সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ (পবিত্র আগমন) মুবারকের মুজিযাহ্সমূহ


মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে বরকতময় ক্ষণে যখন এই পৃথিবীতে তাশরীফ আনেন, সমস্ত মখলুকাতের জন্য তা অতি মুবারক শুভক্ষণ।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র আম্মা, হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে যে,

“যখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই পৃথিবীতে তাশরীফ আনলেন, তখন উনার সাথে একটি নূরেরও আবির্ভাব হলো। ঐ নূরে পশ্চিম ও পূর্বের মধ্যবর্তী সমস্ত জিনিসই আলোকিত হয়ে গেল।”
অন্য হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ঐ নূরের বর্ণনা দেয়া হয়েছে,

“ঐ নূরে উম্মু রসূলীনা সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত মা আমিনা আলাইহাস সালাম তিনি শাম দেশের রাজপ্রাসাদ দেখতে পেয়েছিলেন।”
অপরাপর আম্বিয়া-ই-কিরাম আলাইহিমুস সালাম উনাদের পূত-পবিত্র সম্মানিতা আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালাম গণ সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরাও অনুরূপ নূর দেখেছিলেন।

হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে, হযরত ফাতিমা বিনতে আব্দুল্লাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেছেন,

“হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই পৃথিবীতে তাশরীফ আনার সময় খানায়ে কা’বাকে নূরে পরিপূর্ণ দেখেছিলাম এবং তারকারাজি যমিনের এত নিকটবর্তী হয়েছিল যে, মনে হয়েছিল, সেগুলি আমারই উপর ভেঙ্গে পড়বে।”
হযরত আব্দুর রহ্মান বিন আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আম্মা বর্ণনা করেছেন,

“হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পৃথিবীতে তাশরীফ আনলে আমার হাতে আসলেন এবং উনার কান্না মুবারকের শব্দ হলে আমি এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলাম, “রাহিমাকাল্লাহ, আপনার উপর মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত বর্ষিত হোক। পূর্ব হইতে পশ্চিম পর্যন্ত আলোকিত হয়ে গেল। আমি রোমের কতিপয় প্রাসাদ দেখতে পেলাম। অতঃপর আমি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উনাকে মাতৃস্তনে দুধ মুবারক পান করালাম এবং উনাকে শুইয়ে রাখলাম। কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই আমাকে অন্ধকার, কম্পন ও ভীতি আচ্ছন্ন করে ফেললো। নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার দৃষ্টি মুবারক হতে কিছু সময় গায়েব থাকলেন।”
এই ঘটনার মহিমা হযরত আব্দুর রহমান বিন আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আম্মার হৃদয়ে অক্ষয় হয়ে রইলো।

উল্লেখ্য, অতি সম্মানিত এই মহিলা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা প্রথম ইসলাম গ্রহণকারিণীদের মধ্যে অন্যতমা।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ হয়েছে,

“হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাশরীফ মুবারক আনার শুভক্ষণে, পারস্য সম্রাটের প্রাসাদ কেঁপে উঠেছিল এবং তার চৌদ্দটি চূড়া ভেঙ্গেছিল। ঐ রাতে শামের তাব্রিয়া এবং পারস্যের ছাওয়া হ্রদ হঠাৎ শুকিয়ে গিয়েছিল এবং পার্শীদের হাজার বৎসরের প্রজ্জলিত অগ্নিকুন্ড নিভে গিয়েছিল।”
মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন এই পৃথিবীতে তাশরীফ আনেন। ঐ সময়ে হযরত আব্দুল মুত্তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু পবিত্র কা’বা ঘরে ছিলেন। তিনি দেখতে পেলেন যে, মূর্তিগুলি স্থানচ্যুত হয়ে উপোড় হয়ে পড়ে গেল এবং কা’বা ঘরের প্রাচীর হতে ধ্বনি হলো-

“হযরত মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাশরীফ এনেছেন।”
উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেছেন, “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেদিন এই পৃথিবীতে তাশরীফ আনেন, ঐদিন ভোর বেলায় মক্কায় আগত এক ইহুদী জিজ্ঞাসা করলো, কুরাঈশগণ! এ রাত্রে কি আপনাদের কারো ঘরে পুত্র সন্তান আগমন করেছেন ? কুরাঈশগণ বললো, আমরা জানি না।

ইহুদী বললো, অনুসন্ধান করে দেখুন, কেননা এ রাত্রে এই উম্মতের নবী পৃথিবীতে তাশরীফ এনেছেন। উনার (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্কন্ধদ্বয় মুবারকের মধ্যে একটি নিদর্শন থাকবে। অনুসন্ধান করে দেখা গেল যে, হযরত আব্দুল্লাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ঘরে একজন পুত্র সন্তান (হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আগমন করেছেন। ইহুদী ব্যক্তি নবজাত সন্তান (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনার স্কন্ধদ্বয়ে নিদর্শন মুবারক দেখে বলে উঠলো,

“বণী ইসরাঈল হতে নুবুওওয়াত বিদায় গ্রহণ করেছে।”
উল্লেখ্য হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই পৃথিবীতে তাশরীফ আনার পূর্ব সময় পর্যন্ত আরবদেশ দুর্ভিক্ষের করাল কবলে পড়ে প্রতি মূহুর্তে হাহাকার করছিল। আরবের আকাশ-মাটি ক্ষুধিতের আহাজারিতে ডুকরে কাঁদছিল। আর রহমতুল্লীল আ’লামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাশরীফ আনার সাথে সাথে ঐ ভয়াবহ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। আরবের আকাশ মেঘে ভরে উঠে। অজস্র বৃষ্টিপাতে মরু বক্ষ সবুজ আচ্ছাদনে ছায়া শীতল হয়ে উঠে। সমগ্র দেশের দুঃখ-দৈন্য দূর হয়ে যায়।

মহান আল্লাহ পাক মুসলিম উম্মাহকে নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ মুবারকের শান-মান, মর্যাদা, ফাজায়েল-ফজিলত, বূজুর্গী সম্মান হাক্বীক্বীভাবে উপলব্ধি করে এর যথাযথ আদব, তাযিম-তাকরিম রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। (আমীন)

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে