সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকট আরব মহিলা উনাদের সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ হওয়ার প্রস্তাব এবং উনার বেমেছাল পবিত্রতা মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ


আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আরবের হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ সম্ভ্রান্তশীলা মহিলা উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কপাল মুবারক-এ ‘নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ অবলোকন করে আশিকাহ হয়ে উনার সাথে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ হওয়ার জন্য বেকারার-পেরেশান হয়ে গিয়েছিলেন এবং উনার নিকট সরাসরি এই ব্যাপারে প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। এই জন্য উনারা উনাদের ধন-সম্পদসহ সমস্ত কিছু; এমনকি নিজেদের জীবন কুরবান করে দেয়ার জন্য সদা প্রস্তুত ছিলেন। উনারা বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। যখনই উনারা উনাকে দেখতেন, তখনই উনারা উনাদের প্রস্তাব পেশ করতেন, আরজি পেশ করতেন। ” সুবহানাল্লাহ! মূলত, সীরাতগ্রন্থগুলোতে এই বিষয়ে অনেক ঘটনা মুবারক উল্লেখ রয়েছে। যেমন ‘শরহুয যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, سيدنا حضرت عبد الله عليه السلام؛ لانه كان يتلألأ نورًا فى قريش وكان اجملهم فشغفت به نساؤهم وكدن ان تذهل عقولـهن. অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাঝে মহাসম্মানিত নূর মুবারক তথা নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জ্বলজ্বল করতেন এবং তিনি ছিলেন সম্মানিত কুরাইশ তথা সমগ্র কায়িনাতবাসীর মাঝে সর্বাধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! ফলে সম্মানিত কুরাইশী মহিলাগণ উনারা উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারক-এ অত্যন্ত কঠিনভাবে গরক্ব ছিলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে দেখে বিস্ময়াভিভূত হয়ে সম্মানিত কুরাইশী মহিলাগণ উনাদের আক্বল-বুদ্ধি লোপ পেয়ে যেতো। উনারা বেকারার পেরেশান হয়ে যেতেন এবং উনাকে পাওয়ার জন্য, উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক গ্রহণ করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতেন।” (শরহুয যারক্বানী ‘আলা মাওয়াহিব ১/২০৭, তারীখুল খমীস ১/৮২) কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে, قال اهل السير فلقى سيدنا حضرت عبد الله عليه السلام فى زمنه من النساء ما لقى حضرت يوسف عليه السلام فى زمنه من امرأة العزيز অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার যামানায় মহিলা উনাদের কর্তৃক তদ্রƒপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন, যেরূপ পরিস্থির সম্মুখীন হয়েছিলেন হযরত ইউসূফ আলাইহিস সালাম তিনি উনার যামানায় আযীযে মিছর উনার আহলিয়া তথা হযরত যুলায়খা আলাইহাস সালাম উনার কর্তৃক।” (শরহুয যারক্বানী ‘আলা মাওয়াহিব ১/২০৭, তারীখুল খমীস ১/৮২) আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইমামুল মুহাদ্দিছীন মিনাল আউওয়ালীনা ইলাল আখিরীন, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হযরত ইঊসুফ আলাইহিস সালাম উনাকে পাওয়ার জন্য তো শুধু একজন তথা হযরত যুলায়খা আলাইহাস সালাম তিনি বেকারার পেরেশান হয়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি উনার সমস্ত কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে পাওয়ার জন্য লক্ষ লক্ষ মহিলা বেকারার পেরেশান হয়ে গিয়েছিলেন এবং উনারা উনাদের সমস্ত কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। এমনকি তৎকালিন তথাকথিত পরাশক্তি রোম-পারস্য সম্রাটের পক্ষ থেকেও সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাদের মেয়েদের ব্যাপারে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ! মূলত, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সৌন্দর্য মুবারক উনার সাথে অন্য কারো সৌন্দর্য মুবারকের তুলনা হবে না। সুবহানাল্লাহ! তুলনা করাটা চরম আদবের খিলাফ হবে এবং কাট্টা কুফরী ও চিরজাহান্নামী হওয়ার কারণ হবে। এখানে ওই সম্মানিত হাদীছ শরীফখানাই প্রযোজ্য, যেই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ لَّا يُقَاسُ بِنَا اَحَدٌ. অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো তুলনা করা যাবে না।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী ৪/২৮৩, জামি‘উল আহাদীছ ২২/২১৯, কানজুল ‘উম্মাল ১২/১০৪, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৪৯৫০, যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ফী মানাক্বিবে যাওইল কুরবা লিমুহিব্বে ত্ববারী ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭ ইত্যাদি) আর মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে প্রথম স্তরে রয়েছেন সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি। তাহলে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত সৌন্দর্য মুবারক এবং উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! এক কথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী।” সুবহানাল্লাহ! কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, كَانَ سيدنا حضرت عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَلَيْهِما السَّلَامُ أَحْسَنَ رَجُلٍ رُؤِيَ قَطُّ خَرَجَ يَوْمًا عَلَى نِسَاءِ قُرَيْشٍ مُجْتَمِعَاتٍ فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ أَيَّتُكُنَّ تَتَزَوَّجُ بِهَذَا الْفَتَى فَتَصْطَبُّ النُّورَ الَّذِي بَيْنَ عَيْنَيْهِ فَإِنِّي أَرَى بَيْنَ عَيْنَيْهِ نُورًا وَفِىْ رِوَايَةٍ وَكَانَ بَيْنَ عَيْنَيْهِ نُورٌ অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বাধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী। উনার মত এরূপ সুদর্শন পুরুষ (কায়িনাতে) কখনও দেখা যেতো না। সুবহানাল্লাহ! একদা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত কুরাইশী মহিলা উনাদের একটি জামায়াতের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন মহিলা উনাদের মধ্য হতে একজন সবাইকে সম্বোধন করে বললেন, হে মহিলাগণ! আপনাদের মধ্যে কে আছেন যে এই সম্মানিত যুবক উনাকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ করবেন। (আপনারা কি চান যে এই সম্মানিত যুবক তিনি আপনাদের কাউকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ করেন।) অতঃপর উনার সম্মানিত কপাল মুবারক উনার মধ্যে যেই মহাসম্মানিত নূর মুবারক রয়েছেন, সেই মহাসম্মানিত নূর মুবারক উনাকে ধারণ করবেন। সুবহানাল্লাহ! কেননা নিশ্চয়ই আমি উনার সম্মানিত কপাল মুবারক-এ মহাসম্মানিত নূর মুবারক তথা নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখতে পাচ্ছি। সুবহানাল্লাহ! অপর বর্ণনায় রয়েছে, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কপাল মুবারক-এ তখন নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অবস্থান করছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/৩২৫, দালায়িলুন নুবুওওয়াহ লিল বাইহাক্বী ১/১৩৩, আবূ নাঈম, খছায়িছুল কুবরা ১/৭১, মুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক শরীফ ৫/৩১৩ ইত্যাদি) মূলত, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কপাল মুবারক-এ দায়িমীভাবে ‘নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনাকে দেখা যেতো। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে এই ‘মহাসম্মানিত নূর মুবারক’ লাভ করার জন্য আরবের সকল সম্ভ্রান্তশীলা মহিলাগণ উনারা উনাদের ধন-সম্পদসহ সমস্ত কিছু; এমনকি নিজেদের জীবনের বিনিময়ে হলেও সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ হওয়ার জন্য সদা প্রস্তুত ছিলেন। অসংখ্য মহিলাগণ উনারা ধন-সম্পদের দোহাই দিয়ে সরাসরি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ উনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সীরাতগ্রন্থগুলোতে এই বিষয়ে অনেক ওকেয়া মুবারক উল্লেখ রয়েছে। এক দিনের ঘটনা। ফাতিমা বিনতে র্মুর নামক এক ইহুদী মহিলা যিনি সম্মানিত তাওরাত শরীফ, ইনযীল শরীফ তথা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে অভিজ্ঞা ছিলেন। তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার কপাল মুবারক-এ ‘নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ দেখে সেই মহাসম্মানিত নূর মুবারক নিজের মধ্যে পাওয়ার জন্য, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক লাভের জন্য উনাকে প্রস্তাব পেশ করে বললেন যে, যদি আপনি এখন আমার সঙ্গে অবস্থান মুবারক করেন, তাহলে আমি আপনাকে একশত উট হাদিয়া করবো। যেমন, এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, قَدْ قَرَأَتِ الْكُتُبَ يُقَالَ لَهَا: فَاطِمَةُ بِنْتُ مُرٍّ الْخَثْعَمِيَّةُ فَرَأَتْ نُورَ النُّبُوَّةِ فِي وَجْهِ سيدنا حضرت عَبْدِ اللهِ عليه السلام فَقَالَتْ: يَا فَتَى هَلْ لَكَ أَنْ تَقَعَ عَلَيَّ الْآنَ وَأُعْطِيكَ مِائَةً مِنَ الْإِبِلِ. فَقَالَ سيدنا حضرت عَبْدِ اللَّهِ عليه السلام: أَمَّا الْحَرَامُ فَالْمَمَاتُ دُونَهْ … وَالْحِلُّ لَا حِلٌّ فَأَسْتَبِينَهْ فَكَيْفَ بِالْأَمْرِ الَّذِي تَبْغِينَهْ … يَحْمِي الْكَرِيمُ عِرْضَهُ وَدِينَهْ অর্থ: “তিনি পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব পড়েছেন। উনাকে ফাতিমা বিনতে র্মুর খছ‘আমিইয়্যাহ বলা হতো। তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কপাল মুবারক-এ ‘মহাসম্মানিত নূরুন নুবুওওয়াহ তথা নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ দেখতে পেলেন। অতঃপর উক্ত মহিলা তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে মহাসম্মানিত যুবক! আপনি কি এখন আমার সাথে অবস্থান মুবারক করবেন? তাহলে আমি আপনাকে একশত উট হাদিয়া মুবারক করবো। জবাবে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, أَمَّا الْحَرَامُ فَالْمَمَاتُ دُونَهْ … وَالْحِلُّ لَا حِلٌّ فَأَسْتَبِينَهْ فَكَيْفَ بِالْأَمْرِ الَّذِي تَبْغِينَهْ … يَحْمِي الْكَرِيمُ عِرْضَهُ وَدِينَهْ অর্থ: “এতো হারাম! আর হারাম গ্রহণ অপেক্ষা মৃত্যুই শ্রেয়। আমি তো বৈধ সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ উনার সন্ধান করছি। আর এমন কাজ মোটেও হালাল নয়, যা প্রকাশ করা যায় না। কিভাবে আমি আপনার আহ্বানে সাড়া দিবো? যে অবৈধ কাজে আপনি আগ্রহী তা আমার দ্বারা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। সম্ভ্রান্ত মানুষ তো নিজের মান-সম্মান ও দ্বীন রক্ষা করেন।” সুবহানাল্লাহ! (বিদায়াহ-নিহায়াহ, সীরাতুল মুস্তাফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এই জবাব মুবারক উনার থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তিনি কত বেমেছাল পবিত্র ছিলেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে উনার কতো বেমেছাল সম্মানিত তায়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক ছিলো। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে তিনি লক্ষ লক্ষ মহিলা উনাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। অথচ এটা ছিলো আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগ। মানুষ হালাল-হারাম বিবেচনা করতো না এবং ব্যভিচারে-পাপাচারে লিপ্ত হওয়া তাদের জন্য একটা স্বাভাবিক বিষয় ছিলো। অন্যদিকে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন কুরাইশ উনাদের সাইয়্যিদ, সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তারপরেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় অত্যন্ত শক্তভাবে জবাব দিয়ে দিলেন যে, أَمَّا الْحَرَامُ فَالْمَمَاتُ دُونَهْ … وَالْحِلُّ لَا حِلٌّ فَأَسْتَبِينَهْ فَكَيْفَ بِالْأَمْرِ الَّذِي تَبْغِينَهْ … يَحْمِي الْكَرِيمُ عِرْضَهُ وَدِينَهْ “এতো হারাম! আর হারাম গ্রহণ অপেক্ষা মৃত্যুই শ্রেয়। আমি তো বৈধ সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ উনার সন্ধান করছি। আর এমন কাজ মোটেও হালাল নয়, যা প্রকাশ করা যায় না। কিভাবে আমি আপনার আহ্বানে সাড়া দিবো? যে অবৈধ কাজে আপনি আগ্রহী তা আমার দ্বারা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। সম্ভ্রান্ত মানুষ তো নিজের মান-সম্মান ও দ্বীন রক্ষা করেন।” সুবহানাল্লাহ! তাহলে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি কতো বেমেছাল পবিত্রতা মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন, তা আর বলার অপেক্ষাই রাখেন। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি উনার জবাবে, এটাও বলেছেন যে, يَحْمِي الْكَرِيمُ عِرْضَهُ وَدِينَهْ “সম্ভ্রান্ত মানুষ তো নিজের মান-সম্মান ও দ্বীন রক্ষা করেন।” সুবহানাল্লাহ! তিনি উনার এই সম্মানিত বাক্য মুবারক উনার দ্বারা এটাই প্রমাণ করে দিলেন যে, তিনি একটি সম্মানিত দ্বীন উনার উপর রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! আর সেই সম্মানিত দ্বীন মুবারক হচ্ছেন ‘দ্বীনে হানীফ’। সুবহানাল্লাহ! আর প্রথমে যে তিনি বললেন, أَمَّا الْحَرَامُ فَالْمَمَاتُ دُونَهْ “এতো হারাম! আর হারাম গ্রহণ অপেক্ষা মৃত্যুই শ্রেয়।” তিনি এই কথা মুবারক দ্বারা এটাই প্রমাণ করে দিলেন যে, তিনি হারাম গ্রহণ করার চেয়ে মৃত্যুকে উত্তম মনে করেন। অর্থাৎ তিনি এটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হারাম থেকে বেঁচে থাকার জন্য যদি উনাকে বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করতে হয়, তাহলে তিনি সেটাই করবেন। তারপরেও তিনি কস্মিনকালেও হারাম গ্রহণ করবেন না। সুবহানাল্লাহ! উনার এই কথা মুবারক দ্বারা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তিনি কতো বেমেছাল পবিত্রতা মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন এবং সম্মানিত দ্বীন ও সম্মানিত ঈমান উনাদের উপর কতটুকু দায়িম-ক্বায়িম ও ইস্তিক্বামাত ছিলেন। যার কোনো মেছাল নেই। সুবহানাল্লাহ! তারপরেও কিভাবে উলামায়ে ‘সূ’রা, গ- মূর্খরা বলতে পারে যে, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ঈমানদার ছিলেন না। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! তিনি কুফরীর মধ্যে ইন্তেকাল করেছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! তিনি জাহান্নামী। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! মূলত, যারা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে এরূপ চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করে, কুফরী মূলক বক্তব্য পেশ করবে, সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার ফতওয়া অনুযায়ী তারা সবচেয়ে বড় কাট্টা কাফির, চিরজাহান্নামী, চির মাল‘ঊন। তারা যদি মুসলমান বা ঈমানদার দাবি করে, তাহলে তাদের উপর মুরতাদের হুকুম বর্তাবে এবং মুরতাদের শাস্তিও বর্তাবে এবং তাদের প্রাপ্য হলো চির লা’নত ও চির জাহান্নাম। আর যদি কাফির হয়, তাহলে তারা তাদের কুফরীকে আরো বৃদ্ধি করলো। তাদের শাস্তিও মৃত্যুদ-। তাদেরও প্রাপ্য হলো চির লা’নত ও চির জাহান্নাম। তারা ইবলিসের ন্যায়; বরং ইবলিসের চেয়েও চরম মাল‘ঊন। তাদের প্রত্যেককেই লা’নাতুল্লাহি আলাইহি বলা ফরয, ফরয এবং ফরয।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে