সাইয়্যিদুল আউলিয়া গাউছুল আ’যম দস্তগীর সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানিত বুযূর্গ পিতা তিনি হালাল খাদ্য গ্রহণের অনুপম দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন


আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বুযূর্গ পিতা আওলাদে রসূল হযরত আবু ছালেহ মুসা জঙ্গীদোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে, তিনি যখন যুবক ছিলেন তখন একদিন জিহাদ থেকে বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করা কালে ক্ষুধার্ত অবস্থায় দজলা নদীর তীর দিয়ে যাচ্ছিলেন। দজলা নদীর মধ্যে একটি আপেল ফল ভাসমান অবস্থায় দেখে ক্ষুধার তাড়নায় তা খেয়ে ফেললেন। তিনি রাত্রে বিছানায় শুয়ে চিন্তা করতে লাগলেন: আপেল ফল খাওয়াটা কতটুকু জায়িয হলো? যদিও পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার মাসয়ালা হলো, কোনো ব্যক্তি যদি তিন দিন না খেয়ে থাকে তখন তার জন্য জরুরত আন্দাজ হারামটা মুবাহ হয়ে যায়। এ থেকেই বুঝা যায় যে, উনি হালাল খাদ্যের প্রতি কতটা দৃঢ় ছিলেন। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, ‘এক পয়সা হারাম খেলে চল্লিশ দিন ইবাদত কবুল হয় না।’ আর পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “হে মানুষেরা তোমরা যমীনে হালাল খাদ্য খাও। এক্ষেত্রে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।”

অতঃপর আওলাদে রসূল হযরত আবু ছালেহ মুসা জঙ্গীদোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পরদিন সকালে দজলা নদীর তীর দিয়ে হাঁটতে লাগলেন, যেদিক থেকে আপেল ফলটি ভেসে এসেছিল সেদিকে। কিছুদূর যাবার পর তিনি দেখলেন, নদীর কিনারায় একটি আপেল ফলের বাগান। বাগানের কয়েকটি গাছ নদীর কিনারে এবং উক্ত গাছসমূহের কিছু ডালা ফলসহ নদীর উপর ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে এবং তার কিছু ফল পানিতে ভেসে আছে। তখন তিনি নিশ্চিত হলেন যে, নিশ্চয়ই আমি এই বাগানের গাছেরই ফল খেয়েছি।
অতঃপর তিনি সে বাগানে গেলেন। বাগানের মালীর সহিত দেখা হয়। তিনি বাগানের মালিকের সাথে সাক্ষাৎ করার কথা জানালে মালী বললো, মালিক বাহিরে কোথাও আছেন। তিনি বাড়িতে আসলে আপনার সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিবো, অত:পর বাগানের মালিক আওলাদে রসূল হযরত আব্দুল্লাহ সাওমায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাক্ষাতে এসে আওলাদে রসূল হযরত আবু ছালেহ মুসা জঙ্গীদোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, হুযূর! আমি না বলে আপনার বাগানের একটি আপেল ফল ক্ষুধার তাড়নায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় পেয়ে খেয়ে ফেলেছি। এখন আমি তার মূল্য পরিশোধ করতে এসেছি।
একথা শুনার পর আওলাদে রসূল সাইয়্যিদ হযরত আব্দুল্লাহ সাওমায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আশ্চর্য হলেন এবং মনে মনে ভাবলেন, কতো লোকই তো আমার বাগানের কত ফল খেয়ে থাকে কিন্তু কেউই এ পর্যন্ত দাম দিতে আসেনি। নিশ্চয়ই এ যুবক একজন ওলীআল্লাহ হবেন। বাগানের মালিক জিজ্ঞেস করলেন, আপনার নিকট কত দিরহাম আছে? উত্তরে হযরত আবু ছালেহ মুসা জঙ্গীদোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আমার কাছে দিরহাম থাকলে তো আপনার ফলই খেতাম না। পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে কি দিয়ে মূল্য পরিশোধ করবেন? তিনি বললেন, আপনার বাগানে কিছু কাজ করে মূল্য পরিশোধ করতে চাই। বাগানের মালিক বললেন, বেশ তাহলে কাজ করতে থাকুন। তিনি কাজ করে মূল্য পরিশোধ করে দিলেন।
এ থেকে বুঝা যায় যে, হযরত আবু ছালেহ মুসা জঙ্গীদোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি খাদ্য গ্রহণের ব্যাপারে কতটুকু তাহক্বীক্ব ও সতর্কতা অবলম্বন করতেন। এমন বুযূর্গ পিতার ঘরেই আগমন করেন সাইয়্যিদুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি। অতএব, কোনো পিতা যদি নেক বা আল্লাহওয়ালা সন্তান চায়, তার উচিত হালাল খাদ্য গ্রহণ করা।

Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে