সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।
***************************************************************************
পূর্ব প্রকাশিতের পর।
*********************
খলিক, মালিক, মহান রব তায়ালা উনি উনার সম্মানিত কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন।
 
إِن تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ وَإِن تُصِبْكُمْ سَيِّئَةٌ يَفْرَحُواْ بِهَا وَإِن تَصْبِرُواْ وَتَتَّقُواْ لاَ يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا إِنَّ اللّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطٌ
তোমাদের (মুসলমানদের) যদি কোন মঙ্গল হয়; তাহলে তাদের খারাপ লাগে। আর তোমাদের (মুসলমানদের) যদি অমঙ্গল হয় তাহলে আনন্দিত হয় আর তাতে যদি তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে তাদের প্রতারণায় তোমাদের কোনই ক্ষতি হবে না। নিশ্চয়ই তারা যা কিছু করে সে সমস্তই আল্লাহর আয়ত্তে রয়েছে।সম্মানিত সুরা আল-ইমরান শরীফ উনার সম্মানিত আয়াত শরীফ ১২০।
 
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশ ও এতদসম্পর্কিত মু’জিযা শরীফ :
 
যখন উমাইয়া আরবের পবিত্র হেজায ভূমিতে পৌঁছলো, তখন বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়ে গিয়েছিলো। এতে কুরাইশদের অনেক কাফির সরদার নিহত হয়। উমাইয়া বললো, যদি তিনি পয়গম্বর হতেন তবে সম্ভবত নিজের কওমের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের হত্যা করতেন না। এরপর সে বদর যুদ্ধে নিহত কুরাইশ সরদারদের জন্যে শোকগাঁথা রচনা করলো এবং তায়েফ অভিমুখে চলে গেলো। কিছুদিন সেখানে অবস্থান করার পর সে স্বপ্নে দেখল, তার ভগিনী তার সামনে উপস্থিত এবং গৃহের ছাদে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ফাটল দিয়ে দুটি সাদা পাখি ভিতরে চলে এসেছে। একটি তার পেটের উপর বসে তার পেট থেকে কাপড় সরিয়ে দিয়েছে। পাখিটি অপর পাখিকে বললো, তুমি কিছু শুনেছ? সে বলল, না। প্রথম পাখি বলল, মহান আল্লাহ পাক আপনি একে দূর করুন। এরপর পেটের কাপড় সঠিকভাবে রেখে উভয় পাখি চলে গেলো এবং ছাদের ফাটল বন্ধ হয়ে গেলো।
তার ভগিনী এসে তাকে জাগ্রত করলে সে তাকে স্বপ্নের কথা জানিয়ে বলল, ঊর্ধ্বজগতের দু’জন দূত আমার কল্যাণের জন্যে এসেছিলেন, কিন্তু আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এ ঘটনার পর উমাইয়া কবি আল-জাযাহের কাছে চলে গেলো এবং তার প্রশংসা বর্ণনা করতে লাগলো। উমাইয়া পাখিদের বুলি বুঝত।
একদিন উমাইয়া কবি আল-জাযাহের সাথে মদ্যপানের অপেক্ষায় ছিল। এমন সময় সেখানে একটি কাক এসে কা কা করতে লাগল। উমাইয়ার মুখ বিবর্ণ হয়ে গেলো। আল-জাযাহ জিজ্ঞাসা করল, তোমার কি হলো? উমাইয়া বলল, এই কাক যা বলছে, তা সত্য হলে আমি শরাব হাতে আসার আগেই মারা যাব। আল-জাযাহ তার বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণ করার জন্যে তাকে দ্রুত শরাব দিল। যখনই শরাব তার সঙ্গে উপবিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছল, অমনি উমাইয়া জ্ঞান হারিয়ে ভূতলশায়ী হলো। আল-জাযাহ তাকে কাপড় দিয়ে ঢেকে দিল। কিছুক্ষণ পর কাপড় সরিয়ে দেখা গেলো যে সে মৃত্যুবরণ করেছে। মৃত্যুর সময় তার মুখে এই কবিতা ছিলো: যার অর্থ-
* শতাব্দীব্যাপী দীর্ঘ জীবনও তিক্ত হয়ে যায় এবং অবশেষে খতম হয়ে যায়। হায়, আমি সে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি, এর আগে যদি কোনো দুর্গম পাহাড়ের চূড়ায় থাকতাম।” (শাওয়াহেদুন নুবুওয়াত)
 
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে