সাইয়্যিদাতু নিসায়িল ‘আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম


সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মোট তিন জন সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ছিলেন। উনাদের মধ্যে একজন সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ অবস্থায় সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছিলেন। আর বাকী দুই জন সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমাস সালাম উনারা হচ্ছেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামা আলাইহাস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আলী ইবনে আবিল আছ আলাইহিস সালাম।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সিবত-সিবত্বহ (নাতী-নাতনী) আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম তিনিই সর্বপ্রথম দুনিয়ার যমীনে মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশে কত বেমেছাল খুশি মুবারক প্রকাশ করেছেন, তা এখান থেকেই সুস্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! মূলত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রিয়পাত্র উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম তিনি অন্যতম। সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ قَتَادَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُـصَـلِّـىْ وَهُوَ حَامِلٌ حَضْرَتْ اُمَامَةَ بِنْتَ زَيْنَبَ بِنْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاِذَا سَجَدَ وَضَعَهَا وَاِذَا قَامَ حَـمَلَهَا.
অর্থ: “হযরত আবূ ক্বাতাদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা বানাত সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মেয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনাকে কাঁধ মুবারক-এ নিয়ে নামায আদায় করতেন। যখন তিনি সিজদা মুবারক করতেন, তখন উনাকে পাশে রেখে দিতেন। আবার যখন ক্বিয়াম করতেন, তখন পুনরায় কোল মুবারক-এ তুলে নিতেন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী, মুসলিম, মুয়াত্তা, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, মুসনাদে আহমদ ইত্যাদি)
অপর সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ قَتَادَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ بَيْنَا نَـحْنُ فِى الْمَسْجِدِ جُلُوْسٌ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـحْمِلُ حَضْرَتْ اُمَامَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ بِنْتَ اَبِـى الْعَاصِ بْنِ الرَّبِيْعِ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَاُمُّهَا حَضْرَتْ زَيْنَبُ بِنْتُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِىَ صَبِيَّةٌ يَّـحْمِلُهَا عَلـٰى عَاتِقِهٖ فَصَلّٰى رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِىَ عَلـٰى عَاتِقِهٖ يَضَعُهَا اِذَا رَكَعَ وَيُعِيْدُهَا اِذَا قَامَ حَتّٰى قَضٰى صَلَاتَهٗ يَفْعَلُ ذٰلِكَ بـِهَا.
অর্থ: “হযরত আবূ ক্বাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা মসজিদে নববী শরীফ-এ উপস্থিত থাকাকালে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ বিনতে আবিল আছ ইবনে রবী’ আলাইহাস সালাম উনাকে নিয়ে আমাদের নিকট সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন, উনার সম্মানিতা আম্মাজান ছিলেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! এ সময় (সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম) তিনি ছোট ছিলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে সম্মানিত কাঁধ মুবারক-এ নিয়ে আসেন এবং উনাকে সম্মানিত কাঁধ মুবারক-এ নিয়েই সম্মানিত নামায মুবারক আদায় করেন। তিনি যখন রুকু মুবারক করতেন, তখন উনাকে পাশে রাখতেন। আর যখন ক্বিয়াম মুবারক করতেন (দাঁড়াতেন), তখন কোল মুবারকে তুলে নিতেন। এভাবেই তিনি উনার সম্মানিত নামায মুবারক শেষ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম, আবূ দাঊদ, নাসাঈ, মুসনাদে আহমদ, ইবনে হিব্বান, শু‘য়াবুল ঈমান ইত্যাদি)
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اُهْدِيَتْ لَهٗ هَدِيَّةٌ فِيْهَا قِلَادَةٌ مِّنْ جَزْعٍ فَقَالَ لَاَدْفَعَنَّهَا اِلـٰى اَحَبِّ اَهْلِـىْ اِلَـىَّ فَقَالَتِ النِّـسَاءُ ذَهَبَتْ بـِهَا ابْنَةُ اَبِـىْ قُحَافَةَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَدَعَا النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَضْرَتْ اُمَامَةَ بِنْتَ زَيْنَبَ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ فَعَلَّقَهَا فِـىْ عُنُقِهَا.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আকীকজাতীয় বিশেষমণি দ্বারা তৈরি একখানা সম্মানিত দামি হার মুবারক হাদিয়া স¦রূপ আসলো। তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, অবশ্য অবশ্যই আমি এই সম্মানিত হার মুবারক আমার সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ উনাদের মধ্যে যিনি আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয়পাত্র উনাকে হাদিয়া করবো। সুবহানাল্লাহ! তখন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বলাবলি করছিলেন, সম্ভবত এই সম্মানিত হার মুবারক উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনাকে হাদিয়া করা হবে। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিতা মেয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনাকে ডেকে উনার সম্মানিত গলা মুবারক-এ এই সম্মানিত হার মুবারকখানা পরিয়ে দিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ ৬/১০১, আল ওয়াফী ৩/২৯৬, গয়াতুল মাক্বছাদ ৪/৭, যখায়েরুল ‘উক্ববাহ ১/১৬১, ইছাবাহ ৮/২৫, মুসনাদে আবী ইয়া’লা ৭/৪৪৫ ইত্যাদি )
অন্য বর্ণনায় এসেছে,
عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ اُهْدِىَ لِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قِلَادَةٌ مِّنْ جَزْعٍ مُّلَمَّعَةٌ بِالذَّهَبِ وَنِسَاؤُهٗ مُـجْتَمِعَاتٌ فِـىْ بَيْتٍ كُلُّهُنَّ وَحَضْرَتْ اُمَامَةُ بِنْتُ اَبِـى الْعَاصِ بْنِ الرَّبِيْعِ عَلَيْهَا السَّلَامُ جَارِيَةٌ تَلْعَبُ فِـىْ جَانِبِ الْبَيْتِ بِالتُّرَابِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ تَرَيْنَ هٰذِهٖ. فَنَظَرْنَا اِلَيْهَا فَقُلْنَا يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا رَاَيْنَا اَحْسَنَ مِنْ هٰذِهٖ قَطُّ وَلَا اَعْجَبَ. فَقَالَ ارْدُدْنَهَا اِلَـىَّ. فَلَمَّا اَخَذَهَا قَالَ وَاللهِ لَاَضَعَنَّهَا فِـىْ رَقَبَةِ اَحَبِّ اَهْلِ الْبَيْتِ اِلَـىَّ. قَالَتْ حَضْرَتْ عَائِشَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَاَظْلَمَتْ عَلَـىَّ الْاَرْضُ بَيْنِـىْ وَبَيْنَهٗ خَشْيَةَ اَنْ يَّضَعَهَا فِـىْ رَقَبَةِ غَيْرِىْ مِنْهُنَّ وَلَا اَرَاهُنَّ اِلَّا اَصَابَهُنَّ مِثْلَ الَّذِىْ اَصَابَنِـىْ وَوَجَـمْنَا جَـمِيْعًا سُكُوْتًا فَاَقْبَلَ بِـهَا حَتّٰى وَضَعَهَا فِـىْ رَقَبَةِ اُمَامَةَ بِنْتِ اَبِـى الْعَاصِ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَسُرِّىَ عَنَّا.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আকীকজাতীয় বিশেষমণি দ্বারা তৈরী, যা স¦র্ণ মিশ্রিত বা স¦র্ণ দ্বারা আবৃত এরূপ একখানা দামি সম্মানিত হার মুবারক হাদিয়া মুবারক এসেছিলো। তখন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সকলেই সম্মানিত হুজরা শরীফ-এ অবস্থান মুবারক করছিলেন। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ বিনতে আবিল আছ ইবনে রবী’ আলাইহাস সালাম উনার অল্প বয়স মুবারক ছিলো। ফলে তিনি সম্মানিত হুজরা শরীফ উনার পার্শ্বে মাটি নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবাইকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনারা উনাকে কিরূপ দেখছেন? তারপর আমরা সকলেই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনার দিকে তাকালাম এবং বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমরা উনার মতো এরূপ অবাক করা অধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারিণী দ্বিতীয় আর কাউকে কখনও দেখিনি। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনারা উনাকে আমার নিকট নিয়ে আসুন। তারপর তিনি হার মুবারকখানা নিয়ে বললেন, নিশ্চয়ই যিনি আমার আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয়, উনার সম্মানিত গলা মুবারক-এ আমি এই সম্মানিত হার মুবারকখানা পরিয়ে দিবো। সুবহানাল্লাহ! উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, অতঃপর আমার উপর যমীন অন্ধকারাচ্ছন্ন হলো, আমার এবং উনার মাঝে, এই ভয়ে যে, তিনি আমি ব্যতিত অন্য কোনো উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম উনার গলা মুবারক-এ এই সম্মানিত হার মুবারকখানা পরিয়ে দেন কি না। আমি দেখলাম যে, আমার যা আপতিত হয়েছে, অন্য সকল হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরও উপর তা আপতিত হয়েছে। আমরা প্রত্যেকেই পরিপূর্ণরূপে নিশ্চুপ হয়ে গেলাম। অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত হার মুবারকখানা এনে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনার গলা মুবারক-এ পরিয়ে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর আমরা প্রত্যেকেই আনন্দিত হলাম, খুশি মুবারক প্রকাশ করলাম ।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারনী ২২/৪৪২, মাজমাউয যাওয়াইদ ৯/২৫৪, সিমতুন নুজূম ১/২১৪, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৩২)

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক
সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিলো। সাইয়্যিদুনা হযরত যুবাইর ইবনে ‘আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল ‘আছ আলাইহিস সালাম উনার মামাতো ভাই। ফলে তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বে সাইয়্যিদুনা হযরত যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনার অভিভাবক মনোনীত করে যান। সুবহানাল্লাহ!
কিতাব-এ বর্ণিত রয়েছে,
وَلَـمَّا كَبُرَتْ حَضْرَتْ اُمَامَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ تَزَوَّجَهَا عَلِىُّ بْنُ اَبِـىْ طَالِبٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ بَعْدَ مَوْتِ فَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَكَانَتْ حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَصَّتْ حَضْرَتْ عَلِيًّا عَلَيْهِ السَّلَامُ اَنْ يَّـتَزَوَّجَهَا فَلَمَّا تُـوُفِّـيَتْ حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ تَزَوَّجَهَا.
অর্থ: “আর যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম তিনি বড় হন, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করেন। আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত ওছীয়ত মুবারক করেছিলেন যে, উনার সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি যেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করেন। তাই সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (উসদুল গবাহ ৬/২২)
আর এই সম্মানিত শাদী মুবারক উনার বিষয়টি ফায়ছালা করেন সাইয়্যিদুনা হযরত যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি। সুবহানাল্লাহ!
অপর দিকে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করার পর সাইয়্যিদুনা হযরত মুগীরা ইবনে নাওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করেন। এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
فَلَمَّا تُوُفِّـىَ حَضْرَتْ عَلِـىٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَقَضَتِ الْعِدَّةَ تَزَوَّجَهَا الْـمُغِيْرَةُ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ فَوَلَدَتْ لَهٗ حَضْرَتْ يَـحْيٰـى عَلَيْهِ السَّلَامُ وَبِهٖ كَانَ يُكَنّٰى فَهَلَكَتْ عِنْدَ الْـمُغِيْرَةِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ.
অর্থ: “অতঃপর যখন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত ইদ্দত মুবারক পূর্ণ করেন, তখন হযরত মুগীরা ইবনে নাওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করেন। (কেউ কেউ বলেছেন,) হযরত মুগীরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হুজরা শরীফ মুবারক-এ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনার হযরত ইয়াহইয়াহ আলাইহিস সালাম নামে একজন সম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার সম্মানিত নাম মুবারক অনুযায়ী হযরত মুগীরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক গ্রহণ করেছিলেন। (তিনি অল্প বয়সে সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।) অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত মুগীরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ থাকা অবস্থায় সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” (উসদুল গবাহ ৬/২২)
আবার কেউ কেউ বলেছেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনার কোনো সম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেননি।

সাইয়্যিদুনা হযরত আলী ইবনে আবিল আছ আলাইহিস সালাম

সাইয়্যিদুনা হযরত আলী ইবনে আবিল আছ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনার ছোট ভাই। সাইয়্যিদুনা হযরত আলী ইবনে আবিল আছ আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনার ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল মুহব্বত, আদর, স্নেহ মুবারক পেয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি উনার সম্মানিত নানাজান সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত তত্ত্বাবধান মুবারক-এ বেড়ে উঠেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত আলী ইবনে আবিল আছ আলাইহিস সালাম তিনি যখন বণী গদ্বিরাহ গোত্রে দুধ মুবারক পানরত ছিলেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আলী ইবনে আবিল আছ আলাইহিস সালাম উনাকে দেখতে সেখানে গেলেন এবং উনাকে কোল মুবারক-এ নিয়ে বুকে জড়িয়ে নিলেন। তারপর তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন,
مَنْ شَارَكَنِـىْ فِـىْ شَىْءٍ فَاَنَا اَحَقُّ بِهٖ
অর্থ: “অন্য সবার থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত আলী ইবনে আবিল আছ আলাইহিস সালাম উনার উপর আমার অধিকতর হক্ব রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে যে,
وَكَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَرْدَفَهٗ عَلـٰى رَاحِلَتِهٖ وَفِىْ رِوَايَةٍ اُخْرٰى نَاقَتِهٖ يَوْمَ الْفَتْحِ
অর্থ: “সম্মানিত মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আলী ইবনে আবিল আছ আলাইহিস সালাম উনাকে উনার সম্মানিত বাহন মুবারক উনার পিছনে অপর বর্ণনায় রয়েছে উনার উট মুবারক উনার পিছনে আরোহণ করিয়েছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (ত্ববারনী, মা’রেফাতুছ ছাহাবাহ, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, উসদুল গবাহ ইত্যাদি)
কেউ কেউ বলেছেন সাইয়্যিদুনা হযরত আলী ইবনে আবিল আছ আলাইহিস সালাম তিনি وَقَدْ نَاهَزَ الـْحُلُمَ সাবালকত্ব মুবারক-এ উপনীত হয়েছিলেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়ার যমীনে অবস্থানকালীন সময়ে বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ বলেন তিনি ইয়ারমুক জিহাদে শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

 

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে