সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে আহাল হিসেবে না পাওয়ার কারণে দুঃখ-অনুতাপে দুই শত কুরাইশী মহিলা উনাদের ইন্তেকাল


হযরত ইমাম আল্লামা আবূ সা’দ আব্দুল মালিক ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম নীশাপুরী খরকূশী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ: ৪০৯ হিজরী) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘শরফুল মুস্ত¡ফা শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন, فلما ابتنى بها سيدنا حضرت عبد الله بن عبد المطلب عليه السلام مرض نساء قريش، ومات منهن مائتا امرأة أسفا على سيدنا حضرت عبد الله بن عبد المطلب عليهما السلام، অর্থ: “যখন সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আযীমুশ শান সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়, তখন কুরাইশ বংশীয় সমস্ত মহিলা উনারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমনকি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে (আহাল হিসেবে) না পাওয়ার দুঃখ-অনুতাপে দুইশত কুরাইশী মহিলা ইন্তেকাল করেন।” সুবহানাল্লাহ! (শরফুল মুস্ত¡ফা শরীফ ১/৩৪৭) আবূ আব্দিল্লাহ মুহম্মদ ইবনে আব্দুল বাক্বী ইবনে ইঊসুফ ইবনে আহমদ ইবনে শিহাবুদ্দীন ইবনে মুহম্মদ যারক্বানী মালিকী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (বিছাল শরীফ : ১১২২ হিজরী শরীফ) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘শরহুয যারক্বানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়্যাহ বিল মানহিল মুহম্মদিয়্যাহ শরীফ উনার ১ম খ-ের ১৯৩ পৃষ্ঠায়’ উল্লেখ করেন, وقد روي عن حضرت العباس عليه السلام أنه لما بنى سيدنا حضرت عبد الله بـحضرت آمنة عليها السلام أحصوا مائتي امرأة من بني مخزوم وبني عبد مناف متن ولم يتزوجن أسفًا على ما فاتهن من سيدنا حضرت عبد الله عليه السلام، وأنه لم تبق امرأة في قريش إلا مرضت ليلة دخل سيدنا حضرت عبد الله عليه السلام بسيدتنا حضرت آمنة عليها السلام. অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে। যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার আযীমুশ শান সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন গণনা করে দেখা গেছে যে, বনূ মাখযূম এবং বনূ আবদে মানাফ এই দুই সম্প্রদায় থেকে দুইশত মহিলা দুঃখ-অনুতাপে (হার্ট ফেইল করে) ইন্তেকাল করেন। কারণ তারা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ হতে না পেরে এক মহাসম্মানিত নিয়ামত মুবারক হাতছাড়া করেছেন। (অর্থাৎ উনারা নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে লাভ করতে পারেননি।) আর যেই রাত সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশেষ ছোহবত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন, সেই রাতে কুরাইশ বংশীয় সকল মহিলাগণ উনারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।” ‘তারীখুল খমীস শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, فليلة بنى سيدنا حضرت عبد الله عليه السلام بها لم تبق امرأة فى قريش الا مرضت قال عبد الله بن عباس عن أبيه عباس ان ليلة بنى سيدنا حضرت عبد الله عليه السلام بسيدتنا حضرت آمنة عليها السلام أحصينا مائتى امرأة من بنى مخزوم وعبد شمس وعبد مناف متن وخرجن من الدنيا ولم يتزوّجن أسفا على ما فاتهنّ من سيدنا حضرت عبد الله عليه السلام অর্থ: “যেই রাতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার আযীমুশ শান সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ প্রতিষ্ঠিত হয়, সেই রাতে কুরাইশ বংশীয় সমস্ত মহিলাগণ উনারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেন, যেই রাতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার আযীমুশ শান সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ প্রতিষ্ঠিত হয়, আমরা গণনা করেছি বনূ মাখযূম, বনূ আবদে শামস এবং বনূ আবদে মানাফ গোত্র থেকে দুই শত মহিলা ইন্তেকাল করেছেন, দুনিয়ার যমীন থেকে বিদায় নিয়েছেন। এই দুঃখ-অনুতাপে যে, উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ হতে না পেরে এক বিশেষ সম্মানিত নিয়ামত মুবারক হাতছাড়া করেছেন। (অর্থাৎ তারা নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে লাভ করতে পারেননি।)” (তারীখুল খমীস শরীফ ১/১৮৪-১৮৫) এখন বলার বিষয় হচ্ছে দুই বা তিন গোত্র থেকে যদি দুই শত মহিলা ইন্তেকাল করেন, তাহলে অন্যান্য গোত্র এবং সারা পৃথিবী থেকে কতো মহিলা ইন্তেকাল করেছেন, সেটা চিন্ত-ফিকিরের বিষয়। সুবহানাল্লাহ! আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ছাহিবু ইলমিল আউওয়ালি ওয়াল ইলমিল আখিরি, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি সেই বিষয়টিই স্পষ্ট করে দিয়ে ইরশাদ মুবারক করেছেন, “কিতাবে যদিও বলা হয়েছে যে, দুই শত মহিলা ইন্তেকাল করেছেন, প্রকৃতপক্ষে হাজার হাজার মহিলা ইন্তেকাল করেছেন এবং লক্ষ লক্ষ মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! তাহলে এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি কতো বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন এবং তিনি সারা পৃথিবীতে কতো বেমেছাল সম্মান মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! মূলত, পৃথিবীর ইতিহাসে এটাই একটি বিরল ঘটনা মুবারক যে, একজনের সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ হওয়ার পর উনাকে না পাওয়ার কারণে লক্ষ লক্ষ মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং হাজার হাজার মহিলা ইন্তেকাল করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এই ঘটনা মুবারক দ্বারা মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত জিন-ইনসান ও তামাম কায়িনাতবাসীকে এই বিষয়টিই স্পষ্টভাবে শিক্ষা দিয়েছেন যে, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি কায়িনাতের বুকে একক খুছূছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! উনার সাথে সৃষ্টি জগতের কারো তুলনা করা যাবে না। সুবহানাল্লাহ! এক কথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ!

 

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে