিলা। প্রত্যেক আহাল তথা স¦ামী উনার আহলিয়াহ সম্পর্কে যা ভালো জানেন তাই প্রশংসা মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম ৪/৪৪, আর রওদ্বুল উনফ ৩/১০৩, যখায়েরুল উক্ববা ১/১৬০, ‘উয়ূনুল আছার ২/৩৬৪, তারীখে দিমাশক্ব ৩/৪৫৪ ইত্যাদি)

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ-এ সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি:
ব্যবসা-বাণিজ্যের অভিজ্ঞতা এবং আমানতদারীর জন্য সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি বিখ্যাত ছিলেন। হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “অর্থ-বিত্ত, আমানতদারী ও ব্যবসায়ী হিসেবে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার গণ্যমান্য মুষ্টিমেয় ব্যক্তিবর্গ উনাদের অন্যতম ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ!
৬ষ্ঠ হিজরী শরীফ উনার জুমাদাল ঊলা মাসে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি কুরাইশদের ১৭০ উটের একটি বাণিজ্য কাফিলা নিয়ে সিরিয়া যান। বাণিজ্য শেষে সম্মানিত মক্কা শরীফ প্রত্যাবর্তনকালে পথে কাফিলাটি যখন সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছে, তখন এই সংবাদ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ পেশ করা হয়। তিনি ১৭০ জন সদস্যের একটি বাহিনীসহ হযরত যায়িদ ইবনে হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে তাদের পশ্চাদগমনের জন্য প্রেরণ করেন। ঈশ নামক স্থানে উভয় কাফিলা মুখোমুখি হন। মুসলিম বাহিনী কুরাইশ কাফিলার বাণিজ্য সম্ভারসহ সকল লোককে বন্দি করেন। কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার কোনো ক্ষতি করা হয়নি।
সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি কাফিলার এই পরিণতি দেখে সম্মানিত মদীনা শরীফ চলে যান এবং সেখানে পৌঁছে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার নিকট নিরাপত্তা মুবারক ত্বলব করেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনাকে নিরাপত্তা মুবারক দিলেন। অন্য কেউ কিছু জানলেন না।
ভোরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদে নববী শরীফ-এ ফজর নামাযে দাঁড়ালেন। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি বুলন্দ আওয়াজ মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করলেন,
اَيُّهَا النَّاسُ اِنّـِــىْ قَدْ اَجَرْتُ حَضْرَتْ اَبَا الْعَاصِ بْنَ الرَّبِيْعِ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَلَمَّا سَلَّمَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ صَلَاتِهٖ قَالَ اَيُّهَا النَّاسُ هَلْ سَـمِعْتُمْ مَّا سَـمِعْتُ. قَالُوْا نَعَمْ. قَالَ اَمَا وَالَّذِىْ نَفْسُ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهٖ مَا عَلِمْتُ بِشَىْءٍ مِّـمَّا كَانَ حَتّٰى سَـمِعْتُ مِنْهُ مَا سَـمِعْتُمْ اِنَّهٗ يـُجِيْرُ عَلَى الْمُسْلِمِيْنَ اَدْنَاهُمْ. ثُـمَّ دَخَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلـٰى حَضْرَتْ زَيْنَبَ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَقَالَ اَىْ بُنَيَّةُ اَكْرِمِىْ مَثْوَاهُ.
অর্থ: “হে লোক সকল, আমি হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনাকে নিরাপত্তা মুবারক দিয়েছি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন সম্মানিত নামায মুবারক শেষ করলেন, তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করলেন, আমি যা শুনেছি, আপনারাও কি তা শুনেছেন? উনারা সমস¦রে বললেন, জী হ্যাঁ, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমরা তা শুনেছি। তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, যাঁর কুদরতী হাত মুবারক-এ আমার সম্মানিত প্রাণ মুবারক উনার কসম, এ বিষয়টি আগে আমাকে জানানো হয়নি।
আমি আপনাদের মতোই এই মাত্র তা শুনলাম। নিশ্চয়ই একজন সাধারণ মুসলমানেরও অধিকার রয়েছে এরূপ নিরাপত্তা প্রদান করার। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ তাশরীফ মুবারক রাখলেন। অতঃপর তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে আমার সম্মানিতা আওলাদ আলাইহাস সালাম, আপনি সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সম্মানজনক ব্যবহার মুবারক করুন।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম ৪/৪৫, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ৯/৯৫, মু’জামুল কাবীর ১৬/২৮২, সিরাতুল হালবীয়া ৩/১৭৬, ইবনে হিশাম ৩/২০৯, যখায়েরুল উক্ববাহ ১/১৫৯ ইত্যাদি)
সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আরজি মুবারক পেশ করলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার আটককৃত বাণিজ্য পণ্য, মাল-সম্পদ ফেরত দেয়ার জন্য।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সরাসরি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নির্দেশ মুবারক দিতে পারতেন এবং কেউ তা অস¦ীকার করতেন না। কিন্তু তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে বললেন,
اِنَّ هٰذَا الرَّجُلَ مِنَّا حَيْثُ قَدْ عَلِمْتُمْ وَقَدْ اَصَبْتُمْ لَهٗ مَالًا فَاِنْ تُـحْسِنُوْا وَتَرُدُّوْا عَلَيْهِ الَّذِىْ لَهٗ فَاِنَّا نُـحِبُّ ذٰلِكَ وَاِنْ اَبَيْتُمْ فَهُوَ فَـىْءُ اللهِ الَّذِىْ اَفَاءَ عَلَيْكُمْ فَأَنْتُمْ اَحَقُّ بِهٖ
অর্থ: “আমার মধ্যে এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার মধ্যে যে সম্পর্ক মুবারক সেটা আপনাদের জানা রয়েছে। আপনারা উনার বাণিজ্য সম্ভার, মাল-সম্পদ আটক করেছেন। আপনারা যদি ভালো মনে করেন, তাহলে উনার যা আটক করেছেন, তা উনাকে ফেরত দেন। এটা আমাদের নিকট খুবই পছন্দনীয় হবে এবং এতে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট হবো। আর আপনারা রাজি না হলে তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহ হিসেবে সেটা আপনারা ভোগ করতে পারেন। আপনারাই সেই মালের অধিক হক্বদার।” তখন উনারা সমস¦রে বললেন,
يَا رَسُوْلَ اللهِ بَلْ نَرُدُّهٗ عَلَيْهِ
“ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বরং অবশ্যই আমরা উনার সমস্ত মাল-সম্পদ ফেরত দিবো।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম ৩/২৬২, আল মু’জামুল কাবীর ১৬/২৮৮, সীরতে হালবীয়া ৩/১৭৬, ইবনে হিশাম ৩/২০৯, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ৬/৮৩ ইত্যাদি)
অতঃপর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার সমস্ত মাল-সম্পদ ফেরত দিলেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ এবং সম্মানিত মদীনা শরীফ হিজরত মুবারক:

এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
ثُـمَّ احْتَمَلَ اِلـٰى مَكَّةَ فَاَدّٰى اِلـٰى كُلِّ ذِىْ مَالٍ مِّنْ قُرَيْشٍ مَّالَهٗ مِـمَّنْ كَانَ اَبْضَعَ مِنْهُ ثُـمَّ قَالَ يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ هَلْ بَقِىَ لِاَحَدٍ مِّنْكُمْ عِنْدِىْ مَالٌ لَّـمْ يَأْخُذْهُ قَالُوْا لَا فَجَزَاكَ اللهُ خَيْرًا فَقَدْ وَجَدْنَاكَ وَفِيًّا كَرِيـْمًا قَالَ فَاِنّـِـــىْ اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُـحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَمَا وَاللهِ مَا مَنَعَنِـىْ مِنَ الْاِسْلَامِ عِنْدَهٗ اِلَّا تَـخَوُّفًا اَنْ تَظُنُّوْا اَنِّـىْ اِنَّـمَا اَرَدْتُّ اَخْذَ اَمْوَالِكُمْ فَلَمَّا اَدَّاهَا اللهُ عَزَّ وَجَلَّ اِلَيْكُمْ وَفَرَغْتُ مِنْهَا اَسْلَمْتُ ثُـمَّ خَرَجَ حَتّٰى قَدِمَ عَلـٰى رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম (উনাকে উনার বাণিজ্য সম্ভার, মাল-সম্পদ ফেরত দেওয়া হলে,) তিনি উনার সমস্ত ধন-সম্পদ নিয়ে সম্মানিত মক্কা শরীফ ফিরে গেলেন। তিনি সেখানে যেয়ে কুরাইশদের প্রত্যেকের মাল-সম্পদ বুঝিয়ে দিলেন। এরপর তিনি কুরাইশদেরকে লক্ষ্য করে বলেন, হে কুরাইশ সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে আমার নিকট সম্পদ পাবে, অথচ সে তা গ্রহণ করেনি? তারা সমস¦রে বললো যে- না, এমন কেউ নেই। মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আপনি একজন ওয়াদা পূরণকারী এবং সম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক। সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি তখন বললেন, তোমরা শুনে রাখো, আমি এখন সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করলাম। এই বলে, তিনি উনার সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করে পাঠ করলেন,
فَاِنّـِـــىْ اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُـحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি তাছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার আবদ তথা হাবীব এবং রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’ সুবহানাল্লাহ!
এরপর তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত হওয়ার পর সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ থেকে একটি মাত্র বিষয় আমাকে নিবৃত্ত রেখেছে। আর তা হচ্ছে, তখন আমি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করলে তোমরা বলতে যে, তোমাদের মাল-সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য আমি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছি। এখন মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে এ বিষয় থেকে উত্তমভাবে মুক্ত করেছেন। তোমাদের সমস্ত পাওনা আমি বুঝিয়ে দিয়েছি। তাই এখন আমি প্রকাশ্যে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করছি।
অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি সেখান থেকে বের হয়ে সম্মানিত হিজরত মুবারক করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত হন।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম শরীফ)
সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট বায়াত গ্রহণ করেন এবং প্রকাশ্যে ঈমান আনেন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা তা দেখে তাকবীর মুবারক দেন এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার অনেক প্রশংসা মুবারক করেন, ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন, খুশি মুবারক প্রকাশ করেন এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার অনেক ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর স¦য়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনাকে নিয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ মুবারক-এ যান এবং উনার সাথে অবস্থান মুবারক করার অনুমতি মুবারক প্রদান করেন। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, পূর্বের নিকাহ মুবারকই বহাল ছিলো। নতুন করে আর নিকাহ মুবারক পড়ানো হয়নি। এটাই সর্বাধিক বিশুদ্ধ এবং একমাত্র গ্রহণযোগ্য অভিমত। কেননা সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি পূর্ব থেকেই ঈমানদার ছিলেন। তবে ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছেন পরে। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শ্রেষ্ঠতম সম্মানিত বানাত আলাইহাস সালাম:

সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ حَضْرَتْ زَيْنَبُ عَلَيْهَا السَّلَامُ خَيْرُ بَنَاتِـىْ اُصِيْبَتْ فِـىَّ.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি আমার শ্রেষ্ঠ বানাত (মেয়ে)। আমাকে মুহব্বত করার কারণে উনাকে অনেক কষ্টবরণ করতে হয়েছে।” (আল মু’জামুল কাবীর ১৬/২৯০, আল মু’জামুল আওসাত্ব ৫/৮০, মা’রিফাতুছ ছাহাবা লি আবী নাঈম ২২/২২২, মাজমাউয যাওয়াদি ৯/৩৪১ ইত্যাদি)
মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:
সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি প্রকাশ্যে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করার পর বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি প্রায় দেড় বছর দুনিয়ার যমীনে অবস্থান মুবারক করেন। উনার সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি যখন সম্মানিত মক্কা শরীফ থেকে সম্মানিত মদীনা শরীফ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট হাজির হওয়ার জন্য রওয়ানা হন। পথিমধ্যে উনার উপর হামলা চালালে তিনি উটের পিঠ থেকে পড়ে যান। তিনি তখন হামেলা শান মুবারক-এ ছিলেন। আঘাতের কারণে উনার একজন সম্মানিত আওলাদ তিনি সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায় দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন এবং উনার অনেক ‘নূরুন নাজাত মুবারক’ (রক্ত) মুবারক প্রবাহিত হন। এর ফলে তিনি দীর্ঘ দিন মারিদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করেন এবং এই মারিদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায়ই ৮ম হিজরী সনের ৮ই মুহাররমুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম ইশরাকের ওয়াক্তে সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
এই কারণে সীরত বিশারদগণ উনাদের কেউ কেউ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সম্মানিত মাক্বাম মুবারক উনাকে সম্মানিত করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত গোসল মুবারক:
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত সাওদা আলাইহাস সালাম তিনি, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে সালামা আলাইহাস সালাম তিনি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে আয়মন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে আতিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনারা সকলেই সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত গোসল মুবারক-এ শরীক ছিলেন। হযরত উম্মে আতিয়্যাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত গোসল মুবারক-এ সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার সম্মানিত আনজাম মুবারক দিয়েছিলাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স¦য়ং নিজে সম্মানিত গোসল মুবারক উনার নিয়ম মুবারক বলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রথমে তিন বা পাঁচবার প্রত্যেক সম্মানিত অঙ্গ মুবারক ধৌত করবেন । অতঃপর কর্পূর মুবারক লাগাবেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত কাফন মুবারক-এ সম্মানিত বরকতময় চাদর মুবারক প্রদান:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মে আতিয়্যাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে বলেন যে, সম্মানিত গোসল মুবারক সম্পন্ন করে আমাকে জানাবেন। গোসল মুবারক শেষে উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ জানানো হলে তিনি উনার একখানা সম্মানিত চাদর মুবারক দেন এবং বলেন, এটা সম্মানিত কাফন মুবারক উনার সাথে পরিধান করাবেন। সুবহানাল্লাহ!
অতঃপর সম্মানিত কাফন মুবারক সম্পন্ন করা হয়।

সম্মানিত জানাযা উনার নামায এবং সম্মানিত রওযা শরীফ-এ রাখা:

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স¦য়ং নিজে সম্মানিত জানাযা উনার নামায মুবারক পড়ান এবং তিনি নিজে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রওযা শরীফ মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করে উনার লখতে জিগার উনাকে সম্মানিত রওযা শরীফ মুবারক-এ রাখেন। সুবহানাল্লাহ! তখন উনার সম্মানিত চেহারা মুবারক-এ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত জুদায়ী মুবারক উনার কারণে শোকের চিহ্ন মুবারক ভেসে উঠেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত জুদায়ী মুবারক উনার কারণে অনেক সম্মানিত নূরুল মুহব্বত মুবারক প্রবাহিত করেন এবং উনার জন্য সম্মানিত দোয়া মুবারক করেন, “আয় বারে ইলাহী মহান আল্লাহ পাক! আপনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মুশকিল আসান করুন, কষ্ট দূর করুন, উনার সম্মানিত রওযা শরীফ উনার সংকীর্ণতা প্রশস্ত করুন।”
তিনি ৩০ বছর ৬ মাস ১৭ দিন দুনিয়ার যমীনে অবস্থান মুবারক করেন। হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে তিনিই সর্বাধিক সময় দুনিয়ার যমীনে অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে