সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উদযাপন বিশ্ববাসীর জন্য সবচেয়ে বড় ঈদ এবং নাজাতের উত্তম উসীলা


খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি উম্মতদেরকে বলে দিন মহান আল্লাহ পাক উনার ফযল ও রহমত লাভ করার কারণে তারা যেন আনন্দ, খুশি প্রকাশ করে।” (পবিত্র সূরা ইউনূছ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৮)

সমস্ত সৃষ্টিকূলের জন্য তিনি রহমতুল্লিল আলামীন। রহমত, বরকত, সাকিনা, ফযল-করম তিনি সৃষ্টির মূল কেন্দ্র উসীলার উসীলা। খুশির খুশি, শ্রেষ্ঠ খুশি, মহান খুশীর ঈদ ওই পবিত্র ঈদের খুশিতে আছে যে তাই নাযাতের নীদ। যে পবিত্র ঈদের খুশিতে জিন-ইনসান, ফেরেশতা, আরশ-কুরছীসহ সমস্ত কুল-কায়িনাত অতি আনন্দে আত্মহারা-মাতোয়ারা। স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক এবং হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা অবিরত সালাত-ছালাম পাঠে মশগুল। যিনি সৃষ্টির মূল, যাঁহাকে সৃষ্টি করা না হলে কোনো কিছুই সৃষ্টি হতো না। তিনি হচ্ছেন- হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সর্বপ্রথম সৃষ্টি এবং দুনিয়াতে আগমন শেষ নবী হিসেবে। নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হতেই আরশ কুরছি, লওহো-কলম, চন্দ্র-সূর্য, আসমান-যমীন, মানব ম-লী, জিন-ফেরেশতা, সাগর-পাহাড়, গ্রহ-নক্ষত্র সৃষ্টি হয়েছে। যাঁহার প্রেমে সকল সৃষ্টি মাতোয়ারা মুহব্বতের বিভোরে ডুবে যেতে ব্যাকুল। তিনি যখন দুনিয়ায় আগমন করেন উনাকে সবাই একান্ত নিজের করে পাওয়া সৌভাগ্য মনে করেছেন। প্রথম বসন্তকালের পবিত্র ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার ছুবহে ছাদিকের সময় সমগ্র বিশ্বজগৎ কাঁপিয়ে পবিত্র মক্কা শরীফ উনার বিখ্যাত কুরাইশ বংশে তাশরীফ আনেন। বিশ্বের সকল সিংহাসন কেঁপে উঠলো আর পবিত্র মক্কা শরীফসহ দুনিয়ার সমস্ত মূর্তিগুলি আপনা আপনি ভেঙে চূরমার হয়ে গেল। পারস্যের শত বছরের প্রজ্জ্বলিত অগ্নিকু-লী ধপ করে নিভে গেলো। রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ হলো, সুশীতল বাতাস প্রবাহিত হলো, পবিত্র মক্কা শরীফ হতে বসরা-ইয়েমেনসহ সমগ্র আরব জাহান নূরের আলোতে আলোকিত হলো, দুঃখ-বেদনা দূরীভূত হলো। অবারিত রহমত বরকত বর্ষিত হলো। সৃষ্টিকুল নবজীবন ফিরে পেল। আনন্দের ধারা প্রবাহিত হলো সেই শ্রেষ্ঠ ঈদ পেয়ে। হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন প্রাক্কালে জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হলো, শয়তান শৃঙ্খলাবদ্ধ হলো বিপরীতে জান্নাত সুসজ্জিত করা হলো ফিরিশতা হুর-গেলমানদের নব উদ্যমে ঝলমলে নতুন জরীর পোশাক পরানো হলো। সর্বত্র আনন্দের জোয়ার বইতে থাকলো। সে কি যে খুশি-আনন্দ তা ভাষায় প্রকাশ করা সাধ্যাতীত। আর তাইতো ইহাই সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ বা খুশির দিন।

সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার প্রতি বিশেষ মর্যাদা প্রদান করলো ও পাঠ করলো সে ব্যক্তি অবশ্যই পবিত্র ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে এবং বিনা হিসাবে পবিত্র জান্নাতে প্রবেশ করবে। সুবহানাল্লাহ!

বর্তমান পঞ্চদশ হিজরী শতকের সুমহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আযম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সুমহান শ্রেষ্ঠ তাজদীদ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আযম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যথাসাধ্য সর্বোচ্চ মর্যাদায় উদযাপন করে উভয় জাহানের কল্যাণ-কামিয়াবী ও নাজাত লাভ করি। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তাওফীক দান করুন। (আমিন)

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে