সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।
*************************************************************************
পূর্ব প্রকাশিতের পর —
************************
খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনি উনার সম্মানিত কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন –
সম্মানিত সুরা ইয়াসিন শরীফ, সম্মানিত আয়াত শরীফ ৩ ও ৪
إِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ
নিশ্চয় আপনি প্রেরিত রসূলগণের একজন।সুবহানাল্লাহ।
عَلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
সরল পথে প্রতিষ্ঠিত।
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশ ও এতদসম্পর্কিত মু’জিযা শরীফ
أخبرك ان حضرت محمدا صلى الله عليه وسلم قام بالا بطح فقال- انا رسول ادعوكم الى الله عزوجل- فقال حضرت العباس رضى الله تعالى عنه قلت اجده يا أبا حنظلة صادق. فقال مهلا يا أبا الفضل فو الله ما أحب أن يقول مثل هذا، إنى لاأخشى أن يكون على ضير من هذا الحديث يابنى عبد المطلب، إنه والله مابرحت قريش تزعم ان لكم هنة وهنة، كل واحدة منهما غاية. لنشدتك يا أبا الفضل هل سمعت ذلك؟ قلت نعم قد سمعت. قال فهذه والله شؤمتكم. قلت فلعلها، قال فما كان بعد ذلك الليال حتى قدم عبد الله بن حذافة بالخبر وهو مؤمن، ففشا ذلك فى مجالس اليمن، وكان حضرت أبو سفيان رضى الله تعالى عنه يجلس مجلسا باليمن يتحدث فيه حبر من أحبار اليهود، فقال له اليهودى ما هذا الخبر؟ بلغنى أن فيكم عم هذا الرجل الذى قال ما قال؟ قال حضرت أبو سفيان رضى الله تعالى عنه صدقوا وانا عمه، فقال اليهودى اخو ابيه؟ قال نعم!
তাতে লেখা ছিলো, ‘আমি আপনাকে অবহিত করছি যে, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবতাহে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিয়েছেন যে, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আপনাদেরকে আমি মহান আল্লাহ পাক উনার পথে আহবান করছি। সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, “জবাবে আমি বললাম, হে আবূ হানযালা আলাইহিস সালাম! আমি তো উনাকে হক্ব তথা সত্যিবাদীই পাচ্ছি। হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, “(তখনও আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মুসলমান হননি) থামুন হে আবুল ফদ্বল। মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! আমি পছন্দ করি না যে, হাবীবুল্লাহ হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এরূপ বলেন, আমি তা পছন্দ করি না। হে সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনার সন্তান! উনার এরূপ ঘোষণায় আমি উনার ক্ষতির আশঙ্কা করছি। আমি মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম দিয়ে বলছি, কুরাঈশগণ এমনিতেই বলাবলি করছে যে, আপনার হাতে বহু ক্ষমতা পুঞ্জীভূত হয়ে আছে। আমি আপনাকে দোহাই দিয়ে জিজ্ঞেস করছি হে আবুল ফদ্বল! আপনি কি এ কথা শুনেননি? আমি বললাম, হ্যাঁ, শুনেছি বটে। হযরত আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! এটা আপনার অকল্যাণ বয়ে আনবে। আমি বললাম, নিশ্চয়ই এটা আমাদের জন্য খইর, বরকত তথা কল্যাণ বয়ে আনবে।
এরপর অল্প কয়েকদিন যেতে না যেতেই হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি খবর নিয়ে এলেন। তখন তিনি ঈমান গ্রহণ করেছেন। সেই খবর ইয়ামেনের বিভিন্ন মজলিস বা অনুষ্ঠানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিও ইয়ামেনের এক মজলিসে বসতেন। এক ইহুদী আলিম সেই মজলিসে আলোচনা করতো। সেই ইহুদী আলিম হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে জিজ্ঞেস করলো যে, আমি জানতে পেলাম যে, আগত ব্যক্তিটি কি যেন বলছেন, উনার সম্মানিত চাচা নাকি আপনাদের মধ্যে আছেন? হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ঠিকই শুনেছেন, আমি হচ্ছি উনার চাচা। ইহুদী আলিম বলল, আপনি উনার সম্মানিত পিতা অর্থাৎ হযরত আব্দুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ভাই? হযরত আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, হ্যাঁ।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
Views All Time
2
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে