সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।
*********************************************************************
পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে আরও উল্লেখ আছে-
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الله عز وجل وعزتى وجلالى لاعذبت احدا يسمى باسمك فى النار.
অর্থ: “আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, আমার ইজ্জত ও জালালের ক্বসম করে বলছি যে, হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার নাম মুবারক অনুযাযী যাদের নাম রাখা হবে তাদের কাউকেই দোযখে শাস্তি দিব না।” (পবিত্র মুসনাদুল ফিরদাউস)
 
পূর্ব প্রকাশিতের পর —
***********************
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশ ও এতদসম্পর্কিত মু’জিযা শরীফ।
 
হাদীছ শরীফ-এ আরো এসেছে,
ثم أخرج حضرت البيهقى رحمة الله و حضرت أبو نعيم رحمة الله عليه من وجه اخر، عن حضرت عروة بن الزبير نحو هذه القصة وفى اولها بعد فشق عليه، ورأى انه بينما هو فى مكة أتى إلى سقف بيته فنزع شبحة شبحة حتى إذا نزع أدخل فيه سلم من فضة نزل اليه رجلان قال رسول الله صلى الله عليه وسلم. فأردت ان استغيث فمنعت الكلام فقعد احدهما إلى رأسى والاخر الى جنبى، فأدخل احدهما يده فى جنبى فنزع ضلعين منه، فأدخل يده فى جوفى وأنا اجد بردها، فأخرج قلبى فوضعه على كفه، فقال لصاحبه- نعم القلب قلب رجل صالح، ثم أدخل القلب مكانه ورد الضلعين، ثم ارتفعا ورفعا سلمهما، فاستيقظت فإذا السقف مكانه كما هو، فذكرها لخديجة عليها السلام، فقالت ان الله لن يفعل بك إلا خيرا ثم انه خرج من عندها ورجع فأخبرها ان بطنه شق ثم طهر وغسل ثم اعيد إلى اخر ما تقدم، وزاد فيه ففتح حضرت جبرئيل عليه السلام عينا من ماء فتوضأ و حضرت محمد صلى الله عليه وسلم ينظر إليه فغسل وجهه ويديه إلى المرفقين ومسح برأسه ورجليه إلى الكعبين، ثم نضح فرجه وسجد سجدتين مواجهة البيت ففعل حضرت محمد صلى الله عليه و سلم كما رأى حضرت جبرئيل عليه السلام يفعل.
অর্থ; হযরত ইমাম বায়হাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আবূ নায়ীম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা হযরত উরওয়াহ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে এ বর্ণনার শুরুতে আরো বলা হয়েছে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ-এ অবস্থান কালে দেখতে পেলেন যে, এক ব্যক্তি উনার হুজরা শরীফ-উনার ছাদ মুবারক-উনার দিকে এলেন। ওই ব্যক্তি ঘরের ছাদ মুবারক-এর একটি কড়িকাঠ বের করতে লাগলেন। অবশেষে তিনি সমস্ত ছাদ খুলে ফেললেন। অতঃপর তাতে রূপার একটি সিঁড়ি লাগিয়ে দিলেন। সেই সিঁড়ি বেয়ে দু’ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে আগমন করলেন।
মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, উনাদেরকে দেখে আমি আমার খিদমতের জন্য কাউকে ডাক দিতে চাইলাম। কিন্তু উনারা আমাকে অনুরোধ করলেন কথা না বলতে। আগন্তুকদ্বয়ের একজন আমার মাথা মুবারক-এর দিকে এবং অপরজন আমার পার্শ্বে বসলেন এবং উনাদের একজন স্বীয় হাত আমার পার্শ্ব মুবারকে প্রবেশ করিয়ে পাঁজর মুবারক-এর দুটি হাড্ডি মুবারক বের করে নিলেন। অতঃপর তিনি আমার পেট মুবারক-এ হাত ঢুকিয়ে দিলেন। আমি উনার হাতের শীতলতা অনুভব করলাম। তিনি আমার ক্বলব মুবারক বের করে নিজের হাতের তালুতে রাখলেন। তিনি উনার সঙ্গীকে বললেন, ইনি সম্মানিত রসূল উনার ক্বলব মুবারক তথা হৃদপিন্ড- মুবারক কত পূতঃপবিত্র, বেমেছাল সুন্দর ও চমৎকার। এরপর তিনি আমার ক্বলব বা হৃদপিন্ড- মুবারক স্বস্থানে রেখে দিলেন এবং আমার পাঁজর মুবারক-এর হাড্ডি মুবারকও যথাস্থানে স্থাপন করলেন। এরপর উভয়ই প্রস্থান করলেন এবং সিঁড়ি তুলে নিলেন। আমি সজাগ হয়ে দেখতে পেলাম আমার হুজরা শরীফ-এর ছাদ মুবারক পূর্বের মতোই রয়েছে।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সিনা মুবারক চাক-এর কথা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে বললেন। তখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার ভালাই চান অর্থাৎ আপনার সন্তুষ্টি ছাড়া আর কিছু তিনি চান না।
অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখান থেকে বের হলেন এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বললেন, নিশ্চয়ই আমার বক্ষ মুবারক বিদীর্ণ তথা সিনা মুবারক চাক করার মাধ্যমে সুমহান মর্যাদাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে এবং পুনরায় আমার সিনা মুবারক পূর্বের ন্যায় করে দেয়া হয়েছে। এরপর এই হাদীছ শরীফ-এর পূর্বোক্ত ঘটনাবলী বর্ণিত হয়েছে। আরো উল্লেখ রয়েছে যে, হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি একটি ঝরণা খনন করেন এবং তাতে অযূ করলেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে অযূ করতে দেখলেন।
হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম প্রথমত, উনার মুখমন্লড ধৌত করলেন, দ্বিতীয়ত, উনার দু’ হাত মুবারক কনুই পর্যন্ত ধৌত করলেন, তৃতীয়ত, মাথা মাছেহ করলেন এবং চতুর্থত, উভয় পায়ের টাখনুসহ ধৌত করলেন। অতঃপর পবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফ-এর দিকে মুখ ফিরিয়ে দু’রাকায়াত নামায আদায় করলেন। অতঃপর আল্লাহ পাক উনার নির্দেশে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়িন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ও অনুরূপভাবেই অযূ মুবারক করলেন এবং নামায আদায় করলেন।” (খাছায়িছুল কুবরা ১ম জিলদ ১৫৮ ও ১৫৯ পৃষ্ঠা)
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে