সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।
***************************************************************************
পূর্ব প্রকাশিতের পর —
***********************
খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনি উনার সম্মানিত কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন।
 
قُلْ أَطِيعُواْ اللّهَ وَالرَّسُولَ فإِن تَوَلَّوْاْ فَإِنَّ اللّهَ لاَ يُحِبُّ الْكَافِرِينَ
 
হে আমার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নুরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি সমস্ত কায়িনাতবাসীকে বলে দিন তারা যেন আপনাকে এবং আমাকে অনুসরন করে অর্থাৎ আপনার অনুসরনের মাধ্যমে যেন আমাকে অনুসরন করে আর যদি তারা আপনাকে অনুসরন করা থেকে ফিরে যায় তাদেরকে বলে দিন মহান রব তায়ালা কাফিরদেরকে মুহব্বত করেন না। তাহলে বুঝা গেল সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নুরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে মুহব্বত না করলে সে মুসলমান থাকতে পারবে না অর্থাৎ সে কাট্টা কাফির চির জাহান্নামী হবে, নাউযুবিল্লা।সম্মানিত সুরা আল-ইমরান শরীফ সম্মানিত আয়াত শরীফ ৩২।
 
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশ ও এতদসম্পর্কিত মু’জিযা শরীফ:
 
হাদীছ শরীফ-এ আরো এসেছে,
أخرج حضرت ابن سعد رحمة الله عليه و حضرت البيهقى رحمة الله عليه من طريق حضرت ابراهيم بن محمد بن طلحة رحمة الله عليه قال، قال حضرت طلحة بن عبيد الله رضى الله تعالى عنه حضرت سوق بصرى، فاذا راهب فى صومعته يقول سلوا أهل هذا الموسم هل فيهم احد من اهل الحرم؟ قال حضرت طلحة رضى الله تعالى عنه قلت نعم انا. قال هل ظهر احمد بعد؟ قلت ومن أحمد؟ قال حضرت ابن عبد الله بن عبد المطلب صلى الله عليه وسلم هذا شهره الذى يخرج فيه وهو اخر الأنبياء مخرجه من الحرم ومهاجره إلى نخل وحرة وسباخ، فإياك ان تسبق اليه. قال حضرت طلحة رضى الله تعالى عنه: فوقع فى قلبى ما قال، فخرجت سريعا حتى قدمت مكة، فقلت هل كان من حدث؟ قالوا نعم حضرت محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم الأمين قد تنبا، وقد تبعه ابن إبى قحافة، فخرجت حتى دخلت على حضرت أبى بكر رضى الله تعالى عنه، فأخبرته بما قال الراهب، فخرج حضرت ابو بكر رضى الله تعالى عنه حى دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبره فسر بذلك، وأسلم طلحة، فأخذ نوفل بن العدوية حضرت أبا بكر رضى الله تعالى عنه وحضرت طلحة رضى الله تعالى عنه، فشدهما فى حبل واحد، فلذلك سميا القرينين.
অর্থ: “হযরত সা’দ রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত বাইহাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা হযরত ইবরাহীম ইবনে মুহম্মদ ইবনে ত্বলহা ইবনে উবাইদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, হযরত ইবরাহীম ইবনে মুহম্মদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি একদা বছরার বাজারে গেলাম। হঠাৎ শুনতে পেলাম এক রহিব বা খ্রিস্টান পাদ্রী তার ইবাদতখানায় বসে বলছিলো এই আগন্তুকদেরকে জিজ্ঞাসা করো তাদের মধ্যে পবিত্র হেরেম শরীফ-এর অধিবাসী কেউ আছেন কি?
হযরত ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ, আমি হেরেমবাসী! খ্রিস্টান পাদ্রীটি জিজ্ঞাসা করলো হযরত আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি উনার আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত শরীফ প্রকাশ করেছেন? আমি বললাম, কোন আহমদ? পাদ্রী বললো, হযরত আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত শরীফ প্রকাশের মাস হচ্ছে এটাই। তিনি হচ্ছেন আখিরী বা সর্বশেষ নবী-রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উনার আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত শরীফ প্রকাশের স্থান হচ্ছে হেরেম শরীফ এবং উনার হিজরত শরীফ-এর স্থান হচ্ছে খর্জুর শোভিত প্রস্তরময় লবনাক্ত যা কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাশীল ভুমি। উনার প্রতি ঈমান আনায় আপনাদের অগ্রগামী হওয়া আবশ্যক। হযরত ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, পাদ্রীর এই কথা আমার অন্তরে স্থান করে নিলো। আমি দ্রুতগতিতে পবিত্র মক্কা শরীফ-এ পৌছলাম এবং মানুষদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম নতুন কিছু ঘটেছে কিনা? তারা বলল, হ্যাঁ। হযরত মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ অর্থাৎ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত শরীফ-এর কথা ঘোষণা করেছেন। হযরত আবু বকর ইবনে আবু কুহাফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার অনুসরণ ও অনুকরণ করছেন। আমি সেখান থেকে বের হয়ে হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনার নিকট এলাম এবং খ্রিস্টান পাদ্রীর কথা-বার্তা সম্পর্কে উনাকে অবহিত করলাম। হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সবকিছু শুনে বের হলেন এবং আখিরী নবী হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গমন করলেন। হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এসব কথা জানালে তিনি খুবই খুশি হলেন। সুবহানাল্লাহ! এবং আমি হযরত ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলাম। নওফিল ইবনে আদভিয়া সে হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম ও হযরত ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের উভয়কে ধরে রশিতে বেঁধেছিলো। এজন্য উনাদের কুরাইনাইন নামে অভিহিত করা হয়।” (খছায়িছুল কুবরা ১ম জিলদ পৃষ্ঠা)
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে