সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।
***************************************************************************
পূর্ব প্রকাশিতের পর —
***********************
খলিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনি উনার সম্মানিত কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন –
 
كَيْفَ يَهْدِي اللّهُ قَوْمًا كَفَرُواْ بَعْدَ إِيمَانِهِمْ وَشَهِدُواْ أَنَّ الرَّسُولَ حَقٌّ وَجَاءهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَاللّهُ لاَ يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
মহান আল্লাহ পাক তিনি কি করে ওই সম্প্রদায়কে হিদায়েত দান করবেন যারা ঈমান আনার পর কুফরী করে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়ার পর উনার নাফরমানী করে এবং তাদের নিকট কুরআন শরীফ-সুন্নাহ শরীফ- উনার দলীল আসার পর তা অমান্য করে; এরা মূলত যালিম। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়েত দান করেন না। অর্থাৎ যালিম সম্প্রদায় হিদায়েত লাভের উপযুক্ত নয়। (সূরা আলে ইমরান: আয়াত শরীফ-৮৬)
 
সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারী হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম :
 
ثم إن الله تعالى اوقع فى قلب على الاسلام، فاصبح غاديا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى جاءه فقال ماذا عرضت حضرت على عليه السلام يا حضرت محمد صلى الله عليه وسلم؟ فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم تشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وتكفر باللات والعزى، وتبرأ من الانداد. ففعل حضرت على عليه السلام واسلم، ومكث يأتيه حضرت على عليه السلام خوف من ابى طالب وكتم على اسلامه ولم يظهره، وأسلم حضرت ابن حارثة رضى الله تعالى عنه- يعنى زيدا- فمكثا قريبا من شهر يختلف حضرت على رضى الله تعالى عنه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكان مما أنعم الله به على حضرت على عليه السلام أنه كان فى حجر رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل الاسلام.
 
পরের দিন ভোর বেলা তিনি আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গেলেন এবং বললেন, আপনি আমার নিকট কি প্রস্তাব পেশ করেছিলেন? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন বিষয়টি এই যে-
اتشهد ان لا اله الا الله وحده لاشريك له وتكفر بالات والعزى وتبرأ من الانداد
অর্থ : “আপনি সাক্ষী দিন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, উনার কোনো শরীক নেই। আর আপনি লাত ও উযযা প্রতিমাকে পরিত্যাগ করবেন এবং সকল প্রকার শিরক বা অংশীবাদিতা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখবেন।”
হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি তাই করলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করলেন। তবে উনার পিতা আবূ ত্বালিব উনার কাছে বিষয়টি চুপিয়ে রাখার জন্য নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট যাতায়াত কম করতেন। উনার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি তিনি গোপন রাখলেন। ইতোমধ্যে হযরত যায়িদ ইবনে হারিছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। উনারা এভাবে একমাস কাটালেন। মাঝে মাঝে হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারক-এ আসতেন। হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ রহম করম হচ্ছে এই যে, ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া সাল্লাম উনার তত্ত্বাবধান বা খিদমত শরীফ-এ অবস্থান করছিলেন।” (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৩য় জিলদ ২৪ ও ২৫ পৃষ্ঠা)
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে