সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।
********************************************************************
النَّبِيُّ أَوْلَىٰ بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ ۖ وَأَزْوَاجُهُ أُمَّهَاتُهُمْ ۗ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মু’মিনগণ উনাদের নিকট উনাদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয় এবং উনার পূতঃপবিত্রা মহাসম্মানিতা আযওয়াজ আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন মুমিনগণ উনাদের মাতা অর্থাৎ উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)

পূর্ব প্রকাশিতের পর —
*********************
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশ ও এতদসম্পর্কিত মু’জিযা শরীফ
উল্লেখ্য যে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সীনা মুবারক চাক করা হয় ৪ বার। প্রথমবার যখন তিনি স্বীয় দুধমাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত হালীমাতুস সা’দিয়া আলাইহাস সালাম উনার লালন-পালনে; তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বয়স মুবারক ছিলো তিন থেকে পাঁচ বছর। দ্বিতীয়বার দশ থেকে চৌদ্দ বছর বয়স মুবারকে, তৃতীয়বার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত শরীফ প্রকাশের সময় ‘হিরা গুহায়’ এবং চতুর্থবার মি’রাজ শরীফ-এর রাত্রি মুবারকে পবিত্র কা’বা শরীফ-এ।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন,
الم نشرح لك صدرك
অর্থ: “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি কি আপনার বক্ষ মুবারক প্রশস্ত (চাক) করিনি? অর্থাৎ আমি আপনার বক্ষ (সিনা) মুবারক চাক করেছি।” (সূরা আলাম নাশরাহ : আয়াত শরীফ ১)
মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সত্য স্বপ্ন দেখতেন; যা দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেতো এবং বাস্তবে পরিণত হতো।
এ সম্পর্কে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-
أخرج حضرت ابو نعيم رحمة الله عليه عن حضرت على بن الحسين عليه السلام قال إن اول ما أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم الرؤيا الصالحة فكان لا يرى شيأ فى المنام إلا كان كما رأى.
অর্থ: “হযরত আবূ নায়ীম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আলী আওসাত যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম ইবনে হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই (আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত প্রকাশের আগে) সর্বপ্রথম নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট সত্য স্বপ্ন মুবারক আসতে থাকে। তিনি উনার স্বপ্ন মুবারকে যা কিছু দেখতেন তা, হুবহু তেমনিভাবে প্রকাশ পেত। অর্থাৎ এই স্বপ্ন মুবারকে কোনো প্রকার অস্পষ্টতা ছিলো না। সুবহানাল্লাহ! (খছায়িছুল কুবরা ১ম জিলদ ১৫৭ পৃষ্ঠা)
হাদীছ শীফ-এ আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
أخرج حضرت ابو نعيم رحمة الله عليه عن حضرت علقمة بن قيس رضى الله تعالى عنه قال إن أول ما يؤتى به الأنبياء فى المنام حتى تهدأ قلوبهم ثم ينزل الوحى بعد.
অর্থ: “হযরত আবূ নায়ীম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত মূসা ইবনে আলকামা ইবনে কায়িস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই (আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত প্রকাশের আগে) সর্বপ্রথম হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিকট যে বিষয়টা আসত তা হচ্ছে সত্য স্বপ্ন মুবারক। এতে উনাদের ক্বলব মুবারক ইতমিনান হতো। এরপর প্রকাশ্যে অহী নাযিলের ধারাবাহিকতা শুরু হতো। (খছায়িছুল কুবরা ১ম জিলদ ১৫৭ পৃষ্ঠা)

(ইনশাআল্লাহ চলবে)

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে