সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করলে দুনিয়ায় যাবতীয় অনিষ্টতা থেকে নিরাপত্তা ও আখিরাতে মহাসম্মানিত শাফায়াত মুবারক হাছিল হবে


মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বেমেছাল মর্যাদা মুবারক, ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন। যা কোনো বান্দা-বান্দি, উম্মতের পক্ষে বর্ণনা করা, উপলব্ধি করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। উনাদের বেমেছাল মর্যাদা মুবারক উনার অন্যতম একখানা মর্যাদা মুবারক হলেন- উনারা আসমানবাসী ও যমীনবাসী তথা তামাম কায়িনাতের জন্য নিরাপত্তা দানকারী। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَلِيٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النُّجُوْمُ أَمَانٌ لِأَهْلِ السَّمَاءِ، إِذَا ذَهَبَتِ النُّجُوْمُ ذَهَبَ أَهْلُ السَّمَاءِ، وَأَهْلُ بَيْتِيْ أَمَانٌ لِأَهْلِ الأَرْضِ، فَإِذَا ذَهَبَ أَهْلُ بَيْتِيْ ذَهَبَ أَهْلُ الأَرْضِ.
অর্থ : সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আকাশের তারকাসমূহ হচ্ছেন- আসমানবাসীদের জন্য নিরাপত্তা দানকারী। যখন আসমানের তারকাসমূহ চলে যাবে তখন আসমানবাসীও চলে যাবেন। আর আমার পবিত্রতম আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন, যমীনবাসীদের জন্য তথা আসমান-যমীনসহ সমস্ত কায়িনাতবাসীর জন্য নিরাপত্তা দানকারী। সুবহানাল্লাহ! যখন আমার মহাসম্মানিত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা যমীন থেকে বিদায় মুবারক গ্রহণ করবেন তখন সমস্ত যমীন থেকে তথা কায়িনাত থেকে সব কিছুই বিলীন হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ! (ফাদ্বায়িলুছ ছাহাবা লি আহমাদ ইবনে হাম্বল, কানযুল উম্মাল, আল মুস্তাদরাক লিল হাকিম)
আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ سَلْمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النُّجُوْمُ أَمَانٌ لِأَهْلِ السَّمَاءِ، وَأَهْلُ بَيْتِيْ أَمَانٌ لِأُمَّتِيْ.
অর্থ: হযরত সালমা ইবনে আকওয়া’ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- আকাশের তারকারাজী আসমানবাসীদের জন্য নিরাপত্তা দানকারী। আর আমার পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা আমার উম্মত তথা গোটা কায়িনাতবাসীর একমাত্র নিরাপত্তা দানকারী। সুবহানাল্লাহ! (কানযুল উম্মাল)
শুধু তাই নয়, যারা সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত মুবারক করবেন, উনাদের গোলামী মুবারক করবেন উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শাফায়াত মুবারক লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা মুবারক করেন-
قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَرْبَعَةٌ اَنَا لَـهُمْ شَفِيْعٌ يَّوْمَ الْقِيَامَةِ الْـمُكْرِمُ لِذُرِّيَّـتِـىْ وَالْقَاضِى لَـهُمْ حَوَائِجَهُمْ وَالسَّاعِى لَـهُمْ فِـىْ اُمُوْرِهِمْ عِنْدَ اِضْطِرَارِهِمْ اِلِيْهِ وَالْـمُحِبُّ لَـهُمْ بِقَلْبِه وَلِسَانِه
অর্থ: নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ক্বিয়ামতের দিন আমি নিজেই চার শ্রেণীর লোককে খাছভাবে সুপারিশ করবো- ১. যে ব্যক্তি আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সম্মান মুবারক করবে। ২. যে ব্যক্তি অর্থ-সম্পদ দ্বারা মহাপবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খিদমত মুবারক করবে। ৩. যে ব্যক্তি দৈহিক শক্তি দিয়ে, শ্রম দিয়ে মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খিদমত করবে। ৪. যে ব্যক্তি মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মনে-প্রাণে ও যবানে মুহব্বত মুবারক করবে। (আল বুরহানু ফী তাফসীরিল কুরআন লিল বাহরানী- ১/২৩, তাফসীরু নূরিছ ছাক্বালাইন লিল হুয়াইযী ২/৫০৪)
আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ আলাইহিস সালাম তিনি হলেন হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৭ম ইমাম তথা ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাহলে উনাকে মুহব্বত মুবারক করলে, উনাকে তা’যীম তাকরীম মুবারক করলে, উনার গোলামী মুবারক করলে কী পরিমাণ নিরাপত্তা লাভ করা যাবে! কী পরিমাণ শাফায়াত মুবারক হাছিল করা যাবে! তা বলার অপেক্ষাই রাখে না।
মূলত: হযরত ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত মুবারক করার দ্বারা সমস্ত বালা-মুছিবত, রোগ-শোক, মামলা- মোকদ্দমা, আযাব-গযব ইত্যাদি থেকে নিরাপত্তা লাভ হবে। সর্বোপরি উনাকে মুহব্বত মুবারক করলে পবিত্র ঈমান উনার নিরাপত্তা হাছিল হবে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শাফায়াত মুবারক লাভ করা সম্ভব হবে। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়ার সমস্ত জ্বিন-ইনসানকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাক্বীক্বীভাবে মুহব্বত মুবারক করার, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করার তাওফীক্ব মুবারক দান করুন। আমীন!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে