সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।
***************************************************************************
পূর্ব প্রকাশিতের পর —
***********************
খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনি উনার সম্মানিত কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন।
 
فَلاَ وَرَبِّكَ لاَ يُؤْمِنُونَ حَتَّىَ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لاَ يَجِدُواْ فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسْلِيمًا
আপনার যিনি পালনকর্তা খলিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কসম মুবারক, কোন লোক ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত সে বা তারা তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে আপনাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর আপনার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হূষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে।সম্মানিত সুরা আন-নিসা শরীফ, সম্মানিত আয়াত শরীফ ৬৫।
 
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশ ও এতদসম্পর্কিত মু’জিযা শরীফ :
 
খছায়িছুল কুবরা ১ম জিলদ ১৬৭ ও ১৬৮ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ রয়েছে যে,
اخرج حضرت ابو نعيم رحمة الله عليه من طريق حضرت محمد بن هشام بن مسلم المخزومى رحمة الله عليه، عن حضرت معاوية بن ابى سفيان رضى الله تعالى عنه، عن أبيه قال : خرجت انا وأمية بن أبى الصلت تجارا إلى الشام، فقال لى: هل لك فى عالم من علماء النصارى إليه يتناهى علم الكتاب نسأله؟ قلت لا إرب لى فيه، فذهب ثم رجع، فقال لى إنى جئت هذا العالم، فسألته عن أشياء ثم قلت أخبرنى عن هذا النبى صلى الله عليه وسلم الذى ينتظر قال هو رجل من العرب قلت من اى العرب؟ قال من اهل بيت تحجه العرب من إخوانكم من قريش قلت فصفه لى قال رجل شاب حين دخل فى الكهولية بدأ امره يحجتنب المظالم والمحارم، ويصل الرحم ويأمر بصلتها،
অর্থ: “হযরত আবূ নায়ীম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত মুহম্মদ ইবনে হিশাম ইবনে মুসলিম আল মাখযুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি হযরত মুয়াবিয়া ইবনে আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনার থেকে তিনি উনার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি এবং উমাইয়া ইবনে আবী ছালত ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়ায় গিয়েছিলাম। সেখানে পৌঁছে উমাইয়া আমাকে বলল, আমরা সেই খ্রিস্টান আলিমের সাথে দেখা করি যিনি আসমানী কিতাবের আগত ইলমের অধিকারী। আমি তাকে বললাম, আমরা তাকে কিছু সুওয়াল করতে পারি। হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি সেই আলিম ছাহেবের কাছে গিয়ে তাকে অনেক প্রশ্ন করেছি। আমি তাকে বলেছি যে, প্রতীক্ষিত নবী তথা আখিরী নবী হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে আপনি যা জানুন, বলুন। ওই খ্রিস্টান আলিম বললেন, সেই আখিরী নবী হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একজন আরবী হবেন। আমি বললাম, কোন আরব? তিনি জবাবে বললেন, আরবগণ যে বাইতুল্লাহ শরীফ-এর হজ্জ করে থাকেন, তিনি সেই বাইতুল্লাহ শরীফ তথা কা’বা শরীফ-এর অধিবাসী হবেন। তিনি আরো বললেন, তিনি একজন সুমহান বেমেছাল যুবক। তিনি যখন সুমহান পৌঢ়ত্বের সীমায় পৌঁছবেন তথা উনার দুনিয়াবী বয়স মুবারক যখন ৪০ বৎসর হবে তখন উনার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত শরীফ প্রকাশ পাবে। তিনি সম্পূর্ণরূপে জুলুম-নিপীড়ন ও সর্ব প্রকার হারাম নাজায়িয বিষয়াদি থেকে দূরে থাকবেন, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সদয় ব্যবহার করবেন। অন্যদেরও তা করতে আদেশ-নির্দেশ করবেন।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে