সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আযীমুশ নিসবতে আযীম মুবারক এবং প্রাসঙ্গিক আলোচনা


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতময় কোন বিষয় সাধারণ মানুষের মত নয়। তাই, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সাধারণ শব্দসমূহ উনার মুবারক শানে ব্যবহার করা যাবেনা। আর এ জন্য উনার মুবারক শানে শাদী, বিবাহ বা নিকাহ ইত্যাদী শব্দ ব্যবহার না করে ‘পবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ’ ব্যবহার করতে হবে। যা আদবও বটে। আর এ বিষয়টি মুজাদ্দিদে আ’যম, জব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার বিশেষ তাজদীদ।
এক শ্রেণীর বিভ্রান্ত ঐতিহাসিক রয়েছে যারা বলে, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হায়াত মুবারক দুইভাগে বিভক্ত। প্রথমত, ব্যক্তিগত যিন্দেগী। দ্বিতীয়ত, নবুওওতী যিন্দেগী। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিসবতে আযীম মুবারক উনার ব্যক্তিগত যিন্দেগীর অংশ। এখানে মহান আল্লাহ পাক উনার ফায়সালার কোন সম্পৃক্ততা নেই। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!”
মূলত, আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আক্বীদাহ হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হায়াত মুবারককে ব্যক্তিগত যিন্দেগীতে বিভক্ত করা সুস্পষ্ট কুফরী। কেননা, এতে অসংখ্য হাদীছ শরীফ অস্বীকার করা হয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নবী ও রসূল হিসেবেই সৃষ্টি মুবারক হয়েছেন। যদিও চল্লিশ বছর বয়স মুবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নবুওওয়ত মুবারক প্রকাশ করা হয়েছে। সেটা কেবল আনুষ্ঠানিকতা। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
كُنْتُ نَبِيًّا وَآدَمُ بَيْنَ الْمَاءِ وَالطِّينِ
অর্থ: আমি তখনও নবী ছিলাম যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি পানি এবং মাটিতে। (তিরমিযী)
অর্থাৎ, হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি সৃষ্টি হওয়ার পূর্ব হতেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নবী ও রসূল। সুবহানাল্লাহ।
কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যক্তিগত যিন্দেগী রয়েছে বলে বিশ্বাস করা কুফরী। সঙ্গতকারণেই উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিসবতে আযীম মুবারকও মহান আল্লাহ পাক উনারই ফায়সালা মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,
عن أنسِ بن مالك قال قال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم أخبرني جبريلُ عليه السلام ُ عن الله تبارك وتعالى: إن الله يقولُ لا يَتِمُّ نكاحٌ إلا بولي وشاهِديَنِ وأنا وَليُّ خَدِيجةَ
অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, অলী বা অভিভাবক এবং দুইজন স্বাক্ষী ব্যতিত বিবাহ পরিপূর্ণ হয়না। আর আমি উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত অভিভাবক। (কিতাবুল আরবায়ীন ফী মানাক্বিবি উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম লিইবনি আসাকির)
অর্থাৎ, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার অভিভাবক হয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট নিসবতে আযীম মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
আযীমুশ শান নিসবতে আযীম মুবারক
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নিসবতে আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হওয়ার কোন তারিখ প্রচলিত কিতাবাদীতে উল্লেখ নেই। কিতাবাদী নিয়ে গবেষণা করলে আরো সিদ্ধান্তহীনতায় পতিত হতে হয়। যেমন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নিসবতে আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক কত ছিল? এ প্রশ্নের জবাবে কয়েকটি মত। ঐতিহাসিকগণের মতে, তখন উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক ২২ বছর, সাড়ে ২৩ বছর, ২৪ বছর, ২৫ বছর, ২৮ বছর ইত্যাদী মত পাওয়া যায়। তবে একটি মতের উপর অনেকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ‘সীরাতে হালাবিয়্যাহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ করা হয়,
كان تزويجه صلى الله عليه وسلم بخديجة عليها السلام بعد مجيئه من الشام بشهرين أو خمسة عشر يوما، وعمره إذ ذاك خمس وعشرون سنة على ما هو الصحيح الذي عليه الجمهور كما تقدم. زاد بعضهم على الخمسة والعشرين سنة شهرين وعشرة أيام
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিরিয়া হতে ফিরে আসার দুই মাস মতান্তরে পনের দিন পর উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সাথে পবিত্র নিসবতে আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। আর সে সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিযাবী হায়াত মুবারক জুমহুর ঊলামায়ে কিরাম উনাদের মতে পঁচিশ বছর। তবে কারো কারো মতে, সে সময় উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক পঁচিশ বছর দুই মাস দশ দিন।
অর্থাৎ, জুমহুরগণ যদিও একটি মত দিয়েছেন। কিন্তু সেখানেও ইখতিলাফের উল্লেখ রয়েছে।
মূলত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নিসবতে আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হওয়ার মাস, তারিখ, বার ও সময় সম্পর্কে সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের কর্তৃক অবগত হয়ে যথাযথ সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম তাহক্বীক্ব এবং ইতিহাসে নজিরবিহীন তাজদীদ মুবারক করে সমস্ত ইখতিলাফ আর বিভ্রান্তির যবনিপাত করেছেন যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আনুষ্ঠানিক নবুওওয়ত প্রকাশের ১৫ বছর পূর্বে পবিত্র ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ লাইলাতু ইছনাইনিল আযীম বা’দ মাগরীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আযীমুশ শান পবিত্র নিসবতে আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নিসবতে আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ নির্ধারণের মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুরশিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিগুঢ় তাওয়াল্লুক নিসবত এবং বেমেছাল কুরবত মুবারকের বিষয়টিই আবারো দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নিসবতে আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় দুইজন খুতবা প্রদান করেন। প্রথমত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত চাচা আবু তালিব তিনি মহান আল্লাহ পাক, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং কুরাঈশগণ উনাদের ছানা ছিফত করে খুতবা প্রদান করেন। অতঃপর, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার চাচাতো ভাই ওরাকা ইবনে নওফেল তিনি খুতবা প্রদান করেন। পরিশেষে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার চাচা আমর ইবনে আসাদ তিনি সম্মতি প্রকাশ করেন।
মোহর মুবারক
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র নিসবতে আযীম মুবারক উনার সময় উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে কি পরিমাণ মোহর প্রদান করেছেন, তা নিয়ে তিনটি মত পাওয়া যায়। কারো মতে, মোহর মুবারক হিসেবে ১২ উকিয়া এবং এক নশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কারো মতে, মোহর মুবারক ছিল পাঁচশত দিরহাম। আর কতেকের মতে, মোহর মুবারক ছিলো বিশটি উট। তবে মোহর মুবারকের বিষয়টি একখানা হাদীছ শরীফ দ্বারা সহজেই স্পষ্ট করা যায়। পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে,
عن حضرت ابى سلمة رضى الله تعالى عنه انه قال سالت عائشة عليها السلام كم كان صداق رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت كان صدافه لازواجه عليهن السلام نتى عشرة اوقتة ونشا قالت اند رى ما الش قال قلت لا قالت نصف اوقية فتلك خمس ماة درهم
অর্থ: হযরত আবু সালামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তৃক প্রদত্ত মুবারক মহর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মোহর মুবারক ছিলো বার উকিয়া ও এক নাশ। তিনি বললেন, আপনি কি এক নাশের পরিমাণ সম্পর্কে জানেন। আমি বললাম, ‘না’। তিনি বললেন, এক নাশ এর পরিমাণ হলো অর্ধ উকিয়া। যা ছিলো মোট পাঁচশত দিরহাম। (মুসলিম শরীফ)
অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সহ সমস্ত হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মুবারক মোহর ছিলো পাঁচশত দিরহাম। তবে কারো কারো মতে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মু হাবীবাহ আলাইহাস সালাম উনার মুবারক মোহর আরো বেশি ছিলো। যা বাদশাহ নাজ্জাসী নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে পরিশোধ করেছিলেন।
পাঁচশত দিরহাম হলো একশত সোয়া একত্রিশ তোলা রৌপ্যের সমান। যা মোহরে যাহরী শরীফ নামে বিখ্যাত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিবাহের ক্ষেত্রে আমভাবে এরূপ মোহর নির্ধারণ করতেন। বর্তমান সময়ে মুহইস সুন্নাহ, মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি এই মুবারক সুন্নত জারী করেছেন। উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় যত বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, সবই মোহরে যাহরী শরীফ উনার ভিত্তিতে হয়ে থাকে।
অলীমা মুবারক
নিসবতে আযীম মুবারককে কেন্দ্র করে যে খাবারের আয়োজন করা হয়, তাকে আরবীতে অলীমা বলা হয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নিসবতে আযীম মুবারক অনুষ্ঠানে অলীমা উপলক্ষে ব্যাপক খাবারের আয়োজন করা হয়। সে দিন মক্কা শরীফবাসী সকলকে তৃপ্তিসহকারে মেহমানদারী করানো হয়। বিশ্বখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থসমূহে এ বিষয়ে যথেষ্ট আলোচনা করা হয়েছে। যা বলাই বাহুল্য।
উল্লেখ্য যে, পবিত্র মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ তারিখে উনারা অলীমা মুবারকের আয়োজন করেছেন। এ তারিখেই উনাদের উরুস মুবারক সম্পন্ন হয়েছে। সুবহানাল্লাহ। সীরাতে হালাবিয়্যাহ তে উল্লেখ করা হয়,
وفرح أبو طالب فرحا شديدا
অর্থ: খাজা আবু ত্বলিব আযীমুশ শান নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার দিন অত্যধিক খুশি হন, সীমাহীন খুশি প্রকাশ করেন।
এখন, সেদিন কি শুধু আবু তালিব তিনি খুশি প্রকাশ করেছেন। মূলত, সে দিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনারা যে খুশি মুবারক প্রকাশ করেছেন, তা আর কখনোই করেননি।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে