সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার কতিপয় অমূল্য নছীহত মুবারক


উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার অমূল্য নছীহত মুবারক শুনার জন্য উনার কাছে প্রতিদিন অনেক মহিলারা আসতেন। তিনি উনাদেরকে সাধারণত যেসব নছীহত মুবারক করতেন তার কতিপয় অত্যন্ত জরুরী নছীহত মুবারক নিম্নে পেশ করা হলো। উল্লেখ্য, যে মহিলা এই নছীহত মুবারকগুলো পালন করবে সুনিশ্চিতভাবে তার দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জাহান শান্তি-সুখের হবে।
১. অবশ্যই পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করবে। ২. কখনো পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার রোযা ছাড়বে না। ৩. প্রতিদিন কিছু পরিমাণ পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করবে। ৪. পীড়িতদের সেবা করবে। ৫. স্বামীর আগে ভোরে বিছানা ত্যাগ করবে। ৬. সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে। ৭. কখনো বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করবে না। ৮. সাধ্যানুযায়ী শ্বশুর-শাশুড়ির খিদমত করবে। ৯. দুঃখীজনের প্রতি দয়া করবে। ১০. স্বামীর খিদমত করে জান্নাত হাছিল করবে। ১১. বিপদে ধৈর্যধারণ করবে। ১২. স্বামীর খিদমতে নিজেকে ফানা করে দেবে। ১৩. কখনো কারো গীবত করবে না। ১৪. কাউকে সামনে ধিক্কার দেবে না। ১৫. প্রতিবেশীর সাথে কখনো ঝগড়া করবে না। ১৬. কখনো আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে না। ১৭. কারোর পেছনে নিন্দা করবে না। ১৮. দুঃখ-কষ্টে পড়ে খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি কটূক্তি করবে না। ১৯. কখনো খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শিরক করবে না। ২০. তাকদীরকে গালি দেবে না। ২১. কখনো স্বামীর অবাধ্য হবে না। ২২. কোনো কাজে স্বামীর সাথে তর্ক করবে না। ২৩. স্বামীর সাধ্যের বাইরে কোনো কিছু তার নিকট চাইবে না। ২৪. অযথা আবদার করে স্বামীকে লজ্জা দেবে না। ২৫. স্বামীর দোষ তালাশ করবে না। ২৬. স্বামীর মনে কষ্ট পায় এমন কাজ করবে না। ২৭. স্বামীর সামনে নম্র ও কোমল ভাষায় কথা বলবে। ২৮. সদা স্বামীর সাথে হাসিমুখে কথা বলবে। ২৯. স্বামীর দুঃখ-কষ্টের ভাগী হবে। ৩০. সদা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ও সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের উপর বিশ্বাস রাখবে। ৩১. বিসমিল্লাহ বলে যেকোনো কাজ শুরু করবে। ৩২. প্রত্যেক কাজের শেষে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার শুকর আদায় করবে। ৩৩. কোনো দুঃখের সংবাদ শুনলে ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রজিউন’ বলবে। ৩৪. সর্বদা মনে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ভয় রাখবে। ৩৫. কখনো খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত থেকে নিরাশ হবে না। ৩৬. সর্বদা মনে মনে যিকির করবে। ৩৭. পরকালের কথা স্মরণ রাখবে। ৩৮. কবরের শাস্তির কথা স্মরণ রাখবে। ৩৯. হাশরের মাঠে আপন কৃতকর্মের হিসাব দেয়া লাগবে এটা মনে রাখবে। ৪০. দোযখের আযাবের কথা ভুলবে না। ৪১. পর্দাই মহিলার ভূষণ মনে রাখবে। ৪২. বেগানা পুরুষের সাথে কখনো একাকী বসবে না। ৪৩. কখনো ব্যভিচারে লিপ্ত হবে না। ৪৪. পরপুরুষের চেহারার দিকে কখনো তাকাবে না। ৪৫. স্বামীর আওয়াজের চেয়ে বড় আওয়াজ দিয়ে কথা বলবে না। ৪৬. বড়দের অবশ্যই শ্রদ্ধা করবে। ৪৭. ছোটদের অবশ্যই স্নেহ করবে। ৪৮. ইয়াতীম-মিসকীনদের প্রতি দয়া করবে। ৪৯. ভিক্ষুককে ধমক দেবে না। ৫০. সাধ্যানুযায়ী দান খয়রাত করবে। ৫১. স্বামী ডাকা মাত্রই তার ডাকে সাড়া দিয়ে হাজির হবে। ৫২. স্বামীকে সর্বদা খুশি রাখতে চেষ্টা করবে। ৫৩. স্বামীর ঘরে কখনো জিদ ও হঠকারিতা করবে না। ৫৪. স্বামী ব্যতীত অন্য কারো সাথে হাসিমুখে কথা বলবে না। ৫৫. স্বামীর সাথে কর্কশ ভাষা ব্যবহার করবে না। ৫৬. স্বামীর কোনো জিনিসপত্রে কখনো অসন্তুষ্ট হবে না। ৫৭. স্বামীর সকল নিকটাত্মীয়ের সাথে উত্তম ব্যবহার করবে। ৫৮. স্বামীর মন সন্তুষ্টির জন্য তার ইচ্ছানুযায়ী বেশ-ভুষা করবে এবং সেজে-গুজে চলবে। ৫৯. স্বামীর বিনা অনুমতিতে কাউকে কিছু খাওয়াবে না। ৬০. কারো দোষ তালাশ করবে না। ৬১. নিন্দুকের নিন্দার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবে না।
স্মর্তব্য যে, অন্যের কল্যাণ কমনা করা ও যথোপযুক্ত উপদেশ দেয়া মহান আত্মার কাজ। কিন্তু কথা হলো- এই উপদেশ গ্রহণের যোগ্যতা কয়জনের আছে? অনেক সময় দেখা যায়, উপদেশ শ্রবণকারী ব্যক্তিগণ উপদেশ দাতাগণকে ভালো চোখে দেখে না। যা হোক, আমরা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার প্রদত্ত উপদেশাবলী প্রতিপালন করার প্রাণপন চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ ও সংসারকে সুখময় করে গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের প্রচেষ্টাকে পূর্ণতা দান করুন। আমীন।
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে