সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়্যিন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সুমহান ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক – ধারাবাহিক।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়্যিন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সুমহান ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক – ধারাবাহিক।
***************************************************************************
হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
ان كنت رافضا بحب آل رسول الله صلى الله عليه وسلم، فليشهد الثقلين انى رافضى.
অর্থ: যদি হযরত আহলু বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করার কারণে মানুষ আমাকে রাফেজী বলে, তবে আসমান-যমীন সাক্ষী থাকুক যে, আমি রফেজী।সুবহানাল্লাহ।
 
পূর্ব প্রকাশিতের পর —
***********************
ইবনু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা
হযরত কাসিম আলাইহিস সালাম
ইবনু রসূলিল্লাহ, ক্বায়িম-মক্বামে রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত কাসিম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র নাম মুবারক অনুসারে আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র কুনিয়াত (উপনাম) মুবারক হয়েছে আবুল কাসিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। বিশিষ্ট ছাহাবী খাদিমু রসূলিল্লাহ হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন,
كان النبى صلى الله عليه وسلم فى السوق فقال رجل ياابا القاسم فالتفت اليه النبى صلى الله عليه وسلم فقال انما دعوت هذا فقال النبى صلى الله عليه وسلم سموا باسمى ولاتكتنوا بكنيتى .
অর্থ- “একদিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি বাজারে ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি ‘হে আবুল কাসিম’ বলে ডাক দিলো। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তার দিকে তাকালেন। লোকটি বললো, আমি (আপনাকে ডাকিনি) ওই ব্যক্তিকে ডেকেছি। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, তোমরা আমার মুবারক নামে নাম রাখো। কিন্তু আমার কুয়িনাত মুবারকে (উপনাম) নাম রাখবে না।” (মিশকাত শরীফ- ৯/৫৩, তাবাকাতে ইবনে সা’দ ১/১০৬)
উল্লেখ্য যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ তথা দুনিয়া থেকে পর্দা করার পূর্ব পর্যন্ত এই হুকুম মুবারক কার্যকর ছিলো। আর পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ বা মহান আল্লাহ পাক উনার পরম দীদার মুবারকে গমনের পর উনার কুনিয়াত মুবারকে অথবা মুবারক নাম ও মুবারক কুনিয়াত একই সাথে রাখা জায়িয রয়েছে।
বিশিষ্ট তাবিয়ী সাইয়্যিদুনা হযরত মুহম্মদ ইবনে হানাফিয়্যাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সম্মানিত পিতা বাবুল ইলমি ওয়াল হিকাম সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
قلت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ارايت ان ولد لى بعدك ولد اسميه باسمك واكنيه بكنيتك قال نعم.
অর্থ- “আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারকে আরজ করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণের পর যদি আমার কোনো পুত্র সন্তান বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন তাহলে আমি কি আপনার সম্মানিত নাম মুবারক এবং সম্মানিত কুনিয়াত মুবারকে উনার নাম ও কুনিয়াত রাখতে পারবো? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হ্যাঁ, রাখতে পারবেন।” (মিশকাত শরীফ ৯/৬১)
স্মর্তব্য যে, আমিরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, বাবুল ইলমি ওয়াল হিকাম হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার একজন আহলিয়া ছিলেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাওলা বিনতে জাফর রহমতুল্লাহি আলাইহা। তিনি ছিলেন হানাফিয়্যাহ গোত্রীয় মহিলা। বাবুল ইলমি ওয়াল হিকাম সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার ছেলে সাইয়্যিদুনা হযরত মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এই আহলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার রেহেম শরীফে তাশরীফ মুবারক এনেছেন। তিনি উনার সম্মানিত মাতা উনার দিকে সম্বোধিত হয়ে পরিচিতি হয়েছেন। আর উনার কুয়িনাত মুবারক ছিলো আবুল কাসিম রহমতুল্লাহি আলাইহি।
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে