সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনার মুহব্বতকারীগণ জান্নাতী এবং বিদ্বেষকারীরা জাহান্নামী


কুল-মাখলুক্বাতের নবী ও রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম, সম্মানিত, নূরানী আহাল-ইয়াল, পরিবার-পরিজন উনারাই হচ্ছেন ‘আহলু বাইত’ উনাদের অন্তর্ভুক্ত। হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রথম সারির অন্তর্ভুক্ত হলেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহা সম্মানিত হযরত আব্বাও হযরত আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা আর তৃতীয় সাবির অন্তর্ভুক্ত হলেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম এবং দ্বিতীয় সারির অন্তর্ভুক্ত হলেন আওলাদু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা।
স্মরণীয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন শারি’ বা শরীয়ত উনার প্রবর্তক অর্থাৎ তিনি যা বলেন তাই শরীয়ত। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
الشريعة اقوالى
অর্থ: “আমার কথা মুবারকই শরীয়ত।”
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মর্যাদা সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে অসংখ্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে এবং অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে।
পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ উনার ৩৩নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
اِنَّـمَا يُرِ‌يْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الر‌جْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهّرَ‌كُمْ تَطْهِيْرً‌ا
অর্থ: “হে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম! মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা হলো যে, আপনাদের থেকে সকল অপবিত্রতা দূরীভূত করবেন এবং আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করবেন।”
অর্থাৎ পবিত্র আয়াত শরীফখানা উনার প্রকৃত অর্থ হলো, মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পূত-পবিত্র করেই সৃষ্টি করেছেন। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
انا واهل بيتى مطهرون من الذنوب
অর্থ: “আমি এবং আমার আহলু বাইত আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই পাপ থেকে পবিত্র।”
মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
قُل لَّا اَسْاَلُكُمْ عَلَيْهِ اَجْرً‌ا اِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْ‌بٰى ۗ
অর্থ: “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি জানিয়ে দিন, আমি তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাচ্ছি না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভব নয়। তবে তোমরা যদি ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও; তাহলে তোমাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়া।” (পবিত্র সূরা শুরা: আয়াত শরীফ ২৩)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قل قال رسول الله صلى الله عليه وسلم احبوا الله لـما يعذوكم من نعمة واحبونى لـحب الله واحبوا اهل بيتى لـحبى.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক উনাকে তোমরা মুহব্বত করো; কেননা তিনি খাওয়া-পরার মাধ্যমে অনুগ্রহ করে থাকেন। আর আমাকে তোমরা মুহব্বত করো, মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত হাছিলের জন্য। আর আমার আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে তোমরা মুহব্বত করো আমার মুহব্বত হাছিলের জন্য।” (তিরমিযী শরীফ)
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের একটি মর্যাদা মুবারক হলো উনাদের উপর ছলাত ও সালাম পাঠ করা ওয়াজিব। পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
اِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِيّ ۚ يَا اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا صَلُّوْا عَلَيْهِ وَسَلّمُوْا تَسْلِيْمًا

অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম উনার প্রতি ছলাত পাঠ করেন। হে ঈমানদারগণ! আপনারাও উনার প্রতি ছলাত পাঠ করুন এবং সালাম পেশ করুন যথাযথ সম্মানের সাথে।” (পবিত্র সূরা আহযাব: আয়াত শরীফ ৫৬)
ছাহাবী হযরত কা’বা ইবনে উজরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, উদ্ধৃত পবিত্র আয়াত শরীফখানা নাযিল হওয়ার পর আমরা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমীপে আরজ করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি আমরা কিভাবে ছলাত পাঠ করবো তা আমাদেরকে শিক্ষা দিন, তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-
اللهم صل على سيدنا مـحمد وعلى ال سيدنا مـحمد كما صليت على سيدنا ابراهيم وعلى ال سيدنا ابرا هيم انك حـميد مـجيد. اللهم بارك على سيدنا مـحمد وعلى ال سيذنا مـحمد كما باركت على سيدنا ابراهم وعلى ال سيدنا ابراهيم انك حـميد مـجيد.
অর্থ: “হে মহান আল্লাহ পাক! আপনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি এবং উনার সম্মানিত পরিবার-পরিজন উনাদের প্রতি রহমত মুবারক নাযিল করুন, যেভাবে রহমত নাযিল করেছেন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার প্রতি এবং উনার পরিবার-পরিজন উনাদের প্রতি। নিশ্চয়ই আপনি পরম প্রশংসিত ও সম্মানিত। হে মহান আল্লাহ পাক! আপনি বরকত নাযিল করুন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি এবং উনার সম্মানিত পরিবার-পরিজন উনাদের প্রতি, যেভাবে আপনি বরকত নাযিল করেছেন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার প্রতি এবং উনার সম্মানিত পরিবার-পরিজন উনাদের প্রতি। নিশ্চয়ই আপনি পরম প্রশংসিত ও সম্মানিত।”
স্মরণীয় যে, এ পবিত্র দুরূদ শরীফখানা নামাযে তাশাহুদের পর পড়ার জন্য সাব্যস্ত হয়েছে। তাশাহুদের সালামের কারণে এ পবিত্র দুরূদ শরীফখানা উনার মধ্যে সালামের বিষয়টি উল্লেখ নেই। তাই নামাযের বাইরে এ দুরূদখানা পড়া মাকরূহ। মূল কথা হলো, বর্ণিত পবিত্র দুরূদ শরীফখানা উনার মধ্যে ال سيدنا مـحمد দ্বারা হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা হযরত আযওয়াজ- আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালাম এবং সম্মানিত আল-আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপর পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ না করা পর্যন্ত নামাযও পরিপূর্ণরূপে আদায় হবে না।
প্রতীয়মান হলো যে, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে এত উর্ধ্বে যে, উনাদের উপর দুরূদ শরীফ পাঠই বান্দার ইবাদত পরিপূর্ণ ও কবুল হওয়ার জন্য একমাত্র উসীলা।
ছাহাবী হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনাদের মধ্যবর্তী খোম নামক পানির নালার নিকট দাঁড়িয়ে আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদান করলেন। প্রথমে মহান আল্লাহ পাক উনার হামদ ও ছানা বর্ণনা করলেন, এরপর ওয়াজ ও নছীহত মুবারক করলেন অতঃপর বললেন, সাবধান! হে মানুষেরা! নিশ্চয়ই আমি হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অতিসত্বর আমার নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার দূত (হযরত মালাকুল মউত আলাইহিস সালাম) আসবেন, তখন আমি আমার রব তায়ালা উনার আহ্বানে সাড়া দিব। আমি তোমাদের মাঝে দু’টি মূল্যবান নিয়ামত রেখে যাচ্ছি। তন্মধ্যে প্রথমটি হলো, মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব, উনার মধ্যে রয়েছে হিদায়েত ও নূর। অতএব তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব মুবারক উনাকে মুজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো এবং দৃঢ়তার সাথে উনার বিধি-বিধান মেনে চলো। (বর্ণনাকারী বলেন,) মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব মুবাকর উনার নির্দেশাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য তিনি খুব বেশি উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করলেন। অতঃপর বললেন, দ্বিতীয়টি হলো, আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমি তোমাদেরকে আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে বিশেষভাবে নছীহত মুবারক করছি। আমি তোমাদেরকে আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে বিশেষভাবে নছীহত মুবারক করছি। (মুসলিম শরীফ)
হযরত আবু যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কা’বা শরীফ উনার দরজা মুবারক ধরে বলতে শুনেছি যে, সাবধান! আমার আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হলেন তোমাদের জন্য হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিশতীর ন্যায়। যে তাতে আরোহন করবে, সে রক্ষা পাবে আর যে তা হতে পশ্চাতে থাকবে, সেই ধ্বংস হয়ে যাবে। (আহমদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)
অর্থাৎ হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বতকারীগণ সকলে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে আর উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীরা জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে