সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক শাহাদাত এবং উম্মাহর জন্য ইবরত নসীহত


মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন,
لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا
অর্থ: আপনি মু’মিনদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে ইহুদী এবং মুশরিকদেরকে পাবেন। (পবিত্র সূরা মায়িদাহ শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ৮২)
অর্থাৎ, কায়িনাতে মু’মিন-মুসলমান উনাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো প্রথমত ইহুদীরা, দ্বিতীয়ত মুশরিকরা। এখন ইহুদী জাতি চিহ্নিত। হযরত মুসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার তাওরাত শরীফ অনুসরনের দাবীদার জাতিকে ইহুদী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আর মুশরিক বলতে যারা প্রকাশ্যে সরাসরি পূজায় লিপ্ত হয় তাদেরকে বুঝায়।
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মাঝে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। আর ইহুদী ও মুশরিকরা মুসলমানদের শত্রু হিসেবে পবিত্র কুরআন শরীফে ঘোষিত হওয়ায় তাদের শত্রুতার ব্যাপারেও সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। আর এ জন্যই পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে,
عن حضرت جابر رضى الله تعالى عنه عن عمر بن الخطاب عليه السلام أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال لئن عشت إن شاء الله لأخرجن اليهود والنصارى من جزيرة العرب
অর্থ: “হযরত যাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যমীনবাসী হতে আমার পর্দা করার বিষয়টি যদি বিলম্বিত হতো, তাহলে আমি এই জাযিরাতুল আরব তথা আরব উপদ্বীপ হতে ইহুদী-নাছারাদেরকে বহিষ্কার করতাম। (বুখারী শরীফ)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে,
اخرجوا المشركين من جزيرة العرب
অর্থ: তোমরা মুশরিকদেরকে জাযিরাতুল আরব তথা আরব উপদ্বীপ হতে বহিষ্কার করো।
অর্থাৎ, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইহদী ও মুশরিকদের শত্রুতার ব্যাপারে উম্মাহকে সতর্ক করেছেন। কেননা, এরা সুযোগ সন্ধানী। এরা সুযোগ পেলেই মুসলমানদের ক্ষতি সাধনের অপচেষ্টা করে। এ জন্য তাদেরকে আরব বের করে দেয়ার মুবারক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যাতে তারা মুসলমানদের ক্ষতি করার কোন সুযোগ না পায়। আর বিষয়টি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাত মুবারক উনার ঘটনা হতে আরো সুস্পষ্ট হয়।
খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি জাযিরাতুল আরব হতে যদিও মুশরিকদেরকে বের করে দিয়েছিলেন। তবে তরবারী বানানোর জন্য মুশরিক আবু লুলুকে পবিত্র মদীনা শরীফে থাকার অস্থায়ী অনুমতি প্রদান করা করেছিলেন। মুশরিক আবু লুলু এ সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করলো। সে ছিলো বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত মুগীরা ইবনে শু’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার চুক্তিবদ্ধ দাস। একদিন খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নিকট বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত মুগীরা ইবনে শু’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্পর্কে আবু লুলু নালিশ দেয়। সে বলে, খলীফাতুল মুসলিমীন! আমার মালিক আমার উপর অবিচার করছেন। তিনি দৈনিক দুই দিরহাম আমার খারায নির্ধারণ করেছেন। খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হযরত মুগীরা ইবনে শু’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একজন বিশিষ্ট ছাহাবী। তিনি তো ইনসাফের খিলাফ কাজ করতে পারেন না। অতঃপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি কাজ করো? সে বললো, আমি কামারের কাজ করি। তিনি বললেন, তুমি দৈনিক অনেক আয় করো। সে হিসেবে তোমার জন্য নির্ধারিত খারায যথাযথ হয়েছে। অর্থাৎ হযরত মুগীরা ইবনে শু’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কর্তৃক তোমার জন্য নির্ধারিত খারায ইনসাফপূর্ণই হয়েছে। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার এই মুবারক ফায়ছালা মজুসী লুলুর মনঃপুত হয়নি। সে বললো, ঠিক আছে আমি দেখবো। তাই সে প্রতিশোধ গ্রহণের লক্ষ্যে মুনাফিক ইবনে সাবা গোষ্ঠীর প্ররোচনায় বিষ মিশ্রিত দুই দিকে ধার বিশিষ্ট ছুরি নিয়ে ফজরের নামাযের সময় মসজিদে নববী শরীফে লুকিয়ে রইলো। সে ছুরি দ্বারা উনাকে নামাযরত অবস্থায় আঘাত করে। ছুরির আঘাতে উনার পাকস্থলি পর্যন্ত কেটে যায়। উনাকে বিছানা মুবারকে শুইয়ে দেয়া হলো। উনাকে দুধ-মধু যেটাই খাওয়ানো হলো, সেটাই বেরিয়ে আসলো। যার কারণে ২৩ হিজরী সনের ২৭শে যিলহজ্জ শরীফ ইয়াওমুস সাবত তিনি সম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
মুশরিকরা যে মহান আল্লাহ পাক কর্তৃক ঘোষিত সবচেয়ে বড় শত্রু, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাত মুবারক তার সুস্পষ্ট উদাহরণ।
বর্তমান সময়ে কিছু লোক মুশরিকদেরকে শত্রু ভাবতে নারাজ। আবার কেউ বলে সব মুশরিক খারাপ নয়। মূলত, মুশরিকদেরকে শত্রু না ভাবা অথবা তাদেরকে বন্ধু মনে করা, তাদেরকে ভালো মনে করা সুস্পষ্ট কুফরী। কেননা, এতে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার আয়াত শরীফ অস্বীকার করা হয়।
ইতিহাস বলে, মুশরিকরা সাপের মত। এদেরকে যত দুধ-কলা দেয়া হোকনা কেন, এরা ছোবল দিবেই। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ইনসাফ এবং হাক্কুল ইবাদ আদায়ের বিষয়টি সারা কায়িনাতবাসীর জন্য উত্তম আদর্শ স্বরূপ। অথচ মুশরিক আবু লুলু উনার ইনসাফের ব্যাপারে প্রশ্ন করে এবং উনাকে শহীদ করার দুঃসাহস দেখায়। কাজেই, মুশরিকদের ব্যাপারে সাবধান। এ জাতিকে কখনোই বিশ্বাস করা যাবেনা। এদেরকে কখনোই আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া যাবেনা।
মহান আল্লাহ পাক মুসলমানদেরকে ছহীহ সমঝ দান করুন, শত্রুকে শত্রু ভাবার এবং তাদের ষড়যন্ত্র হতে বেচে থাকার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে