সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।
✶✵❅❆❈✶✵❅❆❈✶✵❅❆❈✶✵
পূর্ব প্রকাশিতের পর।
✶✵❅❆
খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সম্মানিত কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন।
وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
অর্থ: দুনিয়া অর্থাৎ পার্থিব জীবন ধোঁকা বা প্রতারণার উপকরণ ব্যতীত কিছু নয়।সম্মানিত সূরা হাদীদ শরীফ, আয়াত শরীফ ২০)

সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারী হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম :

আরো বর্ণিত রয়েছে,
قال حضرت محمد بن اسحاق رحمة الله عليه فلما أسلم حضرت أبو بكر رضى الله تعالى عنه وأظهر اسلامه دعا إلى الله عز وجل، وكان حضرت أبو بكر رضى الله تعالى عنه رجلا مألفا لقومه محبا سهلا، وكان أنسب قريش لقريش، وأعلم قريش بما كان فيها من خير وشر. وكان رجلا تاجرا ذا خلق ومعروف، وكان رجال قومه يأتونه ويألفونه لغير واحد من الأمر، لعلمه وتجارته وحسن مجالسته. فجعل يدعو إلى الاسلام من وثق به من قومه ممن يغشاه ويجلس اليه فاسلم على يديه فيما بلغنى الزبير بن العوام، وعثمان بن عفان، وطلحة بن عبيد الله، وسعد بن أبى وقاص وعبد الرحمن بن عوف رضى الله عنهم، فانطلقوا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعهم حضرت أبو بكر عليه السلام. فعرض عليهم الاسلام وقرأ عليهم القران وأنبأهم بحق الاسلام فامنوا، وكان هؤلاء النفر الثمانية الذين سبقوا فى الاسلام صدقوا رسول الله صلى الله عليه وسلم وامنوا بما جاء من عند الله.
অর্থ: “হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনার ইসলাম গ্রহণ এবং প্রকাশ করার পর তিনি মানুষদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় দাওয়াত দিতে শুরু করলেন। নিজ-সম্প্রদায়ের লোকজনের নিকট তিনি ছিলেন অত্যন্ত মুহব্বতের পাত্র ও মিশুকরূপে পরিচিত। কুরাইশ বংশের তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ কুলজী বিশারদ ছিলেন। উক্ত বংশ মুবারকের খাইর বা কল্যাণ অকল্যাণ সম্পর্কে তিনি ছিলেন সর্বাধিক অবগত। ব্যবসায়ী, আখলাকবান এবং সর্বজন পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে উনার প্রসিদ্ধি ছিলো। উনার ইলম, গরিমা, ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং সুন্দরতম সাহচর্য লাভের আশায় লোকজন উনার নিকট উপস্থিত হতো। যারা উনার নিকট আসতেন, তাদের মধ্যে থেকে যাদেরকে তিনি বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন মনে করতেন, তাদেরকে তিনি ইসলামের দাওয়াত দিতেন।
হযরত মুহম্মদ ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমার জানা মতে, হযরত জুবাইর ইবনে আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত উছমান ইবনে আফফান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত ত্বলহা ইবনে উবাইদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু প্রমুখগণ উনার হাত মুবারক-এ ইসলাম গ্রহণ করেন। উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফ-এ হাজির হন। উনাদের সাথে ছিলেন হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সকলের নিকট ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত পেশ করেন এবং উনাদেরকে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে শুনান এবং উনাদেরকে জানিয়ে দেন যে ইসলামই হচ্ছে হক্ব বা সত্য ও সঠিক দ্বীন। তখন উনারা ঈমান আনয়ন করেন।
ইসলাম গ্রহণে অগ্রবর্তী হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আটজন। উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হক্ব বা সত্য নবী-রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে স্বীকার করে নেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে উনার নিকট যা কিছু এসেছে তার প্রতি উনারা পূর্ণ ঈমান আনয়ন করেন। সুবাহানাল্লাহ! (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৩য় জিলদ ২৯ পৃষ্ঠা)
(ইনশাআল্লাহ চলবে)

Image may contain: text
Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে