সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের সম্মানিত ফাযায়িল ফযিলত।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের সম্মানিত ফাযায়িল ফযিলত।
********************************************************************
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি অতি বিস্ময়কর বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
كان حَضْرَتْ عبد الله بن عبد المطلب عليهما السلام أحسن رجل رئي قط
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বাধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী।” সুবহানাল্লাহ! (ইমতা’ ৪/৪১)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
أن حَضْرَتْ عبد الله بن عبد المطلب عليهما السلام كان يرى بين عينيه نور النبوة
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কপাল মুবারক উনার মাঝখানে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার মহাসম্মানিত নূর মুবারক তথা ‘নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনাকে দেখা যেতো।” সুবহানাল্লাহ! (ইমতা’ ৪/৩৪)
 
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সম্মানিত সৌন্দর্য মুবারক ও শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সম্মানিত সৌন্দর্য মুবারক ও শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক সম্পর্কে ‘আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে,
فقال سيدنا حضرت عبد الله عليه السلام لامه عليها السلام اريد منك ان تـخطبى لى امراة ذات حسن وجمال وقد واعتدال وبـهاء وكمال وحسب ونسب عال قالت حبا وكرامة يا ولدى ثـم انـها دارت احياء قريش وبنات العرب فلم يعجبها الا امنة بنت وهب عليها السلام فقال يا اماه انظريها مرة ثانية فمضب ونظرتـها فاذا هى تضىء كانـها كوكب درى
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আমার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম, আমি আশা করি, আপনি আমার পক্ষ থেকে এমন একজন মহাসম্মানিতা মহিলা উনার কাছে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ উনার বিষয়ে প্রস্তাব মুবারক দিবেন, যিনি হবেন সর্বশ্রেষ্ঠা, সর্বোত্তম চরিত্র মুবারক উনার অধিকারিণী, অতি উত্তম জিসম মুবারক উনার অধিকারিণী, সুদর্শনা, ন্যায়পরায়ণী, উজ্জ্বল দীপ্তিময়ী, সর্বদিক থেকে পরিপূর্ণতার অধিকারিণী, বেমেছাল মান-সম্মান-ইজ্জত মুবারক উনার অধিকারিণী, সর্বশ্রেষ্ঠা ও সুউচ্চ বংশীয়া। উনার মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম উত্তরে বললেন, হে আমার সম্মানিত স্নেহের আওলাদ আলাইহিস সালাম! আপনার জন্য মুহব্বত ও সম্মান-ইজ্জত। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত কুরাইশ বংশ উনার ও আরবের সকল গোত্রের সমস্ত কুমারী মহিলাগণ উনাদের ব্যাপারে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সংবাদ নিলেন। কিন্তু তিনি একমাত্র সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ব্যতীত অন্য কাউকে উপরোক্ত সমস্ত গুণাবলী মুবারক উনাদের অধিকারিণী পেলেন না। সুবহানাল্লাহ!
‘নিহায়াতুল ঈজাযে’ বর্ণিত রয়েছে,
سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ اٰمِنَةُعَلَيْهَا السَّلَامُ اَفْضَلُ امْرَأَةٍ فِىْ قُرَيْشٍ حَسَبًا وَّنَسَبًا وَّجَمَالًا
অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন কুরাইশ বংশীয় তথা কায়িনাতের সকল মহিলাদের মধ্যে মান, মর্যাদা, সম্মান, বংশ ও সৌন্দর্যগত দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠা।” সুবহানাল্লাহ!
 
বিভিন্ন দিক থেকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ উনার প্রস্তাব মুবারক এবং অস্বীকৃতি মুবারক জ্ঞাপন
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
وَقَدْ كَانَ خَطَبَهَا اَشْرَافُ قُرَيْشٍ وَّكَانَتْ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْاٰمِنَةُعَلَيْهَا السَّلَامُ تأبى ذلك
অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কুরাইশ বংশের অভিজাত ব্যক্তিবর্গ সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ উনার বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলো; কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করেন।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খমীস শরীফ ১/৮২)
এমনকি কথিত রোম-পারস্য সম্রাটদের পক্ষ থেকেও উনার নিকট সম্মানিত প্রস্তাবনা এসেছে। কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
 
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ عَلِيٍّ عليه السلام قَالَ اِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ خَرَجْتُ مِنْ نِكاحٍ ولم اخْرُجْ مِنْ سِفاحٍ مِنْ لَدُنْ اٰدَمَ الى اَنْ وَلَدَنِـىْ ابِى وامِّى لَمْ يُصِبْنِـىْ مِنْ سِفاحِ الجاهِلِيَّةِ شَىءٌ ما ولدنى الا نكاح كنكاح الاسلام.
অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি সর্বোত্তম বিশুদ্ধ সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ (ছহীহ নিকাহ বা শাদী মুবারক) উনার মাধ্যমে মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছি; কস্মিনকালেও এর ব্যতিক্রমটি ঘটেনি। সুবহানাল্লাহ! আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার থেকে শুরু করে আমার মহাসম্মানিত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের পর্যন্ত আমি যেই সকল সুমহান ব্যক্তিত্ব ও ব্যক্তিত্বা মুবারক উনাদের মাঝে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেছি, উনারা প্রত্যেকেই উনাদের সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন সর্বোত্তম বিশুদ্ধ সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ (ছহীহ নিকাহ বা শাদী মুবারক) উনার মাধ্যমে। যাতে জাহিলী যুগের কোনো অপকর্ম কস্মিনকালেও স্পর্শ করেনি। আমি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সম্মানিত পবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ উনার ন্যায় সম্মানিত পবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ উনার মাধ্যমে মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছি।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল আওসাত্ব লিত ত্ববারনী ৫/৮০, আল বাদরুল মুনীর ৭/৬৩৭, আল মাত্বালিবুল আলীয়াহ ১৭/১৯৮, মাজমাউয যাওয়াইদ ৮/১৪৯, আল জামিউছ ছগীর ১/৩৬৪, আল ফাতহুল কাবীর ২/৮২, দায়লামী শরীফ ২/১৯০, জামিউল আহাদীছ ৯/৪৯৮, আল খছাইছুল কুবরা ১/৬৫, সীরাতে হালবিয়্যাহ ১/৬৮, দালাইলুন নুবুওওয়াহ লিআবী নাঈম ১/১৯, সুবুলুলহুদা ওয়ার রশাদ ১/২৩৭)
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে