সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খ্বমিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আবদিয়াতের মাক্বাম প্রাপ্ত


সাইয়্যিদুল আউলিয়া, ইমামুল মুসলিমীন, ইমামুল হুদা, পেশওয়ায়ে আহলু ইয়াক্বীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খ্বমিছ আলাইহিস সালাম আবদিয়াতের মাক্বামে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি ছিলেন মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরম বন্ধু। স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সেই মাক্বাম প্রাপ্তির সুসংবাদ দিয়েছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একদিন ইমামুল খ্বমিছ আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন- মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনাকে সালাম জানিয়েছেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খ্বমিছ আলাইহিস সালাম বললেন- সেটা কিভাবে?
তিনি বলেন- একদিন মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে বললেন- “হে জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার (বংশীয়) একজন সন্তান বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন করবেন, আমার নাম মুবারকে উনার নাম মুবারক হবে ‘মুহম্মদ’। ক্বিয়ামতের দিনে যখন একজন আহবানকারী এই বলে আহবান করবে, “ইবাদতকারীগণ কোথায়? তখন সেই আহবানে উনার সেই সন্তান ‘মুহম্মদ’ দাঁড়িয়ে যাবেন। কাজেই যদি আপনি উনাকে পান তাহলে আমার পক্ষ থেকে উনাকে সালাম জানাবেন। (সুবহানাল্লাহ) (ইবনে আসাকির-১৫/৩৫৩, তারিখে দামেস্ক-২৩/৭৮, কাওয়াকিবুদ্ দুররিয়া-১/৪৪১)
আবদিয়াত-উনার মাক্বাম হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বোচ্চ মাক্বাম। মহান আল্লাহ পাক স্বীয় প্রিয়তম হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আবদ্ (পরম বন্ধু) বলে উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “সেই মহান আল্লাহ যিনি স্বীয় আবদ্ বা হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে রাতের কিছু অংশ সময়ে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আক্সা পর্যন্ত ইসরা (রাত্রিকালীন সফর) করিয়েছেন।” (সূরা বণী ইসরাইল-০১)
মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রাতের দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ইবাদত করতেন। যার ফলে উনার পা-মুবারক ফুলে যেত। উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার পা মুবারক উনার এ অবস্থা দেখে দয়াদ্র কণ্ঠে বলতেন- ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক কি আপনাকে মা’ছূম এবং নিষ্পাপ করেননি? (এতো কষ্ট করে ইবাদতের কি প্রয়োজন থাকতে পারে।)
মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন- হে উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছছালিছাহ আলাইহাস সালাম! আমি কি মহান আল্লাহ পাক উনার শোকর-গোযার বান্দা হবো না? অর্থাৎ তিনি স্বীয় উম্মতকে শিক্ষা দিলেন যে, মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত পেলে তার শুকরিয়া আদায় করতে হবে। আর শুকরিয়া আদায় করলে নিয়ামতরাজী উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকবে। স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি ওয়াদা দিয়েছেন “যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর তাহলে আমি অবশ্য অবশ্যই তোমাদের নিয়ামতসমূহকে বৃদ্ধি করে দিব।” (সুরা ইবরাহীম-০৭)
সাইয়্যিদুল আউলিয়া, ইমামুল মুসলিমীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুল খ্বমিছ আলাইহিস সালাম সেই শোকর-গোযার বান্দাগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইতায়াতের (অনুসরণ) লক্ষ্যে রাতের দীর্ঘ সময়ে ইবাদতে কাটিয়ে দিতেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি প্রতি দিন এবং রাতে একশত পঞ্চাশ রাকায়াত নামায আদায় করতেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা-৪/৪০৩, হিল্য়াতুল আউলিয়া-৩/২১৪, তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১২৫)
উল্লেখ্য যে, যারা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ নৈকট্য প্রাপ্ত হবেন তাদের কিছু আলাদা খুছূছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর, মু’মিন মুসলমানগণের প্রতি হবে একান্ত দয়াদ্র। নামাযের পাবন্দ তথা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি-রেযামন্দি অনুগ্রহ হাছিলের জন্য অতীব গুরুত্বের সাথে সম্মানিত নামায আদায়কারী। আর উনাদের কপাল বা চেহারা মুবারকে সিজদার চিহ্ন (নূর বা আলো) বিদ্যমান থাকবে।
আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুল খ্বমিছ আলাইহিস সালাম সেই খুছূছিয়ত বা বৈশিষ্ট্যসমূহের পূর্ণ অধিকারী ছিলেন। উনার চেহারা মুবারকে সিজদার চিহ্ন এতো গভীরভাবে ফুটে উঠেছিল যে, স্বীয় মুরীদ-মু’তাকিদ-মুহিবগণ পর্যন্ত স্পষ্ট দেখতে পেতেন।
হযরত ইবনে সা’দ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদেরকে হযরত মায়ান ইবনে ঈসা রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন- হযরত হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি আমাকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন- আমি সাইয়্যিদুনা ইমামুল খ্বমিছ আলাইহিস সালাম উনার কপাল ও নাক মুবারকে সিজদার চিহ্ন দেখেছি। (তবাকাতে কুবরা-৫/৩২৩)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে