সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পেয়ে কুল-কায়িনাতের তামাম মাখলুকাত ধন্য


কবি কতই না উত্তম কথা বলেছেন-
ধন্য যমীন ধন্য আসমান,
ধন্য সারা কায়িনাত
তোমরা সবে পেয়েছো গো
সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ।

কবি সত্য কথাই বলেছেন যে, সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পেয়ে আসমান-যমীন সারা কায়িনাত ধন্য হয়েছে।
ঈদ অর্থ- আনন্দ, খুশি প্রকাশ করা ইত্যাদি। মীলাদুন্ নবী অর্থ নবী তথা আখেরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ। তাহলে ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অর্থ হল- আখেরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করা। আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন গুপ্তভাণ্ডার ছিলেন, তখন কোন কিছুই ছিল না। অতঃপর আল্লাহ্ রব্বুল আলামীন ইজ্জতের যখন মুহব্বত হল নিজেকে প্রকাশ করার তখন তিনি নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারককে মুহব্বত করে সৃষ্টি করলেন। নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ পাক এর সর্ব প্রথম সৃষ্টি। এই নূর মুবারক থেকেই আল্লাহ পাক আরশ-কুর্সী, লাওহ-কলম, জ্বিন-ইনসান, আসমান-যমীন, ফেরেশতা, গাছ-পালা, তরুলতা তথা কুল-কায়িনাতের সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হাবীবুল্লাহ হিসেবেই সৃষ্টি করেছেন। স্বয়ং আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আশিক, মুহিব আর আল্লাহ পাক-এর হাবীব হচ্ছেন, আল্লাহ পাক-এর মাশুক্ব হাবীব। (সুবহানাল্লাহ) 

মূলতঃ জ্বিন ইনসানের মধ্যে যারা জাহান্নামী, বদ নছীবের অধিকারী, বদকার তারা ব্যতীত কুল-কায়িনাতের সবাই আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম, হাবীব্ল্লুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আশিক্ব, মুহিব, তাই কুল-কায়িনাতের সবাই আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দীদারের জন্য বেকারার ছিল। আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীনের নিকট সবাই আরজী করেছিল। ‘আয় আল্লাহ পাক, আপনি আপনার হাবীব, নবীগণের নবী, রসূলগণের রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দীদার আমাদের নছীব করে আমাদেরকে ধন্য করুন।’ আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন সদয় হয়ে তাদের দোআ কবুল করলেন। উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’কে ১২ মাহে রবিউল আউয়াল শরীফ সোমবার শরীফে এই দুনিয়াতে প্রেরণ করলেন।

হাদীছ শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত মা আমিনা আলাইহাস সালাম বলেছেন, আল্লাহ্ পাক- উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতে তাশরীফ আনার পর পরই কিছুক্ষণের জন্য গায়েব হয়ে যান। আল্লাহ্ পাক উনার হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরবর্তীতে বলেছেন, তিনি যে কিছুক্ষণের জন্য গায়েব হয়ে গিয়েছিলেন। তখন আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন কুদরতীভাবে সমস্ত কুল-কায়িনাতকে আল্লাহ পাক উনার হাবীবের দীদার দানে ধন্য করেছেন। (সুবহানাল্লাহ) কুল-কায়িনাত তামাম মাখলুকাত এই দীদার লাভ করে নিজেকে ধন্য করে নিলেন। নিজের মর্যাদা-মর্তবাকে বুলন্দ করে নিলেন। সে জন্যই মিরাজ শরীফে আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম উনার দীদার লাভে হয়েছিল ধন্য স্বয়ং আল্লাহ পাক উনার আরশ তথা আরশে আযীমও। আরশে আ’যীম ব্যাকুল হয়ে নিজেকে আরও ধন্য করার জন্য, মর্যাদা-মর্তবা সম্পন্ন করার জন্য হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার না’লাঈন শরীফের ধুলো মুবারকের পরশ পাওয়ার জন্য আল্লাহ পাক এর নিকট আরজী পেশ করেছিলেন। (সুবহানাল্লাহ)

সুতরাং এই কথা এখন সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়ে গেল যে, আখেরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফের দিবস তথা সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, ঈদে আকবর, পবিত্র ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পেয়ে কুল-কায়িনাতের তামাম মাখলুকাত ধন্য।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+