সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।
***************************************************************************
পূর্ব প্রকাশিতের পর —
***********************
পবিত্র সূরা শরীফ উনার ৮৫ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
من يبتغ غير الاسلام دينا فلن يقبل منه وهو فى الاخرة من الـخاسرين
অর্থ: “যে পবিত্র দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম বা মতবাদের নিয়ম-নীতি গ্রহণ করবে সেটা তার থেকে কবুল করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে অর্থাৎ জাহান্নামী হবে।” নাউযুবিল্লাহ!
 
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশ ও এতদসম্পর্কিত মু’জিযা শরীফ
 
হযরত আমর ইবনে আল জুহানী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ঘটনা
 
قال حضرت الطبرانى رحمة الله عليه حضرت ياسربن سويد رحمة الله عليه حدثه عن حضرت عمروبن مرة الجهنى رضى الله تعالى عنه قال خرجت حاجا فى جماعة من قومى فى الجاهلية، فرأيت فى نومى وأنا بمكة، نورا ساطعا من الكعبة حتى وصل الى جبل يثرب. واشعر جهينة. فسمعت صونا بين النور وهو يقول انقشعت الظلماء، وسطع الضياء، وبعث خاتم الأنبياء. ثم اضاء اضاءة أخرى، حتى نظرت الى قصور الحيرة وأبيض المدائن، وسمعت صوتا من النور وهو يقول ظهر الاسلام، وكسرت الاصنام، ووصلت الارحام، فانتبهت فزعا فقلت لقومى والله ليحدثن لهذا الحى من قريش حدث- واخبرتهم بما رأيت فلما انهينا الى بلادنا جاءنى رجل يقال له حضرت أحمد صلى الله عليه وسلم قد بعث فاتيته فاخبرته بما رأيت. فقال يا حضرت عمرو بن مرة رضى الله تعالى عنه أنا النبى صلى الله عليه وسلم المرسل الى العباد كافة. أدعوهم الى الاسلام، وامرهم بحقن الدماء وصلة الأرحام، وعبادة الله. ورفض الأصنام، وحج البيت وصيام شهر رمصان من اثنى عشر شهرا. فمن اجاب فله الجنة، ومن عصى فله النار.
 
হযরত তিবরানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইয়াসির ইবনে সুওওয়াদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বরাতে বলেছেন যে, হযরত জুহানী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি জাহিলিয়া যুগে আমার সম্প্রদায়ের একদল লোকের সঙ্গে হজ্জ করতে যাই। পবিত্র মক্কা শরীফ-এ অবস্থানকালে একদিন আমি স্বপ্নে দেখলাম, একখন্ড নূর মুবারক পবিত্র কা’বা শরীফ থেকে বিচ্ছুরিত হয়ে ইয়াসরিব (মদীনা শরীফ)- উনার পর্বত পর্যন্ত আলোকিত হয়ে গেছে। আমি শুনতে পেলাম যে, সেই নূর বা আলোক খন্ড মুবারক-উনার মধ্য থেকে যেন বলছেন, অন্ধকার বিদূরিত হয়েছে, নূর বা আলো বিচ্ছুরিত হয়েছে, আখিরী নবী হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রেরিত হয়েছেন। এরপর সেই নূর বা আলোক খন্ড মুবারক আরো উজ্জ্বল হয়ে যায়। আমি হীরার রাজপ্রাসাদ ও মাদায়েনের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। সেই সম্মানিত নূর মুবারক বা আলো মুবারক উনার মধ্য থেকে পুনরায় একটি শব্দ মুবারক শুনতে পেলাম যে, কে যেন বলছেন, সম্মানিত ইসলাম প্রকাশ লাভ করেছেন, মূর্তি-প্রতিমাসমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়েছে এবং আত্মীয়তা সম্পর্ক অটুট হয়েছে। এসব দেখে আমি ভীত অবস্থায় জেগে উঠলাম। জেগে উঠে আমার সম্প্রদায়ের লোকদের বললাম, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! কুরাইশদের মধ্যে একটি ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। আমি তাদেরকে আমার স্বপ্নের কথা বললাম। হজ্জ সম্পাদন করে যখন আমরা দেশে ফিরে এলাম তখন সাইয়্যিদুনা হযরত আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামে এক সুমহান ব্যক্তি উনার সাথে আমার সাক্ষাত হয়। আমি উনাকে আমার স্বপ্নের কথা বলি। তিনি বললেন, হে আমর ইবনে মুররা! আমিই সকল মানুষ তথা কায়িনাতের সকলের প্রতি প্রেরিত নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমি মানুষকে ইসলামের প্রতি আহবান করি এবং তাদেরকে মারামারি, রক্তপাত বন্ধ করার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার, মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত-বন্দেগী করার, মূর্তিপূজা ও প্রতিমাসমূহ বর্জন করার, বাইতুল্লাহ শরীফ-এ হজ্জ করার এবং বারো মাসের একমাস রমাদ্বান শরীফ-এর রোযা রাখার আদেশ করি। যে ব্যক্তি আমার এ আহবানে সাড়া দিবে, তার জন্য রয়েছে জান্নাত। আর যে তা অমান্য করবে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম। (ইনশাআল্লাহ চলবে)
 
Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে