সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।
***********************************************************************
খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনি উনার সম্মানিত কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন -
 
هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا
তিনিই উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালিন খাতামুন্যাবিয়্যিন, নুরে মুজাস সাম হাবিবুল্লা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে হেদায়েত ও সত্য ধর্মসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে একে অন্য সমস্ত ধর্মের উপর জয়যুক্ত করেন। সাক্ষ্যদাতা হিসাবে মহান রব তায়ালাই যথেষ্ট। সম্মানিত সূরা আল ফাতহ শরীফ, সম্মানিত আয়াত শরীফ ২৮ (সম্মানিত মদীনা শরীফ অবতীর্ণ)।
 
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশ ও এতদসম্পর্কিত মু’জিযা শরীফ
 
فامن يا عمرو يؤمنك الله من هول جهنم فقلت اشهد ان لا إله الا الله وانك رسول الله صلى الله عليه وسلم امنت بما جئت من حلال وحرام، وان رغم ذلك كثيرا من الأ قوام. ثم أنشدته أبيانا قلها حين سمعت به. وكان لناصنم. وكان أبى سادناله فقمت اليه فسكسرته. ثم لحقت بالنبى صلى الله عليه وسلم وانا أقول-
شهدت بأن الله حق وانى- لا لهة الأحجار أول تارك
وشمرت عن ساق الازار مهاجرا- اليك أجوب القفر بعد الد كادك
لاصحب خير الناس نفسا ووالدا- رسول مليك الناس فوق الجبائك
فقال النبى صلى الله عليه وسلم مرحبا بك يا حضرت عمروبن مرة رضى الله تعالى عنه – فقلت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ابعشى الى قومى. لعل الله يمن عليهم بى كما من على بك. فبعثى اليهم. وقال عليك بالرفق والقول السديد. ولاتكن فظأ. ولا متكبرا ولا حسودا
সুতরাং হে আমির! তুমি ঈমান আনো, মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাকে জাহান্নামের বিভীষিকা থেকে রক্ষা করবেন।
জবাবে আমি বললাম,
اشهد ان لا اله الا الله وانك رسول الله صلى الله عليه وسلم امنت بما جئت من حلال
وحرام وان رغم ذالك كثيرا من الاقوام.
 
অর্থাৎ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, নিশ্চয়ই আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আপনি যে হালাল ও হারাম বিষয়ের কথা বলেছেন আমি তার প্রতি ঈমান আনলাম। যদিও এই মুবারক ঘোষণা বহু লোককে ক্ষেপিয়ে তুলবে।”
তারপর আমি কয়েকটি পংক্তি আবৃত্তি করলাম। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে প্রথম যখন শুনতে পেয়েছিলাম তখন আমি সেই পংক্তিগুলো আবৃত্তি করেছিলাম। আর আমাদের একটি প্রতিমা ছিলো। আমার আব্বা তার দেখাশুনা করতেন। আমি উঠে গিয়ে সেটি ভেঙে ফেললাম। তারপর আমি আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট যাই। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে উপস্থিত হয়ে আমি এই পংক্তিগুলো আবৃত্তি করলাম, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি হক্ব বা সত্য এবং পাথরের দেবতাসমূহকে আমিই প্রথম বর্জনকারী। আমি আমার কাপড় শক্ত করে গুটিয়ে পাথুরে প্রান্তর অতিক্রম করে আপনার নিকট হিজরত করে এসেছি। আমার উদ্দেশ্য হলো বংশ মর্যাদা এবং মজলিসে যিনি শ্রেষ্ঠ উনার ছোহবত বা সহচার্য লাভ করা। তিনি মানুষ এবং আসমানী রাস্তাসমূহের সাইয়্যিদ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” এসব শুনে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, মারহাবা হে আমর ইবনে মুররা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! তারপর আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। দয়া করে আপনি আমাকে আমার সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করুন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার দ্বারা তাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন যেমন আপনার মুবারক দয়া, উসীলায় তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে আমার সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করলেন এবং বলে দিলেন
عليك بالرفق والقول السديد ولاتكن فظا ولا متكبرا ولاحسودا.
“কোমলতা ও সত্য কথা অবলম্বন করবে। কখনও কঠোর, অহঙ্কার ও হিংসুক হবে না।”(ইনশাআল্লাহ চলবে)
Views All Time
2
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে