সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।
***********************************************************************
পূর্ব প্রকাশিতের পর —
***********************
খলিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনি উনার সম্মানিত কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন –
 
 
هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَতিনিই প্রেরণ করেছেন আপন রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীন সহকারে, যেন এ দ্বীনকে অপরাপর দ্বীনের উপর জয়যুক্ত করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপ্রীতিকর মনে করে।
সম্মানিত সুরা তাওবা শরীফ উনার আয়াত শরীফ ৩৩।
 
 
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশ ও এতদসম্পর্কিত মু’জিযা শরীফ
 
 
হাদীছ শরীফ-এ আরো বর্ণিত রয়েছে,
وقال حضرت أبو نعيم رحمة الله عليه عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه. قال قال حضرت العباس رضى الله تعالى عنه خرجت فى تجارة إلى اليمن فى ركب منهم حضرت أبو سفيان بن حرب رضى الله تعالى عنه، فقدمت اليمن فكنت أصنع يوما طعاما وانصرف بأبى سفيان رضى الله تعالى عنه وبالنفر ويصنع حضرت أبو سفيان رضى الله تعالى عنه يوما، ويفعل مثل ذلك، فقال لى فى يومى الذى كنت أصنع فيه، هل لك يا أبا الفضل أن تنصرف إلى بيتى وترسل إلى غداءك؟ فقلت نعم. فانصرفت أنا والنفر إلى بيته وأرسلت إلى الغداء فلما تغدى القوم قاموا واحتبسنى. فقال هل علمت يا أبا الفضل أن ابن أخيك يزعم أنه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت أى بنى أخى؟ فقال حضرت أبو سفيان رضى الله تعالى عنه اياى تكتم؟ وأى بنى أخيك ينبغى أن يقول هذا الا رجل واحد؟ قلت وأيهم على ذلك؟ قال هو حضرت محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم، فقلت قد فعل؟ قال بلى قد فعل. واخرج كتابا باسمه من ابنه حضرت حنظلة بن أبى سفيان رضى الله تعالى عنه فيه-
অর্থ: হযরত আবু নায়ীম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ব্যবসার উদ্দেশ্যে এক কাফিলার সাথে আমি ইয়ামেনের দিকে বের হই। সেখানে একদিন আমি খাবার তৈরি করতাম এবং হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও অন্যদের নিয়ে খেতাম আর অন্যদিন হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি রান্না-বান্না করতেন এবং সবাইকে নিয়ে খেতেন। একদিন আমার রান্না করার দায়িত্ব ছিলো। হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আবুল ফদ্বল (সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম। আপনি কী আহার্য ও সঙ্গীদের নিয়ে আমার বাসস্থানে আসবেন। আমি রাজী হলাম। সেখানে হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ছিলেন কাফিলার অন্যতম সদস্য। আমরা ইয়ামেন পৌঁছলাম। একদিন আহার শেষে অন্যদের বিদায় করে একান্তে বসে আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আমাকে বললেন, আবুল ফদ্বল! আপনি কী জানেন যে, আপনার সম্মানিত ভাতিজা তিনি ঘোষণা করেন যে, তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমি বললাম, আমার কোন ভাতিজা? হযরত আবূ সূফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমার নিকট বিষয়টি গোপন করছেন দেখছি। একজন ছাড়া আপনার কোন ভাতিজা এমনটি বলতে পারেন। আমি বললাম, তিনি কি সত্যিই এরূপ কথা বলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি উনার আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত শরীফ-এর ঘোষণা দিয়েছেন। এই বলে তিনি হানযালা ইবনে আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার প্রেরিত একটি পত্র বের করলেন।
 
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
 
Views All Time
3
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে