সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।
**********************************************************************
বিশ্বখ্যাত ফতওয়ার কিতাব ‘ফতওয়ায়ে শামী’ ৩য় খন্ডের ‘যিয়ারত’ অধ্যায়ে উল্লেখ আছে-
ان التربة التى اتصلت الـى اعظم النبى صلى الله عليه و سلم افضل من الارض والسـماء حتـى الـعرش الـعظيم
অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শরীর মুবারক-এ যে মাটি মুবারক বা যা কিছু স্পর্শ করেছে সে মাটি মুবারক উনার মর্যাদা যমীন, আসমান এমনকি আরশে আযীম উনার থেকেও অনেক বেশি।” সুবহানাল্লাহ!
 
পূর্ব প্রকাশিতের পর —
************************
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশ ও এতদসম্পর্কিত মু’জিযা শরীফ
 
(ক) কাফির, মুনাফিক, দাজ্জালের চেলা, পথভ্রষ্ট, ফিতনাবাজ, বেয়াদব ও বাতিল ফিরক্বার লোকেরা বলে থাকে যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রথমবার সিনা মুবারক চাকের সময়, উনার ভিতর থেকে ক্বলব মুবারক বের করে তা ফেঁড়ে শয়তানের অংশ বের করে ফেলে দিয়ে ক্বলব মুবারককে পবিত্র করা হয়েছিল। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!
 
তাদের এ বক্তব্য কুফরীমূলক, অজ্ঞতাসূচক এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ইনকার, ইহানত ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের নামান্তর। নাঊযুবিল্লাহ!
 
কেননা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা মতে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনারা সকল প্রকার খারাপ বিষয় এবং অপবিত্রতা থেকে সম্পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র; এমনকি পবিত্র থেকে পবিত্রতম। কিন্তু গুমরাহ লোকেরা হাদীছ শরীফ-উনার সঠিক অর্থ করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই এ সম্পর্কে কুফরীমূলক বক্তব্য প্রদান করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ!
ছহীহ মুসলিম শরীফ-উনার ১ম জিলদ ৯২ পৃষ্ঠায়, মিশকাত শরীফ ৫২৪ পৃষ্ঠায় এবং মুছান্নিফ ইবনে আবী শাইবাহ ৪র্থ জিলদ ২১৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে,
عن حضرت انس بن مالك رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اتاه جبريل عليه السلام وهو يلعب مع الغلمان فاخذه فصرعه فشق عن قلبه فاستخرج القلب فاستخرج منه علقة فقال هذا حظ الشيطان منك ثم غسله فى طست من ذهب بماء زمزم ثم لامه ثم اعاده فى مكانه وجاء الغلمان يسعون الى امه يعنى ظئره فقالوا ان حضرت محمدا صلى الله عليه و سلم قد قتل فاستقبلوه وهو منتقع اللون، قال انس رضى الله عنه وقد كنت ارى اثر ذلك المخيط فى صدره.
অর্থ: “হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এমতাবস্থায় আসলেন যে, তিনি বালকদের সাথে অবস্থান মুবারক করছিলেন। তিনি (হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম) উনাকে ধরলেন এবং আদবের সাথে মাটিতে শোয়ার ব্যবস্থা করলেন। অতঃপর সিনা মুবারক চাক করে ক্বলব মুবারক বের করে উহার মধ্য থেকে একখন্ড- পবিত্র গোস্ত মুবারক বের করলেন। অতঃপর হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন,
هذاحظ الشيطان منك اى من امتك
অর্থ: এটা শয়তান ওয়াসওয়াসা দেয়ার স্থান (যা আপনার জন্য নয়, কারণ আপনি শয়তানী ওয়াসওয়াসা থেকে সম্পূর্ণরূপে মাহফুয। আপনার উম্মতের এই স্থানে শয়তান ওয়াসওয়াসা দিয়ে থাকে)। এরপর হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উহা স্বর্ণের পাত্রে যমযমের পানি দ্বারা ধুইলেন। এর মাধ্যম দিয়ে ক্বলব মুবারক উনার পবিত্রতা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো এবং স্বর্ণ ও জমজম কূপ ও তার পানিকে আরো সম্মানিত করা হলো। তৎপর উহার অংশগুলো একত্রিত করে যথাস্থানে রেখে দিলেন। এ অবস্থা দেখে অন্যান্য বালকেরা উনার দুধমাতা উনার নিকট যেয়ে বললেন, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করা হয়েছে। তারা সকলেই এসে উনাকে উৎকৃষ্ট বর্ণে দেখতে পেলেন। রাবী হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি বলেন, আমি (পরবর্তীতে) নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সিনা মুবারকে সিলাই মুবারক-এর চিহ্ন দেখেছি।” সুবহানাল্লাহ!
 
উক্ত হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত هذاحظ الشيطان -এর সরাসরি শাব্দিক অর্থ গ্রহণ করে তারা বলে থাকে যে, “ইয়া রসূলল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এ অংশটি আপনার মধ্যে শয়তানের অংশ।” নাঊযুবিল্লাহ!
 
এখানে শাব্দিক অর্থ গ্রহণ করা যাবে না, বরং তা’বীলী তথা ব্যাখ্যামূলক অর্থ করতে হবে। কারণ যে সকল শব্দের সরাসরি অর্থ করলে মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের শান মুবারক-উনার খিলাফ হয়; সে সকল শব্দের সরাসরি অর্থ করলে কুফরী হবে। বরং সেক্ষেত্রে তা’বীলী বা ব্যাখ্যামূলক অর্থ করতে হবে। অনুসরণীয় ইমাম মুজতাহিদ উনারা সকলেই এরূপ প্রতিটি ক্ষেত্রেই তা’বীলী বা ব্যাখ্যামূলক অর্থ করেছেন।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে