সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।
***************************************************************************
পূর্ব প্রকাশিতের পর —
***********************
খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সম্মানিত কিতাব কালামুল্লাহ মরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন।
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لِّأُوْلِي الألْبَابِ
নিশ্চয়ই আসমান ও যমীন সৃষ্টিতে এবং রাত্রি ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধ সম্পন্ন লোকদের জন্যে। সম্মানিত সুরা আল-ইমরান শরীফ, সম্মানিত আয়াত শরীফ ১৯০।
 
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশ ও এতদসম্পর্কিত মু’জিযা শরীফ:
 
হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে,
أخرج حضرت ابو نعيم رحمة الله عليه من طريق حضرت عكرمة رضى الله تعالي عنه، عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه، قال قال العباس رضى الله تعالى عنه: خرجت فى تجارة إلى اليمن في ركب فيهم حضرت ابو سفيان بن حرب رضى الله تعالى عنه، فورد كتاب من حضرت حنظلة بن أبي سفيان رضى الله تعالى عنه فيه أن حضرت محمد صلى الله عليه و سلم اقام بالأبطح، فقال انا رسول الله ادعوكم إلى الله ففشا ذلك في مجالس اليمن، فجاءنا حبر من اليهود، فقال باغني ان فيكم عم هذا الر جل الذي قال ما قال قال حضرت العباس رضى الله تعالى عنه فقلت نعم، قال أنشدك هل كانب لأبن اخيك صبوة وسفهة قلت لا واله حضرت عبد المطلب رضى الله تعالى عنه ولا كذب ولا خان، وإن كان اسمه عند قريش الأمين- …. فوثب الحبر وترك رداءه، وقال ذمجت يهود و قتلت يهود، قال حضرت العباس رضى الله تعالى عنه فلما رجعنا إلى منزلنا قال حضرت أبو سفيان رضى الله تعالى عنه يا أبا الفضل إن اليهود بفزع من الن اخيك قلت قد رأيت-
অর্থ: “হযরত আবূ নায়ীম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি ব্যবসার উদ্দেশ্যে সেই কাফিলার সঙ্গে ইয়ামেনে গেলাম, যাদের মধ্যে হযরত আবূ সুফিয়ান ইবনে হারব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিও ছিলেন। সেই ইয়ামানে হানযালা ইবনে আবি সুফিয়ান উনার চিঠি আমাদের নিকট পৌঁছল এ মর্মে যে, “সাইয়্যিদুনা হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত শরীফ-এর ঘোষণা দিয়েছেন।” আরো তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই আমি রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তথা মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আহ্বানকারী।” এই সুসংবাদ সমগ্র ইয়ামেনেও ছড়িয়ে পড়লো। অতঃপর আমাদের কাছে জনৈক ইহুদী আলিম এসে বললেন, আমি জানতে পারলাম আপনাদের মধ্যে যিনি আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত শরীফ প্রকাশ করেছেন সেই আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একজন চাচা রয়েছেন? হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ! আমিই উনার চাচা। ইহুদী আলিম বলল, আমি আপনার ক্বসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি আপনার সম্মানিত ভাতিজা উনার মধ্যে যুবক বয়সের চপলতা কিংবা জ্ঞান বুদ্ধির কমতি আছে কিনা? হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনার রব মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! উনার কথা বলছো তার কোনটিই নেই। সুবহানাল্লাহ! তিনি কখনও কোনদিন বিন্দুমাত্র মিথ্যা বলেননি। তিনি কখনও আমানতের খিয়ানত বা বিশ্বাস ভঙ্গ করেননি। তিনি গোটা কুরাইশবাসীর নিকট ‘আল আমীন’ লক্বব মুবারকে ভূষিত হয়ে আছেন। সুবহানাল্লাহ!
…… এসব কথা শুনে ইহুদী আলিম আপন জায়গা থেকে লাফ দিয়ে উঠলো এবং স্বীয় চাদর ছেড়ে এ কথা বলতে বলতে চলে গেলো যে, ইহুদীদের সর্বনাশ, ধ্বংস হয়েছে, ইহুদীদের ক্বতল বা হত্যা করা হয়েছে। সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমরা আমাদের অবস্থান স্থলে ফিরে এলে হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আবুল ফযল! আপনার সম্মানিত ভাতিজা আখিরী নবী হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইহুদী তথা কাফির, মুশরিক ও বিধর্মীরা খুবই ভয় পায়। আমি বললাম, আপনিতো দেখলেন। (খছায়িছুল কুবরা ১ম জিলদ ১৬৬ ও ১৬৭ পৃষ্ঠা)
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে