সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।
**********************************************************************
পূর্ব প্রকাশিতের পর —
************************
খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনি উনার সম্মানিত কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন –
 
وَمَن يُطِعِ اللّهَ وَالرَّسُولَ فَأُوْلَـئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللّهُ عَلَيْهِم مِّنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاء وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَـئِكَ رَفِيقًا
আর যে কেউ খলিক্ব মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম এবং উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুকুম মান্য করবে, তাহলে যাঁদের প্রতি আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন, সে তাঁদের সঙ্গী হবে। তাঁরা হলেন নবী, ছিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ। আর উনাদের সান্নিধ্যই হল উত্তম।
ذَلِكَ الْفَضْلُ مِنَ اللّهِ وَكَفَى بِاللّهِ عَلِيمًا
এটা হল আল্লাহ-প্রদত্ত মহত্ত্ব বা ফযল করম। আর আল্লাহ যথেষ্ট পরিজ্ঞাত।
 
সম্মানিত সুরা নিসা শরীফ, উনার সম্মানিত আয়াত শরীফ ৬৯-৭০।
 
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশ ও এতদসম্পর্কিত মু’জিযা শরীফ:
*********************************************************************
অপর এক বর্ণনায় হযরত আবূ নায়ীম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত জাহম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে, তিনি উনার পিতা থেকে এবং তিনি উনার দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি শুনেছি আবূ ত্বালিব উনার থেকে, তিনি বর্ণনা করেন, হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনার থেকে। সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম তিনি বলেন,
أنا نائم فى الحجر إذ رأيت رؤيا هالتنى ففزعت منها فزعا شديدا، فأتيت كاهنة قريش وعلى مطرف خز وجمتى تضرب منكبى فلما نظرت إلى عرفت فى وجهى التغيير وأنا يومئذ سيد قومى فقالت ما بال سيدنا قد أتانا متغير اللون؟ هل رابه من حدثان الدهر شئ؟ فقلت لها بلى! وكان لا يكلمها أحد من الناس حتى يقبل يدها النينى، ثم يضع يده على أم رأسها ثم يذكر حاجته ولم أفعل لأنى كبير قومى. فجلست فقلت إنى رأيت الليلة وأنا نائم فى الحجر كأن شجرة تنبت قد نال رأسها السماء وضربت بأغصانها المشرق والمغرب، وما رأيت نورا أزهر منها أعظم من نور الشمس سبعين ضعفا. ورأيت العرب والعجم ساجدين لها وهى تزداد كل ساعة عظما ونورا وار تفاعا ساعة تخفى وساعة تزهر،
 
অর্থ: একদিন আমি হিজর বা হাতীমে ঘুমিয়ে ছিলাম। এই ঘুমের মধ্যে এক বিস্ময়কর স্বপ্ন দেখে আমি আতঙ্কিত হয়ে উঠলাম। ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে আমি খ্রিস্টান পুরোহিত বা পাদরীর নিকট গেলাম। আমার গায়ে ছিলো নকশী রেশমী চাদর এবং আমার লম্বা বাবরি চুল ঘাড়ের কাছাকাছি ঝুলছিলো। আমার প্রতি দৃষ্টিপাত করে তিনি আমার চেহারার পরিবর্তন টের পেয়ে যান। আমি তখন আমার সম্প্রদায়ের সরদার। পাদরী বললেন, ঘটনা কী? আমাদের যিনি সরদার এমন বিবর্ণ চেহারায় আমার নিকট আসলেন কেন? কোনো বিপদ-আপদ, মুছিবতে পড়েছেন বুঝি? আমি বললাম, হ্যাঁ। পাদরীর নিয়ম ছিলো কেউ উনার নিকট আসলে প্রথমে আগুন্তুককে উনার ডান হাত চুম্বন করতে হতো এবং উনার মাথার তালুতে হাত রাখতে হতো। অতঃপর উনার সঙ্গে কথা বলার ও সমস্যার কথা জানানোর সুযোগ পাওয়া যেতো। আমি আমার ক্বওমের সরদার হওয়ার কারণে আমি এসব কিছু করলাম না। এবার আমি বসে পড়লাম এবং বললাম, নিশ্চয়ই গত রাত্রিতে আমি হিজর বা হাতিমে ঘুমিয়ে ছিলাম। দেখি, একটি গাছ মাটি থেকে অঙ্কুরিত হয়ে বড় হয়ে আকাশ ছুঁইছুঁই করছে। ডালগুলো ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত। গাছটি এতোই নূরানীময় এবং এতই সুন্দর উজ্জ্বল আলোকময় যে, তার চেয়ে উজ্জ্বল নূরানী আলো আমি আর দেখেনি। সূর্যের আলো থেকে এর উজ্জ্বলতা ছিলো সত্তরগুণ বেশি। আরো দেখতে লাগলাম, আরব ও আজম উনাকে সিজদা করে যাচ্ছে। প্রতি মুহূর্তে গাছটির পরিধি, উজ্জ্বলতা ও উচ্চতা বেড়েই চলেছে। গাছটির আলো বা উজ্জ্বলতা ক্ষণে খানিকটা ম্লান হয় আবার পরক্ষণে উজ্জ্বল হয়।
 
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
Views All Time
3
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে