সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত আলী আওসাত যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহে উমরী তথা জীবনী মুবারক


ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদু সুলত্বানিল আউলিয়া, ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, পেশওয়ায়ে দ্বীন, আস সাজ্জাদ, আবূ আব্দুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত আলী আওসাত যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহে উমরী তথা জীবনী মুবারক

হযরত আহালু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে জানা, উনাদের মুহব্বত করা, উনাদের খিদমত মুবারক করা, উনাদের তা’যীম-তাকরীম করা এবং উনাদের মুবারক ছানা-ছিফত করা সমস্ত মুসলমান তথা জিন-ইনসান সমস্ত কায়িনাতের জন্য ফরয। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,

قل لا أسألكم عليه أجرأ الا المودة في القربى. ومن يقترف حسنة نزد له فيها حسنا. ان الله غفورشكور.

অর্থ: “(হে আমার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলে দিন, “তোমাদের কাছে কোনো কিছু চাওয়া হচ্ছে না (আর তোমাদের পক্ষে কোনো বিনিময় দেয়াও সম্ভব নয়, বরং বিনিময় দেয়ার চিন্তা করাও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত); তবে তোমরা আমার ক্বরীব তথা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে সদাচরণ (তা’যীম-তাকরীম, ছানা-ছিফত ও খিদমত মুবারক) করবে। যে কেউ এই মহান নেক কাজ (আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের তা’যীম-তাকরীম, ছানা-ছিফত, খিদমত মুবারক) কববে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে আরও উত্তম প্রতিদান হাদিয়া করবেন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমাশীল এবং আমলে উত্তম প্রতিদান দানকারী।”
আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার মুহব্বতে।”
হযরত আহালু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত ইমাম বারো (১২) জন। এই ১২ জন ইমাম উনারা হলেন- ১. ইমামুল আওউয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আসাদুল্লাহিল গালিব, বাবু মদীনাতিল ইলম, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, ২. ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম, ৩. ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, শহীদে কারবালা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম, ৪. ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদু সুলত্বানুল আউলিয়া, ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, পেশওয়ায়ে দ্বীন, আস সাজ্জাদ, আবূ আব্দুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত আলী আওসাত যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম, ৫. ইমামুল খামীস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ বাকির আলাইহিস সালাম, ৬. ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম জা’ফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম, ৭. ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুসা কাযিম আলাইহিস সালাম, ৮. ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী রিযা আলাইহিস সালাম, ৯. ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ তকী আলাইহিস সালাম, ১০. ইমামুল আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ নকী আলাইহিস সালাম, ১১. ইমামুল হাদি আশার মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আসকারী আলাইহিস সালাম এবং ১২. ইমামুছ ছানী আশার মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ মাহদী আলাইহিস সালাম।
প্রথম ১১ জন ইমাম উনারা পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। আর ১২তম ইমাম তিনি আখিরী যামানায় তাশরীফ আনবেন। উনাদের জীবনী মুবারক জানা সকলের জন্যই ফরয। এখানে ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদু সুলত্বানিল আউলিয়া, ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, পেশওয়ায়ে দ্বীন, আস সাজ্জাদ, আবূ আব্দুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত আলী আওসাত যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহে উমরী তথা জীবনী মুবারক আলোচনা করার কোশেশ করবো।
ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদু সুলত্বানুল আউলিয়া, ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, পেশওয়ায়ে দ্বীন, আস সাজ্জাদ, আবূ আব্দুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ- ৪৭ হিজরী সন উনার ৫ই শা’বান শরীফ ইয়াওমুল খমীস বা বৃহস্পতিবার এবং মুবারক শাহাদাত তথা পবিত্র বিছাল শরীফ- ৯৪ হিজরী সন উনার ২৫শে মুহররম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আ’যীম শরীফ সোমবার।
পবিত্র নাম ও নসব মুবারক:
ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, সুলত্বানুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম তিনি হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের চতুর্থ ইমাম। উনার মূল নাম মুবারক ‘আলী আওসাত’ আলাইহিস সালাম। ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, মাহবুব রসূলে রব্বিল আলামীন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার একজন আহলিয়া ছিলেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত লাইলা বিনতে মুররা আলাইহাস সালাম। (তারিখুত তাবারী- ৩/৩৩০)
উনার পবিত্র রেহেম শরীফে যিনি তাশরীফ এনেছিলেন উনারও নাম মুবারক ছিল সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আলী’ আলাইহিস সালাম। পরবর্তী সময়ে তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আলী আকবর’ আলাইহিস সালাম হিসেবে মাশহুর হন।
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার আরো একজন পুত্র আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারকও ছিল সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আলী’ আলাইহিস সালাম। উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আলী আছগর’ আলাইহিস সালাম বলা হয়। আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারকের সাথে ‘আওসাত’ সংযুক্ত করে বলা হয় ‘আলী আওসাত’ আলাইহিস সালাম। কারবালার প্রান্তরে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী আকবর আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী আছগর আলাইহিস সালাম উনারা শাহাদাত মুবারক গ্রহণ করেন। হযরত আলে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্য থেকে শুধুমাত্র একজন আওলাদ কারবালার ময়দান থেকে ফিরে আসেন। তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী আওসাত যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম। উনার মাধ্যম দিয়েই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নসব মুবারক জারি রয়েছে। ইহুদীদের মদদপুষ্ট, কাট্টা কাফির, চির লা’নতগ্রস্ত, মালউন ইয়াযীদ কাফির এবং তার শয়তান সাঙ্গপাঙ্গরা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বংশধারা মিটিয়ে দিতে চাইলেও তারা তা পারেনি।
উনার কুনিয়াত মুবারক বা উপনাম মুবারক আবুল হাসান ও আবূ মুহম্মদ। উনাকে আবূ আব্দুল্লাহ মাদানীও বলা হয়। (তাহযীবুত তাহযীব-৭/২৬০)
সম্মানিতা মাতা ছিলেন পারস্য সম্রাট এর কন্যা সাইয়্যিদাতুনা হযরত শহরবানু আলাইহাস সালাম। ইমামুছ ছালিছ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে আক্বদ মুবারক হওয়ার পর উনাকে “সালমা” আলাইহাস সালাম এই মুবারক নামে নামকরণ করা হয়। কেউ কেউ “গাযালা” আলাইহাস সালামও বলেছেন। (তাহযীবুল কামাল- ১৩/২৩৭, সুয়ারুল মিন হায়াতিত তাবিয়ীন/৩৩৭)
পবিত্র লক্বব মুবারক:
ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, সুলত্বানুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম তিনি শুধুমাত্র “আল্লাহ পাক” এবং “রসূল পাক” ব্যতীত যত লক্বব মুবারক রয়েছে তিনি সমস্ত লক্বব মুবারকেরই অধিকারী তথা মালিক ও বণ্টনকারী। উনার বিশেষ লক্বব মুবারক হচ্ছে ‘যাইনুল আবিদীন’। এই লক্বব মুবারকেই তিনি সারা দুনিয়ায় পরিচিত। এখানে উনার কিছু লক্বব মুবারক উল্লেখ করা হলো।
ইয়াদগারে নবুওয়াত (নুবুওয়াত উনার স্মারক),
যাইনুল আবিদীন (ইবাদতকারীগণের সৌন্দর্য),
পেশওয়ায়ে দ্বীন (পবিত্র দ্বীন উনার ধারক-বাহক),
যাক্বী (অত্যন্ত বুদ্ধিমান),
আমীন (চরম বিশ্বাসী),
সাইয়্যিদুল মুতাওয়াককিলীন (তাওয়াককুলকারীগণের সাইয়্যিদ),
ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন (মুহাক্বক্বিক্বীনগণের ইমাম),
আফদ্বালুল উম্মাহ (সর্বশেষ্ঠ উম্মত),
ফকীহুদ দ্বীন (দ্বীনের ফকীহ),
আফকাহুন্ নাস (মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সমঝদার)। (তাহযীবুল কামাল-১৩/২৩৮, তাহযীবুত তাহযীব-৭/২৬০)
ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুসলিম জাহানের চতুর্থ খলীফা, বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম, ইমামুল আইম্মাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি যেদিন পবিত্র শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছিলেন তার প্রায় ৭ বৎসর পর ইমামুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি যমীনে আগমন করেন। কারবালার হৃদয় বিদারক ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সময় তিনি প্রায় ১৪ বছর বয়স মুবারকের অধিকারী ছিলেন।
তা’লীম তরবিয়ত:
সুলত্বানুল আরিফীন, পেশওয়ায়ে দ্বীন, ইয়াদগারে নুবুওয়াত, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর র’বি আলাইহিস সালাম উনার সবচেয়ে বড় পরিচয়, তিনি ইমামে আহলে বাইত, আওলাদে রসূল। আর হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সমস্ত ইলমের মালিক। উনাদের প্রতি পবিত্র ওহী নাযিল হয়নি, তবে উনারা কুদরতীভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং উনাদেরকে সমস্ত ইলমই হাদিয়া করা হয়েছে। উনাদের জিসিম মুবারকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুন নাজাত মুবারক প্রবাহিত। তাই উনারা অন্যান্য মানুষের মতো নন এবং উনাদের ইলম হাছিলের বিষয়টিও সাধারণ মানুষের মতো নয়।
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে সৃষ্টিজগৎ রক্ষাকারী ও পবিত্রকারী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি যেদিন কারবালা প্রান্তরে শহীদ হন, সে সময় উনার বয়স মুবারক ছিল প্রায় ১৪ বছর। এর পূর্ব পর্যন্ত উনার সম্মানিত পিতা উনার খাছ ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ পেয়ে ছিলেন। নবী পরিবার উনার পূর্ণ হিসসা তিনি পেয়েছেন। আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি ইলমের শহর আর হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন সেই শহরের দরজা।” সেই ইলম ও হিকমাহ সাইয়্যিদুশ শুহাদা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সীনা মুবারক হয়ে ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সীনা মুবারকে স্থান পায়। খোদ সাইয়্যিদুশ শুহাদা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরবিয়ত দাতা; তাহলে তিনি কিরূপ ইলম, আকল, সমঝ, প্রাপ্ত তা সহজেই অনুমেয়।
একবার হযরত মুহম্মদ হানাফিয়া ইবনে আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিত ইমামত উনার ব্যাপারে মুসলিম উম্মতকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে সুলত্বানুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনার নিকট আরজ করলে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ইহা উত্তম হবে যে, আমরা উভয়ে লোকজনসহ পবিত্র কা’বা শরীফ প্রাঙ্গণে হাজরে আসওয়াদ উনার নিকট যাই। উনাকে জিজ্ঞাসা করি- বর্তমান সময়ের ইমাম কে? তাতে প্রকৃত সত্য সকলের নিকট প্রকাশিত হবে।
অতঃপর উনারা হাজরে আসওয়াদ উনার নিকট গেলেন। হাজরে আসওয়াদ উনাকে (কালো পাথর) জিজ্ঞাসা করলে উনার জবান খুলে গেল। হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) স্পষ্টভাবে বলে দিলেন, “সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন ইবনে আলী আলাইহিস সালাম উনার পরে ‘সম্মানিত ইমামত’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনার নিকট পৌঁছেছে। তিনিই বর্তমান সময়ের ইমাম।” সুবহানাল্লাহ!
হযরত মুহম্মদ হানাফিয়া ইবনে আলী কাররামাল্লাহু আলাইহিস সালাম তিনিসহ সকলেই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই কারামত দেখে সকলেই অন্তর থেকে উনাকে ইমামুর রবি’ হিসেবে গ্রহণ করলেন এবং উনার মুহব্বতে নিজদের উৎসর্গ করলেন। সুবহানাল্লাহ!
একদিন জনৈক ব্যক্তি সুলত্বানুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন- হে আওলাদে রসূল! দুনিয়া ও আখিরাতে সবচেয়ে নেককার ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি সচ্ছল ও সুখী থাকা সত্ত্বেও অন্যায় পথ অবলম্বন না করে। আর রাগের সময় ইনছাফের সীমা অতিক্রম না করে, সে ব্যক্তিই হচ্ছে নেককার।” (কাশফুল মাহযুব/৮৫)
তিনি উম্মুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার নিকট থেকে ইলম ও হিকমত মুবারক শিক্ষা করেন। এছাড়া উনার সম্মানিত পিতা, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সম্মানিত চাচা সাইয়্যিদু শাবাবি আহলি জান্নাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রঈসুল মুহাদ্দিছীন হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, ছাহিবে রসূলিল্লাহ হযরত মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং ফকীহুল আছর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুসহ অনেক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের নিকট ইলম ও হিকমত শিক্ষা করেন। সুবহানাল্লাহ! (তায্কিরাতুল হুফফায-১/৭৮, তাযীবুল কামাল ১৩/২৩৭, তাহযীবুত্ তাহযীব-৭/২৬০, সিয়ারু আলা মিন নুবালা-৪/৩৮৭)
উনার পবিত্রতম ছোহবতে থেকে যে সকল মহান ব্যক্তিত্বগণ উনারা তালীম ও তরবিয়ত হাছিল করেন উনাদের মধ্যে উনার আওলাদগণ হযরত আবু জা’ফর আলাইহিস সালাম, হযরত মুহম্মদ আলাইহিস সালাম, হযরত যায়িদ আলাইহিস সালাম, হযরত উমর আলাইহিস সালাম উনারা ব্যতীত হযরত যায়িদ ইবনে আসলাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আসিম ইবনে উমর রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইয়াহহিয়া ইবনে সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আব যিনাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি অন্যতম। (তায্কিরাতুল হুফফাজ-১/৭৮, তাহযীবুল কামাল-১৩/২৩৭, তাহযীবুত্ তাহযীব-৭/২৬০, সিয়ারু আলামিন নুবালা-৪/৩৮৭)
হযরত ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন- আমি ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ফকীহ আর দ্বিতীয় কাউকে দেখিনি। অথচ তিনি খুব কম পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। (তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৭৮)
মূলত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারাই তো ফক্বীহ পয়দা করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার পরবর্তী বংশধর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনার দয়া-দান-ইহসান মুবারকে তো ইমামে আয’ম হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এত সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠ মাযহাব হাদিয়া পেয়েছেন। বর্ণিত রয়েছে আখিরী যামানায় হযরত ঈসা রূহুল্লাহ ইবনে মরিয়ম আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত হিসেবে দুনিয়ায় আসবেন ১২তম ইমাম হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনাকে সহযোগিতা করার জন্য। সুবহানাল্লাহ!
অর্থাৎ হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনিও হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত-খিদমত করবেন। কারণ সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত। আর উম্মতের জন্য ফরয হচ্ছে হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, উনাদের খিদমত করা। হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি যেহেতু জলীলুল ক্বদর নবী ও রসূল অথচ উম্মত হিসেবে এসেছেন তাই তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে ইজতিহাদ করে চলবেন। কিন্তু মানুষ উনাকে হানাফী মাযহাব উনার অনুসারী মনে করবেন। কারণ উনার ইজতিহাদগুলো ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে মিলে যাবে। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা খাছ ইলম মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ইমাম আবু হাজিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন- বনি হাশিমগণের সমসাময়িকদের মধ্যে উনাকেই আমি শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন দেখেছি। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুসাইয়িব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, আমি উনার মতো পরহিযগার আর কাউকে দেখিনি। সুবহানাল্লাহ!
মালিকী মাযহাবের ইমাম, হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন- “আমার নিকট এই মর্মে খবর পৌঁছেছে যে, হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দিন-রাতে এক হাজার রাকাত নামায আদায় করতেন। আর এটা উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ পর্যন্ত জারি ছিল। এ কারণে উনাকে হযরত যাইনুল আবিদীন তথা ইবাদতকারীগণের সৌন্দর্য লক্বব মুবারকে অভিহিত করা হয়। তিনি ছিলেন সেই যামানার সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত গুজার। সুবহানাল্লাহ!
(তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৭৮, সিয়ারু আলামিন নুবালা-৪/৩৮৮, তাহযীবুত্ তাহযীব-৭/২৬০, তাহযীবুল কামাল-১৩/২৩৯, হিলয়াতুল আউলিয়া-৩/১৬৫, সুয়ারুম মিল হায়াতিত্ তাবিয়ীন/৩৪২)
আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হিকমতপূর্ণ বাক্য জ্ঞানীর হারানো সম্পদ। কাজেই যেখানে বা যার নিকট উহা পাবে সেখান থেকে বা উনার নিকট থেকেই তা সংগ্রহ করবে।” সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জীবন মুবারকে উহার পূর্ণ বাস্তবায়ন পরিলক্ষিত হয়। ইলমের প্রতি ছিল উনার অদম্য আগ্রহ। তিনি যেখানে ইলমের সন্ধান পেতেন সেখানেই ছুটে যেতেন। ধনী-গরিব উঁচু-নিচু কারো ভেদাভেদ করতেন না।
একদিন হযরত ইমাম নাফে রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমা করুন। আপনি সমস্ত মানুষের সাইয়্যিদ। সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর আপনি একজন গোলামের মজলিসে বসেন। উল্লেখ্য যে, তিনি হযরত যায়িদ ইবনে আসলাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলমের মজলিসে বসতেন। আর তিনি ছিলেন গোলাম।
হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “ইলম হাছিলের ক্ষেত্রে এরূপ মনোভাব থাকা সমীচীন নয়। বরং যেখানে ইলমের সন্ধান যাওয়া যাবে সেখান থেকে তা হাছিল করা উচিত।” সুবহানাল্লাহ!
(হিলয়াতুল আউলিয়া-৩/১৬২, তাহযীবুল কামাল-১৩/২৩৯, সিয়ারু আলামিন নুবালা-৪/৩৮৮)
হযরত ইমাম নাফে ইবনে যুবাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললেন, আপনি এমন লোকদের ছোহবত মুবারকে যান- যারা আপনার সমতুল্য নয়। এর হিকমত কি? তিনি বললেন, আমার দ্বীনের ফায়দার জন্য উনাদের ছোহবত মুবারকে গিয়ে থাকি। (সিয়ারু নুবালা-৪/৩৮৮)
মুলত, ইমামুর রবি’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম তিনি মানুষকে ফায়দা দেয়ার জন্যই এমন হিকমত করতেন। তিনি ছিলেন দ্বীনের গৌরব। বিনয়-নম্রতার শাহী মুকুট।
মূলত, সুলত্বানুল আউলিয়া, ইয়াদগারে নুবুওয়াত, পেশওয়ায়ে দ্বীন, আওলাদে রসূল হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সালিক বা শিক্ষার্থীদের জন্য এমন আদর্শ রেখে গেছেন, যা অনাগত ভবিষ্যতে সবার জন্য অনুসরণীয়-অনুকরণীয় কামিয়াবী লাভের সোপান।
মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বাণী, “যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য বিনীত হয়, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।” তারই বাস্তব প্রতিফলন।

পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:
ইমামুল মুত্তাক্বীন, সুলত্বানুল আউলিয়া, পেশওয়ায়ে দ্বীন, আওলাদে রসূল, হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ৯৪ হিজরী ২৫ মুহররমুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন ৪৭ বছর বয়স মুবারকে। মুনাফিক ও কাফিরেরা উনাকে বিষ পান করিয়েছিল। নাউযুবিল্লাহ! উনাকে জান্নাতুল বাক্বী শরীফে সমাহিত করা হয়েছে। অর্থাৎ উনার পবিত্র রওযা শরীফ পবিত্র জান্নাতুল বাক্বী শরীফে অবস্থিত।
মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি আমাদের সকলকে হযরত আহালু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে হাক্বীক্বীভাবে মুহব্বত করার, তা’যীম-তাকরীম করার, উনাদের ছানা-ছিফাত ও খিদমত মুবারক করার তাওফীক দান করুন। আমীন!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. দূর্গম গিরি says:

    সুবহানআল্লাহ। Rose

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে