সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।
**************************************************************************
খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনি উনার সম্মানিত কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন।
|النَّبِيُّ أَوْلَىٰ بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ ۖ وَأَزْوَاجُهُ أُمَّهَاتُهُمْ ۗ
অর্থ: “সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিবিয়্যন নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মু’মিনগণ উনাদের নিকট উনাদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয় এবং উনার পূতঃপবিত্রা মহাসম্মানিতা আযওয়াজ আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন মুমিনগণ উনাদের মাতা অর্থাৎ উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)
 
পূর্ব প্রকাশিতের পর —
***********************
আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিবিয়্যন নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশ ও এতদসম্পর্কিত মু’জিযা শরীফ
 
অনুসরণীয় ইমাম-মুজতাহিদ তথা মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা (مكر الله)-এর যে অর্থ ও ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, তা এখানে আলোচনা করা বা উল্লেখ করা একান্তই জরুরী। কারণ এর ফলে বিষয়টি আরো সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে। তাই তাফসীরের কিতাবসমূহ হতে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিম্নে তুলে ধরা হলো-
ইমামুল মুফাসসিরীন, ফখরুল মানতাক্বীন, উস্তাজুল আসাতিজা আল্লামা ফখরুদ্দীন রাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ “তাফসীরে কবীর”-এর ৮ম খ-, ৬৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
(ومكروا ومكر الله والله خير المكرين.) وفيه مسائل- (المسئلة الاولى) اصل المكر فى اللغة السعى بالفساد فى خفية ………. (المسئلة الثانية) ما مكرهم بعيسى عليه السلام فهو انهم هموا بقتله واما مكر الله تعالى بهم …….. هو انه رفع حضرت عيسى عليه السلام الى السماء وذالك ان يهودا ملك اليهود. اراد قتل حضرت عيسى عليه السلام- (المسئلة الثالثة) المكر عبارة عن الاحتيال فى ايصال الشر والاحتيال على الله تعالى محال- فصار لفظ المكر فى حق من المتشبهات وذكروا فى تأويله وجوها- احدها انه تعالى سمى جازا المكر بالمكر-كقوله (وجزاء سيئة سيئة مثلها) وسمى جزاء المخادعة بالمخادعة وجزاء الاستهزاء بالاستهزاء ……… الثالثة ان هذا اللفظ ليس من المتشابهات لانه عبارة عن التدبير المحكم الكامل- ثم اختص فى العرف بالتدبير فى ايصال الشر الى الغير وذالك فى حق الله تعالى غير ممتنع.
অর্থ: “(مكروا) এ আয়াত শরীফ-এর অনেক মাসয়ালা বা ব্যাখ্যা রয়েছে।
(১ম) আরবী ভাষায় مكر “মকর” শব্দের অর্থ হচ্ছে- গোপনে ধ্বংসের তদবীর করা। ….
(২য়) তারা (ইহুদীরা) হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার সাথে যে مكر বা ধোঁকাবাজী করেছে তাহলো- তারা গোপনে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার সংকল্প গ্রহণ করেছিল। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের সাথে যে مكر “মকর” করেছেন, তাহলো- ইহুদীদের সর্দার যখন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার উদ্যোগ নিয়েছিল, তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনাকে গোপনে আকাশে তুলে নেন।
(৩য়) مكر “মকর” শব্দটির প্রকৃত বা শাব্দিক অর্থ হচ্ছে- প্রতারণা করা। আর “প্রতারণা” মহান আল্লাহ পাক উনার শান মুবারক-এর সম্পূর্ণ খিলাফ। সুতরাং مكر “মকর” শব্দটি মহান আল্লাহ পাক উনার শানে “মুতাশাবেহাত”-এর অন্তর্ভুক্ত। তাই মুফাসসিরীনে কিরামগণ উনারা مكر শব্দের অনেক ব্যাখ্যা করেছেন। তন্মধ্যে ১ম ব্যাখ্যা হলো- “মহান আল্লাহ পাক তিনি مكر “মকর” বা ধোঁকাবাজীর বদলা مكر “মকর” শব্দ দ্বারাই উল্লেখ করেছেন। যেমন তিনি অন্যত্র سيِِِئة এর বদলা سيئةদ্বারা উল্লেখ করেছেন।
আর مخادعة এর বদলা مخادعة বলে উল্লেখ করেছেন। তদ্রƒপ استهزاء এর বদলা استهزاء বলে উল্লেখ করেছেন। ………
(৪র্থ) مكر শব্দটি “মুতাশাবেহাত”-এর অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ مكر শব্দের অর্থ সূক্ষ্ম তদবীরও হয়। مكر শব্দটি কারো শাস্তি দানে সূক্ষ্ম তদবীর করা অর্থেও প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। তাই এ অর্থে مكر “মকর” শব্দটি মহান আল্লাহ পাক উনার শানে ব্যবহার করা নিষেধ নয়।”
সুতরাং مكر الله শব্দের ছহীহ অর্থ হলো “মহান আল্লাহ পাক তিনি হিকমত বা কৌশল করলেন, সূক্ষ্ম তদবীর করলেন, ধোঁকাবাজীর সমুচিত শাস্তি বা জাওয়াব দিলেন ইত্যাদি। এ অর্থই ইমাম-মুজতাহিদগণ উনারা গ্রহণ করেছেন। সুতরাং মহান আল্লাহ পাক উনার শান মুবারকে ব্যবহৃত সব শব্দেরই প্রকৃত বা সরাসরি অর্থ গ্রহণযোগ্য নয়, বরং তার মাযাযী বা তা’বীলী অর্থ গ্রহণ করাও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফরয-ওয়াজিব। যেমন উল্লিখিত ক্ষেত্রে গ্রহণ করা ফরয।
মহান আল্লাহ পাক তিনি “সূরা দুহা”-এর ৭নং আয়াত শরীফ-এ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে লক্ষ্য করে ইরশাদ করেন,
ووجدك ضالا فهدى
এ আয়াত শরীফ-এর সরাসরি বা প্রকৃত অর্থাৎ লুগাতী বা শাব্দিক অর্থ যদি করা হয় তবে এ আয়াত শরীফ-এর অর্থ দাঁড়ায়- “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিবিয়্যন নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে গুমরাহ, পথভ্রষ্ট, বিভ্রান্ত পেয়েছেন অতঃপর হিদায়েত দিয়েছেন।” নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক!
অথচ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা মুতাবিক এ অর্থ যে কুফরীর অন্তর্ভুক্ত তাতে বিন্দুমাত্রও সন্দেহের অবকাশ নেই এবং এ ব্যাপারে কারো মধ্যেই কোনো প্রকার দ্বিমত নেই। কারণ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন,
ما ضل صاحبكم وماغوى.
অর্থ: “তোমাদের সঙ্গী নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি না কখনো গুমরাহ হয়েছেন, না বিপথগামী হয়েছেন।” (সূরা নজম : আয়াত শরীফ ২)
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালাম পাক-এ আরো ইরশাদ করেন,
ليس بى ضللة ولكنى رسول من رب العلمين.
অর্থ: “হে আমার ক্বওম! আমার নিকট গুমরাহী বলতে কিছুই নেই বরং আমি মহান রব্বুল আলামীন উনার প্রেরিত রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিবিয়্যন নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ।” (সূরা আ’রাফ : আয়াত শরীফ ৬১)
উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে,সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিবিয়্যন নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বদাই হিদায়েতের উপর ছিলেন।
অথচ সমস্ত লুগাত বা আরবী অভিধানসমূহে ضال শব্দের অর্থ গুমরাহ, পথভ্রষ্ট, বিভ্রান্ত ইত্যাদি বলে উল্লেখ আছে।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
 
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে