সাইয়্যিদুনা আস সাফফাহ মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার দায়িমীভাবে শরাফত মুবারক ও শালীনতা রক্ষা প্রসঙ্গে, যার নজির অন্য কোথাও দেখা যাবে না


সাধারণ মানুষের বেশকিছু দুর্বলতা রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হওয়া। পরিবেশ ও নফসের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সাধারণ মানুষেরা নিজেদের ভদ্রতা, শরাফত ও শালীনতা বজায় রাখতে পারে না। সে দৃঢ় হওয়ার চেষ্টা করলেও তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে, একটি নির্দিষ্ট সময় পর সে হার মানতে বাধ্য হয়। সাধারণ মানুষ যতোই নিজের ভদ্রতা ধরে রাখার চেষ্টা করুক না কেন, একপর্যায়ে না একপর্যায়ে তার ব্যক্তিত্বহীনতার প্রকাশ ঘটবেই।
আমাদের সমাজে আলিম-সূফী-দরবেশ দাবিদার বহু লোক রয়েছে, যারা সাধারণ মানুষদের তুলনায়ও অনেক বেশি বেসামাল। এক ঘণ্টার ওয়াজের মধ্যেও এরা জায়গায় জায়গায় ব্যক্তিত্বহীনতার প্রকাশ ঘটায়, উপস্থিত দর্শকদের মনোরঞ্জন করতে অশালীন কৌতুক ও কেচ্ছা তুলে ধরে। বিরাট ওলীআল্লাহ দাবিদার, কিন্তু শেষ বয়সে এসে এরা রাজনৈতিক দলের কাছে আত্মসমর্পণ করে হাস্যকর শোপিসে পরিণত হয়।
এতগুলো কথার অবতারণা করা হলো পাঠকের নিকট একটি বিষয় তুলে ধরার জন্য। তা হলো রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম, তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর উনার মজলিস মুবারক উনার মাঝে উপস্থিত মুরীদান ও দর্শনার্থীদের সামনে তালিম মুবারক প্রদান করে যাচ্ছেন, কিন্তু কখনো এক মুহূর্তের তরেও তিনি কোনোপ্রকার অসংলগ্ন বাক্য বা শব্দও উচ্চারণ করেননি। কখনো উনার শরাফত মুবারক উনার বাত্যয় ঘটেনি, কখনোই ব্যক্তিত্বহীনতার প্রকাশ ঘটেনি।
অফিসের একজন সহকর্মীকে সাইয়্যিদুনা আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে জানাতে গিয়ে উপরোক্ত বিষয়টি তুলে ধরেছিলাম। শুনে আমার সহকর্মীও আশ্চর্য হলো, এও কি সম্ভব? সাধারণ মানুষ তো নিজেকে একটা পোশাক দিয়ে আড়াল করে রাখে মাত্র, যার নিচেই অভদ্রতা ও শালীনতার খিলাফ বিষয়গুলো সে লালন করে। সুতরাং যিনি এর ব্যতিক্রম হতে পারেন, তিনি অবশ্যই অন্য কোনো সাধারণ মানুষের মতো নন।
পূর্ববর্তী ওলীআল্লাহগণ কিন্তু উনাদের এই বৈশিষ্ট্য নিয়েই ফখর করেছেন। হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছিলেন যে, তিনি হাজার বছর দুনিয়ার মধ্যে অবস্থান করলেও দুনিয়া উনার উপর কোনো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারবে না, অর্থাৎ তিনি সুন্নত থেকে এতটুকু বিচ্যুত হবেন না এবং এতটুকু অপছন্দনীয় কাজ করবেন না।
হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন একাদশ হিজরী শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, আর সাইয়্যিদুনা আস সাফফাহ মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হলেন মুজাদ্দিদে আ’যম, অর্থাৎ সমস্ত মুজাদ্দিদগণ উনাদের উপরে সাইয়্যিদুনা আস সাফফাহ মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার অবস্থান। সুতরাং উনার জন্য এটিই স্বাভাবিক যে, তিনি সেকেন্ডের পর সেকেন্ড, ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর দায়িমীভাবে সুন্নত মুবারক, শরাফত মুবারক ধারণ করে থাকবেন।
কিন্তু সাধারণ মানুষ তা কল্পনাও করতে পারে না, কারণ তাদের দৃষ্টির সামনে এরূপ কোনো নজিরও নেই, তাদের কোনো ধারণাও নেই এ সম্পর্কে। সুতরাং যারা আমার এই লেখাটি পড়েছেন কিন্তু রাজারবাগ শরীফে এখনো আসেননি, তাদের উদ্দেশ্যে আমার আহবান থাকবে, যেন তারা রাজারবাগ শরীফে আগমন করে সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ছোহবত মুবারক হাছিল করেন। কারণ বাস্তবতা এটিই যে, সাইয়্যিদুনা মামদূহ আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনার ন্যায় নজির বর্তমানে তো বটেই, পূর্বের ইতিহাসে কখনো দেখা যায়নি এবং ভবিষ্যতেও কখনো দেখা যাবে না।

-গোলাম মুর্শিদ।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে