সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।
*****************************************************************************
পূর্ব প্রকাশিতের পর —
**************************
খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সম্মানিত কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন।
 
مَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّـهُ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ
অর্থঃ “মহান আল্লাহ পাক তিনি যা নাযিল করেছেন সেই অনুযায়ী যারা আদেশ করে না তারাই কাফের।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফঃ ৪৪) এর অর্থই হলো যে বা যারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্যাবিয়্যিন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনলো না উনাকে মানলোনা তারা সবাই কাফির। নাউযুবিল্লাহ।
 
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশ ও এতদসম্পর্কিত মু’জিযা শরীফ :
 
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে, “একদা উমাইয়া ইবনে আবু ছালত তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে হাযির হয়ে উনার স্তুতিগাঁথা পাঠ করেন। তিনি প্রথমে ভূম-ল ও নভোম-লের গুণ বর্ণনা করেন। এরপর সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের অবস্থা বিবৃত করেন। স্তুতিগাঁথার উপসংহারে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত, প্রশংসা করতঃ উনার রিসালত সত্য বলে ঘোষণা করেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে সূরা তোয়াহা পাঠ করে শুনান। তিনি বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এটা মানুষের কালাম নয়। কিন্তু আমি আমার ভাই, বন্ধুদের সাথে পরামর্শ না করে কিছু করতে পারি না। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে এর প্রতিদান দান করুন, আমার প্রতি ঈমান আনুন এবং সরল পথ অবলম্বন করুন। তিনি বলেন, আমি সত্বরই ফিরে আসব।
এরপর হযরত উমাইয়া ইবনে আবূ ছালত তিনি ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে যতদূর সম্ভব দ্রুত সিরিয়া পৌঁছলেন। এক গির্জায় অনেক খ্রিস্টান পাদ্রী উপসনায় লিপ্ত ছিলো। উমাইয়া তাদের কাছে তার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করলেন। তাদের মধ্য হতে একজন পাদ্রী বলল, যার সম্পর্কে আপনি এসব কথাবার্তা বললেন উনাকে দেখলে চিনবেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ! সেই পাদ্রী তাকে নিজের বাসস্থানে নিয়ে গেলো। গৃহের প্রাচীর গাত্রে হযরত পয়গম্বরগণ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ছুরত মুবারক কুদরতীভাবে ভেসে উঠেছিলো। সেই খ্রিস্টান পাত্রী উমাইয়াকে অন্দরে নিয়ে গিয়ে অনেক নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের চেহারা মুবারক দেখালো। সর্বশেষে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র চেহারা মুবারক দেখে উমাইয়া বললেন, এই যে তিনি। পাদ্রী বললো, মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে প্রতিদান দিন। তুমি দ্রুত ফিরে যাও এবং উনার প্রতি ঈমান আনো। কেননা, তিনিই মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল এবং সর্বশেষ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
 
 
Views All Time
3
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে