সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল তাক্বওয়া মুবারক


বেহেশতের প্রতিটি দরজা মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে আহবান করবে। উম্মতের মধ্যে তিনি সর্বপ্রথম বেহেশতে প্রবেশ করবেন। এতোসব মর্যাদাসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও তিনি বলতেন, “আফসুস! আমি যদি গাছ হতাম, যা কেটে ফেলা হয়।” অনেক সময় বলতেন, “আমি যদি ঘাস হতাম, যা পশু খেয়ে ফেলতো।” আবার কোনো সময় বলতেন, “আমি যদি কোনো মু’মিনের গায়ের পশম হতাম।” সুবহানাল্লাহ!
(১)
একদিন তিনি জঙ্গলে গিয়ে একটি জানোয়ারকে বসা অবস্থায় দেখতে পেয়ে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “হে জানোয়ার! তুমি কত সুখে-শান্তিতে আছো, খাও, পান করো, বৃক্ষের ছায়ায় বিচরণ করো এবং পরকালে তোমার উপর হিসাব-নিকাশের কোনো বোঝা নাই। হায় আফসুস! আবূ বকর (আলাইহিস সালাম) যদি তোমার মতো হতেন।” সুবহানাল্লাহ!
(২)
সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার একজন গোলাম ছিলো। সে আপন আয়ের একটি নির্ধারিত অংশ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে¡ আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে প্রদান করতো। একদিন ওই গোলাম কিছু খাদ্য এনেছিলো। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি তা হতে এক গ্রাস খেয়ে ফেলেন। গোলাম বললো, হুযূর! আমি এটা কোথা হতে এনেছি এই কথা জিজ্ঞাসা করা ব্যতীতই আপনি তা খেয়ে ফেললেন? অথচ অন্য সময় জিজ্ঞাসা করা ব্যতীত খাদ্য গ্রহণ করেন না। তিনি বললেন, “তীব্র ক্ষুধার কারণে জিজ্ঞাসার সময় পাই নাই, এখন বলো দেখি তা কোথা হতে এনেছো? সে বলল, আমি পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণের পূর্বে কিছু মন্ত্রের দ্বারা তদবীর করেছিলাম। তারা আমাকে কিছু দেয়ার ওয়াদা করেছিল। আজ তাদের সেখানে বিবাহের অনুষ্ঠান ছিলো। আমিও সেদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম। আজ তারা আমাকে ওই মজুরী প্রদান করে। শুনে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, তুমি আমাকে ধ্বংস করে দিলে। এই বলে গলার ভিতর হাত দিয়ে বমি করার চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু তীব্র ক্ষুধাবস্থায় খাওয়া একটি মাত্র গ্রাস সহজে কি বাহির হয়? কেউ বললো, পানি দ্বারা বমি হতে পারে, তখন বড় এক পেয়ালা পানি নিয়ে পান করতে থাকেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যে ওই গ্রাস বের হয়ে আসে। এতে কেউ কেউ বললো, খোদা পাক তিনি আপনার ভালাই করুন। একটি মাত্র গ্রাসের জন্য আপনি এতো কষ্ট স্বীকার করলেন। তিনি বললেন, যদি এই লোকমা বের করতে আমার প্রাণও বের হতো তবুও আমি তা বের করতাম। কেননা আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জবান মুবারকে শুনেছি, হারাম মালে পালিত শরীরের জন্য আগুনই যথেষ্ট। আমার ভয় হলো, এই লোকমার দ্বারা আমার কোনো অঙ্গ পালিত হয় নাকি। মুহাদ্দিছীনে কিরাম উনাদের মতে, নিজ গোলামের মাল খাওয়া জায়িয হওয়া সত্ত্বেও সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সতর্কতার জন্য সন্দেহজনক মাল গ্রহণ করতে রাজি ছিলেন না। সুবহানাল্লাহ!
(৩)
সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে¡ আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন কাপড়ের ব্যবসায়ী, এর দ্বারাই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। খলীফা হওয়ার পরের দিন যথারীতি কিছু কাপড় নিয়ে বাজারের দিকে চললেন। পথিমধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেন, আপনি যদি বেচাকেনায় লিপ্ত থাকেন তবে খিলাফতের কাজ কি করে চলবে? সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, তবে আমার পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষণের জন্য আয়-রোজগার কিভাবে হবে? হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হযরত আবূ ওবায়দা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট চলুন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে ‘আমিনুল উম্মত’ লক্বব মুবারকে ভূষিত করেছেন। তিনি আপনার জন্য বায়তুল মাল হতে কিছু ভাতা ধার্য করে দিবেন। উনারা উভয়ে হযরত আবূ ওবায়দা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট গেলেন। তিনি একজন মধ্যম শ্রেণীর মুহাজিরের সমপরিমাণ ভাতা উনার জন্য ঠিক করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!

(৪)
একদা সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি উনার আহলিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহা উনার নিকট কিছু মিষ্টি জিনিস খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। উনার আহলিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহা তিনি উহা বানানোর মতো কোনো ব্যবস্থা নেই- বলে জানালেন। কিন্তু তখন হতে উনার আহলিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহা প্রতিদিনের টাকা হতে একটু একটু করে বাঁচিয়ে রেখে একদিন কিছু মিষ্টি খাবার তৈরি করেন এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে খেতে দেন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে¡ আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, অভিজ্ঞতায় জানা গেল, এই পরিমাণ ভাতা আমরা বায়তুল মাল হতে বেশি নিয়ে থাকি। তারপর তিনি ওই পরিমাণে ভাতা কমিয়ে দিলেন। চিন্তা করে দেখার প্রয়োজন, কি অপূর্ব পরহেজগারী! সুবহানাল্লাহ!
(৫)
পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বে তিনি উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্ব¡া আলাইহাস সালাম উনাকে বললেন, বায়তুল মালের যা কিছু আছে আমার পবিত্র বিছাল শরীফ উনার পরে ওইসব পরবর্তী খলীফার নিকট জমা দিয়ে দিবেন। হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর উনার নিকট কোনো টাকা-পয়সা ছিলো না। একটি মাত্র দুধওয়ালী উট, একটিমাত্র পেয়ালা এবং মাত্র একজন খাদিম ছিলো। অন্য বর্ণনায় আছে, মাত্র একটা রুমাল এবং একখানা বিছানাও ছিলো। পবিত্র ইসলামী দুনিয়ার প্রতাপশালী প্রথম খলীফা তিনি এই অতি সামান্য মাল-সামানা রেখে দুনিয়া হতে চির বিদায় নেন। সুবহানাল্লাহ!

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে