সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।
***************************************************************************
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُّهِينًا
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়, তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে উভয় জাহানে লা’নত বা অভিসম্পাত দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক আযাব-শাস্তি।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ:পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭)
 
পূর্ব প্রকাশিতের পর —
***********************
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশ ও এতদসম্পর্কিত মু’জিযা শরীফ
এ সঠিক অর্থের পিছনে কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ এবং তার শরাহ ও ইজমা-ক্বিয়াসের সঠিক ফায়ছালা নিম্নে পেশ করা হলো-
(১) মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ অমান্য করে চরম বেয়াদবীর কারণে ইবলিস যখন কাফির, মালঊন ও শয়তান হয়ে গেল, তখন সে মহান আল্লাহ পাক উনাকে বলেছিল, আমি আপনার বান্দাদেরকে বিভিন্নভাবে পথভ্রষ্ট করবো, কিন্তু আপনার মুখলিছ-একনিষ্ঠ, মাহবূব বান্দা উনাদেরকে গুমরাহ করতে পারবো না এবং উনাদেরকে ওয়াসওয়াসার জন্য কাছেও যেতে পারবো না।
যেমন, কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে,
الا عبادك منهم المخلصين
অর্থ: “আয় আল্লাহ পাক! কিন্তু যাঁরা আপনার মুখলিছ, একনিষ্ঠ বান্দা, উনাদেরকে আমি পথভ্রষ্ট করতে পারবো না।” (সূরা হিজর : আয়াত শরীফ ৪০)
এ আয়াত শরীফ-এর তাফসীরে ‘তাফসীরুল খাযিন’-এর ৩য় জিলদ ৯৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে,
(الا عبادك منهم المخلصين) يعنى المؤمنين الذين اخلصوا لك التوحيد والاطاعة والعبادة.
অর্থ: “(কিন্তু আপনার মুখলিছ বান্দা উনাদেরকে আমি পথভ্রষ্ট করতে পারবো না) অর্থাৎ মু’মিন-মুসলমানগণ উনাদের মধ্যে যাঁরা তাওহীদ সম্পর্কে আক্বীদা শুদ্ধ করবে, সঠিকভাবে শরীয়তের ইত্তিবা করবে এবং ইবাদত-বন্দেগী ইখলাছের সাথে একমাত্র আপনার জন্য করবে আমি উনাদেরকে ওয়াসওয়াসা দিয়ে পথভ্রষ্ট করতে পারবো না। অনুরূপ তাফসীরে বাগবী, মাদারিকুত তানযীল, মাযহারী, কুরতুবী, ত্ববারী, ইবনে কাছীর, জালালাইন, বাইযাবী, রূহুল মায়ানী, রূহুল বয়ান ইত্যাদি তাফসীরগুলোতে বর্ণিত রয়েছে।
(২) মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘সূরা হিজরের’ ৪২নং আয়াত শরীফ-এ শয়তানের সাথে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন,
ان عبادى ليس لك عليهم سلطان
অর্থ: (শয়তান তুই জেনে রাখ) নিশ্চয়ই আমার যাঁরা খাঁটি বান্দা, উনাদের উপর তোর কোন কর্তৃত্ব চলবে না।”
এ আয়াত শরীফ-এর ব্যাখায় “তাফসীরে ইবনে কাছীর”-এর ২য় জিলদ ৮৫৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে,
اى الذين قدرت لهم الهداية فلا سبيل لك عليه ولا وصول لك اليهم.
অর্থাৎ “আমি যাঁদেরকে হিদায়াত দ্বারা শক্তিশালী করেছি, হে শয়তান! উনাদেরকে পথভ্রষ্ট করার এবং ওয়াসওয়াসা দেয়ার তোর কোনো রাস্তা নেই বা উনাদের কাছে পৌঁছারও তোর কোনো শক্তি নেই।” অনুরূপ তাফসীরে কবীর, তাফসীরে মুহিউদ্দীন ইবনে আরাবী, কুরতুবী, জাছছাছ, মাযহারী, খাযিন, বাগবী, মাদারিক, নাসাফী ও বাইযাবী ইত্যাদি তাফসীরের কিতাবসমূহে বর্ণনার তারতম্যসহ বর্ণিত রয়েছে।
উপরোক্ত দু’খানা আয়াত শরীফ এবং তার তাফসীর বা ব্যাখ্যা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, যাঁরা মুখলিছ বান্দা উনাদেরকে শয়তান ওয়াসওয়াসা দিতে পারবে না এবং গুমরাহ করতেও পারবে না।
তাহলে যাঁরা নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং বিশেষভাবে নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের সাইয়্যিদ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যে কিভাবে শয়তানের অংশ বা ওয়াসওয়াসা থাকতে পারে? কারণ তিনি তো পরিপূর্ণভাবে ওহী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
তাই বুঝা গেল, সিনা মুবারক চাকের উক্ত অংশের তাবীলী বা ব্যাখ্যামূলক অর্থ করতে হবে। সরাসরি বা শাব্দিক অর্থ করলে কুফরী হবে।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে