সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের পবিত্র নাম মুবারক হযরত ‘আব্দুল্লাহ’ আলাইহিস সালাম ও হযরত ‘আমিনা’ আলাইহাস সালাম হওয়াই প্রমাণ করে উনারা সর্বশ্রেষ্ঠ ঈমানদার। সুবহানাল্লাহ।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের পবিত্র নাম মুবারক হযরত ‘আব্দুল্লাহ’ আলাইহিস সালাম ও হযরত ‘আমিনা’ আলাইহাস সালাম হওয়াই প্রমাণ করে উনারা সর্বশ্রেষ্ঠ ঈমানদার। সুবহানাল্লাহ।
**********************************************************************
“আব্দ” অর্থ ‘আনুগত্য স্বীকারকারী’ আর এর সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক যুক্ত হয়ে আব্দুল্লাহ অর্থাৎ তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার বশ্যতা স্বীকার করতেন। তিনি যদি মূর্তি পূজারী হতেন তাহলে উনার নাম হতো ‘আব্দুল উজ্জা। নাউযুবিল্লাহ! অথচ উনার নাম মুবারক হলো ‘আব্দুল্লাহ’। এতে বুঝা গেল, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব উনার মহান ওয়ালিদ বা পিতা আলাইহিস সালাম উনাকে উনার প্রতি বিশ্বাসীই পেয়েছিলেন। ফলে কুদরতী ব্যবস্থায় উনার অসাধারণ নাম মুবারক রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন “আব্দুল্লাহ।’ সুবহানাল্লাহ! তেমনিভাবে “আমিনা” শব্দ মুবারক উনার অর্থ হলো, ‘ঈমান আনয়নকারী বা নিরাপদ’। অর্থাৎ তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ঈমান এনে জাহান্নাম থেকে নিরাপদ হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! আর এটাই স্বাভাবিক। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
والطيب للطيبين والطيبون للطيبت
অর্থ: “সচ্চরিত্রা নারী সচ্চরিত্র পুরুষের জন্য ও সচ্চরিত্র পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্য।” (পবিত্র সূরা নূর শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬)
তাছাড়া কোনো একজন নবী আলাইহিস সালাম-উনার পিতা-মাতা কাফির ও মুশরিক ছিলেন এ মর্মে কারো নিকট কোনো প্রমাণ নেই বা কেউ তা পেশ করতে পারবে না। কেননা সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার উছূল হলো, প্রত্যেক হযরত নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনার পিতা-মাতা ও পূর্বপুরুষ-পূর্বমাতা উনারা সকলেই সর্বশ্রেষ্ঠ ঈমানদার ছিলেন। যেমন, এ সম্পর্কে তাফসীরে বর্ণিত রয়েছে-
فالاية دالة على ان جميع ابائه صلى الله عليه وسلم كانوا مسلمين وحينئذ يجب القطع بان والدحصرت ابراهيم عليه السلام كان مسلما.
অর্থ: “উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা এটাই ছাবিত হয় যে, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বপুরুষ আলাইহিমাস সালাম উনারা সকলেই পরিপূর্ণ মুসলমান ছিলেন। সুতরাং এর দ্বারা অকাট্যরূপে প্রমাণিত বা সাব্যস্ত হয় যে, নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা তিনিও মুসলমান ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে কবীর- ১৩ তম জিলদ ৩৮ পৃষ্ঠা)
পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় তাফসীরের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে-
فلا يمكن ان يكون كافرا فى سلسلة ابائه صلى الله عليه وسلم
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পূর্বপুরুষ উনাদের পবিত্র সিলসিলা উনাদের মধ্যে কেউই কাফির হওয়া সম্ভব নয়।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে মাযহারী শরীফ ৪র্থ খ- ৩০৮ পৃষ্ঠা)
এ সম্পর্কে তাফসীরে আরো বর্ণিত রয়েছে-
ان احدا من اجداده ما كان من المشركين
অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বাপ-দাদা অর্থাৎ পূর্বপুরুষগণ উনারা কেউই মুশরিক ছিলেন না।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে কবীর শরীফ- ১৩ খ- ৩৯ পৃষ্ঠা)
অতএব, সম্মানিত আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা ও ফতওয়া হলো- আখিরী রসূল, সরকারে দো’আলম, খাতামুল আম্বিয়া, ছহিবে মীছাক্ব, উসওয়ায়ে হাসানা, ছহিবে আছালিবে ত্বাহিরীনা ওয়া আরহামি ত্বাহিরা, ছহিবে আসমাউল হুসনা, ছহিবে আলক্বাব, ছহিবে ইক্বরা, সাইয়্যিদুল খালায়িক্ব, রউফুর রহীম, ছহিবে ছলাত ও সালাম, ছহিবে বাশীর ওয়া নাজীর, ছহিবে লাওলাক, ফখরে বাহ্র ওয়া বার সাইয়্যিদুল আম্বিয়া, সরওয়ারে কাওনাইন, সিরাজাম মুনীরা, ফখরে কায়িনাত, আল আমীন, সাইয়্যিদুল আলম, ইমামুন্ নাবিয়্যীন, শাফিউল উমাম, হুব্বুল আউয়ালীন ওয়াল আখিরীন, সাইয়্যিদুল জিন্নে ওয়াল ইন্স, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা উভয়েই জান্নাতী তো অবশ্যই বরং জান্নাত উদগ্রীব হয়ে আছে কখন উনারা জান্নাতে প্রবেশ করবেন আর উনারা জান্নাতে প্রবেশ করলেই জান্নাত উনার সৃষ্টি হওয়ার স্বার্থকতা হাছিল হবে। কাজেই এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ প্রকাশ করাও কাট্টা কুফরী।
আহলে কিতাব উনাদের মধ্যে অনেকেই হক্ব তালাশী ছিলেন। আহলে কিতাব উনাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
ليسوا سواء من اهل الكتاب امة قائمة يتلون ايت الله اناء اليل وهم يسجدون.
অর্থ: “উনারা সবাই সমান নন। আহলে কিতাব উনাদের মধ্যে কিছু লোক এমনও আছেন যাঁরা রাতের একাংশে অবিচলভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ তিলাওয়াত করেন এবং পবিত্র সিজদাহ করেন।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৩)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে