সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত মুহব্বত মুবারক করার এবং উনার সম্মানিত নিসবত মুবারক হাছিল করার বেমেছাল ফযীলত


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَتَحْسَبُهُمْ أَيْقَاظًا وَّهُمْ رُقُوْدٌ وَّنُقَلِّبُهُمْ ذَاتَ الْيَمِيْنِ وَذَاتَ الشِّمَالِ وَكَلْبُهُمْ بَاسِطٌ ذِرَاعَيْهِ بِالْوَصِيْدِ لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَيْهِمْ لَوَلَّيْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا وَّلَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا.
অর্থ: “(হে আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মতদেরকে বলে দিন,) তোমরা মনে করবেতারা জাগ্রত, অথচ তারা নিদ্রিত। আমি তাদেরকে পার্শ্ব পরিবর্তন করাই ডান দিকে ও বাম দিকে। তাদের কুকুরটি সামনের পা দুটি গুহাদ্বারে প্রসারিত করে রয়েছে। যদি তোমরা উঁকি দিয়ে তাদেরকে দেখতে, তবে পেছনে ফিরে পলায়ন করতে এবং তাদের ভয়ে আতঙ্ক গ্রস্ত হয়ে পড়তে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা কাহ্ফ শরীফ, সম্মানিত আয়াত শরীফ ১৮)
এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে ‘তাফসীরে কুরতুবী শরীফ উনার ১০ম খ-ের ৩৭১-৩৭২ পৃষ্ঠায়’ উল্লেখ রয়েছে,
قَالَ ابْنُ عَطِيَّةَ وَحَدَّثَنِىْ اَبِىْ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ سَـمِعْتُ اَبَا الْفَضْلِ الْـجَوْهَرِىَّ فِىْ جَامِعِ مِصْرَ يَقُوْلُ عَلٰى مِنْبَرِ وَعْظِهٖ سَنَةَ تِسْعٍ وَّسِتِّيْنَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ اِنَّ مَنْ اَحَبَّ اَهْلَ الْـخَيْرِ نَالَ مِنْ بَرَكَتِهِمْ كَلْبٌ اَحَبَّ اَهْلَ فَضْلٍ وَّصَحِبَهُمْ فَذَكَرَهُ اللهُ فِىْ مُـحْكَمِ تَنْزِيْلِهٖ. قُلْتُ اِذْ كَانَ بَعْضُ الْكِلَابِ قَدْ نَالَ هٰذِهِ الدَّرَجَةَ الْعُلْيَا بِصُحْبَتِهٖ وَمُخَالَطَتِهِ الصُّلَحَاءَ وَالْاَوْلِيَاءَ حَتّٰى اَخْبَرَ اللهُ تَعَالٰى بِذٰلِكَ فِىْ كِتَابِهٖ جَلَّ وَعَلَا فَمَا ظَنُّكَ بِالْـمُؤْمِنِيْنَ الْـمُوَحِّدِيْنَ الْـمُخَالِطِيْنَ الْمُحِبِّيْنَ لِلْاَوْلِيَاءِ وَالصَّالِـحِيْنَ بَلْ فِىْ هٰذَا تَسْلِيَةٌ وَّاُنْسٌ لِلْمُؤْمِنِيْنَ الْمُقَصِّرِيْنَ عَنْ دَرَجَاتِ الْكَمَالِ الْمُحِبِّيْنَ لِلنَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاٰلِهٖ خَيْرِ اٰلٍ.
رَوَى الصَّحِيْحُ عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ بَيْنَا اَنَا وَرَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَارِجَانِ مِنَ الْمَسْجِدِ فَلَقِيَنَا رَجُلٌ عِنْدَ سُدَّةِ الْمَسْجِدِ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَتَى السَّاعَةُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا اَعْدَدْتَّ لَـهَا قَالَ فَكَاَنَّ الرَّجُلَ اسْتَكَانَ ثُـمَّ قَالَ وَيَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا اَعْدَدْتُّ بِـهَا كَثِيْرَ صَلَاةٍ وَّلَا صِيَامٍ وَّلَا صَدَقَةٍ وَّلَكِنِّىْ اُحِبُّ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَاَنْتَ مَعَ مَنْ اَحْبَبْتَ فِىْ رِوَايَةٍ قَالَ حَضْرَتْ اَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ فَمَا فَرِحْنَا بَعْدَ الْاِسْلَامِ فَرَحًا اَشَدَّ مِنْ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاَنْتَ مَعَ مَنْ اَحْبَبْتَ قَالَ حَضْرَتْ اَنَسٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ فَاَنَا اُحِبُّ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَحَضْرَتْ اَبَا بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَحَضْرَتْ عُمَرَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَاَرْجُوْ اَنْ اَكُوْنَ مَعَهُمْ وَاِنْ لَّـمْ اَعْمَلْ بِاَعْمَالِـهِمْ قُلْتُ وَهٰذَا الَّذِىْ تَـمَسَّكَ بِهٖ حَضْرَتْ اَنَسٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ يَشْمَلُ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ كُلَّ ذِىْ نَفْسٍ فَكَذٰلِكَ تَعَلَّقَتْ اَطْمَاعُنَا بِذٰلِكَ وَاِنْ كُنَّا مُقَصِّرِيْنَ وَرَجَوْنَا رَحْمَةَ الرَّحْمٰنِ وَاِنْ كُنَّا غَيْرَ مُسْتَأْهِلِيْنَ كَلْبٌ اَحَبَّ قَوْمًا فَذَكَرَهُ اللهُ مَعَهُمْ فَكَيْفَ بِنَا وَعِنْدَنَا عَقْدُ الْاِيْـمَانِ وَكَلِمَةُ الْاِسْلَامِ وَحُبُّ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَقَدْ كَرَّمْنا بَنِىْ اٰدَمَ وَحَمَلْناهُمْ فِى الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْناهُمْ مِنَ الطَّيِّباتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلـٰى كَثِيْرٍ مِـمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيْلًا.
অর্থ: “ইবনে আতিয়্যাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমার শ্রদ্ধেয় পিতা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন যে, তিনি ৪৬৯ হিজরী সনে মিসরের জামে মসজিদে আবুল ফযল জওহারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একটি ওয়ায শুনেছেন। তিনি মিম্বরে বসে বলেছিলেন, যে ব্যক্তি নেককার উনাদেরকে মুহব্বত করে উনাদের নেকীর অংশ সে-ও পায়। দেখ, আছহাবে কাহ্ফের কুকুর উনাদেরকে মুহব্বত করেছে এবং উনাদের সঙ্গী হয়ে গেছে। ফলে মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত কুরআন শরীফ-এ এই কুকুরটির কথা উল্লেখ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
(ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,) আমি বলি, একটি কুকুর যখন নেককার এবং ওলীগণ উনাদের ছোহবত মুবারক অর্জন করার কারণে এবং উনাদের সঙ্গী হওয়ার কারণে এই সুউচ্চ মর্যাদা পেতে পারে যে, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি এই বিষয়টি উনার সম্মানিত কিতাব কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আলোচনা মুবারক করেছেন, তখন আপনি অনুমান করুন, যেসব ঈমানদার তাওহীদী লোক মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী ও নেককার উনাদেরকে মুহব্বত করে, উনাদের সঙ্গী হয়, তাদের মর্যাদা কতটুকু হবে? সুবহানাল্লাহ! এ ঘটনা মুবারক-এ সেসব মুসলমান উনাদের জন্য সান্তনা ও সুসংবাদ রয়েছে, যারা আমলে কাঁচা, কিন্তু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মনে প্রাণে মুহব্বত করে। সুবহানাল্লাহ!
(অতঃপর ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,) ‘ছহীহ বুখারী শরীফ’-এ হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে। তিনি বলেন, একদিন আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্মানিত মসজিদে নববী শরীফ থেকে বের হচ্ছিলাম। সম্মানিত মসজিদে নববী শরীফ উনার দরজা মুবারক উনার নিকট আমাদের সাথে একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার দেখা হলো। তিনি সুওয়াল করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কিয়ামত কবে হবে? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি কিয়ামতের জন্যে কী প্রস্তুতি নিয়েছেন (যে, আপনি কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন)? এই কথা শুনে উক্ত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি মনে মনে কিছুটা লজ্জিত হলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আমি কিয়ামতের জন্যে অনেক নামায, রোযা ও দান-খয়রাত সঞ্চয় করিনি, কিন্তু আমি মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে মুহব্বত করি। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, যদি তাই হয়, তবে, আপনি (পরকালে) উনার সাথে থাকবেন, যাকে আপনি মুহব্বত মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!
অপর বর্ণনায় রয়েছে, হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন,
فَاَنْتَ مَعَ مَنْ اَحْبَبْتَ
“আপনি (পরকালে, সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ) উনার সাথে থাকবেন, যাকে আপনি মুহব্বত মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জবান মুবারক-এ এই সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ শুনে আমরা এতই আনন্দিত হলাম যে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করার পর, মুসলমান হওয়ার পর এর চাইতে বেশী আনন্দিত আর কখনো হইনি। সুবহানাল্লাহ! হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি আরো বলেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনাকে, উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে ও সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে মুহব্বত করি এবং আশা করি যে, (পরকালে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ) উনাদের সাথেই থাকবো। যদিও আমি উনাদের অনুরূপ আমল করি না। সুবহানাল্লাহ!
(অতঃপর ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,) আমি বলি, আর এই বিষয়টি যা হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি আঁকড়িয়ে ধরেছেন, তা প্রত্যেক মুসলমান উনাদেরকে শামিল করেছে। সুবহানাল্লাহ! অনুরূপভাবে আমাদের কাঙ্খিত প্রত্যাশা, কামনা-বাসনা তার সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে, যদিও আমরা এই বিষয়ে ব্যর্থ। আর আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত রহমত মুবারক প্রত্যাশা করি, যদিও আমরা আযোগ্য। সুবহানাল্লাহ! কুকুর আছহাবে কাহ্ফ উনাদেরকে মুহব্বত করার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের সাথে কুকুরের আলোচনা (সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে) করেছেন। (যদি তাই হয়,) তাহলে আমাদের তো রয়েছে সম্মানিত ঈমান মুবারক উনার বন্ধন, সম্মানিত ইসলাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র কালিমা মুবারক এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারক, তাহলে আমাদের সাথে মহান আল্লাহ পাক তিনি কিরূপ আচরণ করবেন? সুবহানাল্লাহ! (অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বানী ইসরাঈল শরীফ উনার ৭০ নং আয়াত শরীফ’ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন,)
وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِىْ اٰدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِى الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلـٰى كَثِيْرٍ مِـمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيْلًا.
“নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তান উনাদেরকে সম্মানিত করেছি, আমি উনাদেরকে স্থল ও পানিতে চলাচলের বাহন দান করেছি; উনাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং উনাদেরকে অনেক তথা সমস্ত সৃষ্টি জীবের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে কুরতুবী শরীফ ১০/৩৭১-৩৭২)
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে যে, নি¤েœাক্ত ১০টি প্রাণী বিশেষ কারণে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করবে-
১. সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত উটনী মুবারক।
২. হযরত ছালিহ আলাইহিস সালাম উনার উটনী, ৩. হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং হযরত ইসমাঈল যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের দুম্বা, ৪. হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার গাভী, ৫. বালআম ইবনে বাঊরার গাধা, ৬. হযরত ইউনূস আলাইহিস সালাম উনাকে যেই মাছ ধারন করেছিলো, সেই মাছ। এই মাছ সবসময় মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির করতো, ৭. হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার পিপীলিকা, ৮. হযরত ওযাইর আলাইহিস সালাম উনার গাধা, এবং ৯. রাণী হযরত বিলকিস আলাইহাস সালাম উনার হুদহুদ পাখি, ১০. আসহাবে কাহ্ফের কুকুর হযরত শেখ সা’দী রমহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
ساگ اصحاب كهف روزے چند
پئے نيگاں گرفت مردم شد
অর্থ: “আছহাবে কাহ্ফের কুকুর নেককারদের ছোহবতে থাকার কারণে মানুষের ছূরতে জান্নাতী হবে।” সুবহানাল্লাহা!
ইমামুল মুফাসসিরীন মিনাল আউওয়ালীন ইলাল আখিরীন, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পরকালে হিসাব-নিকাশের পর আছহাবে কাহ্ফের কুকুরটি বণী ইসরাঈলের মরদূদ দরবেশ বাল‘আম ইবনে বা‘ঊরার ছূরতে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করবে এবং অনন্তকাল যাবৎ সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ অবস্থান করবে।” সুবহানাল্লাহ!
এখন বলার বিষয় হচ্ছে, সম্মানিত ও পবিত্র সূরা কাহ্ফ শরীফ হচ্ছেন সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ উনার অন্যতম একখানা সম্মানিত ও পবিত্র সূরা শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সেই সম্মানিত ও পবিত্র সূরা শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘আছহাবে কাহ্ফ’ উনাদের আলোচনা করেছেন এবং উনাদের সাথে উনাদের কুকুরটিরও আলোচনা করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এই কুকুরটি উনাদেরকে মুহব্বত করার কারণে, উনাদের সঙ্গী হওয়ার কারণে পরকালে মরদূদ দরবেশ বাল‘আম ইবনে বা‘ঊরার ছূরতে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করবে। সুবহানাল্লাহ! আছহাবে কাহ্ফ উনার সদস্যরা ছিলেন হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার উম্মত। উনারা অনেক বড় ওলীআল্লাহ ছিলেন তা না। উনারা ঈমান হেফাযতের লক্ষ্যে পাহাড়ের গুহায় প্রবেশ করেছেন। আর উনাদেরকে মুহব্বত করার কারণে, উনাদের সঙ্গী হওয়ার কারণে যদি একটি কুকুর এত বেমেছাল ফযীলত লাভ করে যে, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজে সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে কুকুরটির আলোচনা করেন এবং কুকুরটি পরকালে মানুষের ছূরতে জান্নাতী হবে। সুবহানাল্লাহ! তাহলে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হচ্ছেন এক কথায় উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন উনারা। সুবহানাল্লাহ! আর উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্বা মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তাহলে উনাকে যদি এই উম্মত মুহব্বত করে, উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক অর্জন করে, তাহলে এই উম্মত কী নিয়ামত মুবারক লাভ করবে? সুবহানাল্লাহ! মূলত, এই বিষয়টি সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ফযল-করম মুবারক-এ এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দয়া-দান, ইহ্সান মুবারক-এ ঐ সকল উম্মত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের আখাচ্ছুল খাছ মুহব্বত-মা’রিফত, নিসবত-কুরবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করবে এবং উনাদের খাদিম হিসেবে উনাদেরই সাথেই অনন্তকাল যাবৎ সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ অবস্থান মুবারক করবে। সুবহানাল্লাহ! যদিও তাদের আমলে শত ত্রুটি থাকুক না কেন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ তিনি আমাদের সবাইকে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে, খাছ করে সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে হাক্বীক্বীভাবে মুহব্বত করার, উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার, উনার তা’যীম-তাকরীম ও ছানা-ছিফত মুবারক করার এবং উনার সম্মানিত নিসবত মুবারক হাছিল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে