সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।
********************************************************************
যিনি খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সম্মানিত কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন।
 
لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ
তোমাদের কাছে এসেছেন তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রসূল।(অর্থাৎ মানবাকৃতিতে এসেছেন যাতে করে মানুষ উনার কাছে আসতে পারে, বসতে পারে, অনুসরন অনুকরন করতে পারে) তোমাদের দুঃখ-কষ্ট উনার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়। সুবহানাল্লাহ। সম্মানিত সুরা তওবা শরীফ, সম্মানিত আয়াত শরীফ ১২৮।
 
পূর্ব প্রকাশিতের পর —
***********************
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশ ও এতদসম্পর্কিত মু’জিযা শরীফ :
 
আরো বর্ণিত আছে,
واخرج حضرت الحاكم رحمة الله عليه من طريق حضرت ابن اسحاق رحمة الله عليه، حدثنى حضرت عبد الملك بن عبد الله بن ابى سفيان الثقفى رحمة الله عليه، وكان واعية. قال قال حضرت ورقة بن نوفل رضى الله تعالى عنه فيما كانت حضرت خديجة عليها السلام ذكرت له من أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم-
يا للرجال وصرف الدهر والقدر- وما لشئ قضاه الله من غير
حتى حضرت خديجة عليها السلام تدعونى لأخبرها- وما لها بخفى الغيب من خبر
جاءت لتسألنى عنه لأخبرها- أمرا اراه سيأتى اناس من أخر
وخبرتنى بأمر قد سمعت به- فيما مضى من قديم الدهر والعصر
بأن حضرت أحمد صلى الله عليه وسلم يأتيه ويخبره- جبرئيل انك مبعوث إلى البشر
فقلت عل الذى ترجين ينجزه- لك الإله فرجى الخير وانتظرى
অর্থ: হযরত হাকিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, হযরত আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবী সুফিয়ান আছছাকাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অত্যন্ত স্মরণশক্তির অধিকারী ছিলেন। তিনি বর্ণনা করেন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার থেকে। সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ওহী নাযিল হওয়ার ব্যাপারে হযরত ওয়ারাকা ইবনে নাওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে আলোচনা করতেন। এ প্রসঙ্গে হযরত ওয়ারাকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নিম্নোক্ত  কবিতা রচনা করেন।
“সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আমাকে আহ্বান করেন, যাতে আমি বলি সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার গায়িব সম্পর্কিত ইলম রয়েছে।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আমার নিকট আসেন আখিরী নবী হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান, বেমেছাল ফযীলত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে যাতে আমি শেষ যুগে যা হবে, সে সম্পর্কে উনাকে অবহিত করি।
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আমাকে এমন বিষয় সম্পর্কে অবহিত করেন, যা আমি প্রাচীনকাল থেকে শুনে আসছিলাম। তা এই যে, আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি আগমন করেন এবং সুসংবাদ দেন যে, আখিরী নবী হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী হিসেবে, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল হিসেবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ ও মানবজাতির হিদায়েতের মূল লক্ষ্য হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে।
আমি বললাম, আপনি যা আশা-আকাঙ্খা করেছেন মহান আল্লাহ পাক তিনি তা আপনার জন্যে পূর্ণ করবেন। অতএব, আশা রাখুন ও অপেক্ষা করুন।”
 
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে