সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।
★ ☆ ★ ☆ ★ ☆ ★ ☆★ ☆ ★ ☆ ★ ☆★ ☆ ★ ☆ ★ ☆ ★ ☆★ ☆
খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সম্মানিত কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন।
النَّبِيُّ أَوْلَىٰ بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ ۖ وَأَزْوَاجُهُ أُمَّهَاتُهُمْ ۗ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মু’মিনগণ উনাদের নিকট উনাদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয় এবং উনার পূতঃপবিত্রা মহাসম্মানিতা আযওয়াজ আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন মুমিনগণ উনাদের মাতা অর্থাৎ উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)
পূর্ব প্রকাশিতের পর —
*************************
সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারী হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম :
ووطئ حضرت أبو بكر عليه السلام وضرب ضربا شديدا ودنا منه الفاسق عتبة بن ربيعة فجعل يضربه بنعلين مخصوفتين ويحرفهما لوجهه، ونزا على بطن حضرت أبى بكر عليه السلام حتى ما يعرف وجهه من أنفه وجاء بنوتيم يتعادون فاجلت المشر كين عن حضرت أبى بكر عليه السلام وحملت بنوتيم حضرت أبا بكر عليه السلام فى ثوب حتى أدخلوه منزله ولا يشكون فى موته، ثم رجعت بنوتيم فدخلوا المسجد وقالوا والله لئن مات حضرت أبو بكر عليه السلام لنقتلن عتبة بن ربيعة، فرجعوا إلى حضرت أبى بكر عليه السلام فجعل حضرت أبو قحافة رضى الله تعالى عنه وبنوتيم يكلمون حضرت أبا بكر عليه السلام حتى أجاب، فتكلم اخر النهار فقال ما فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم فمسوا منه بالسنتهم وعذلوه، ثم قاموا وقالوا لامه أم الخير أنظرى أن تطعميه شيئا أو تسقيه إياه فلما خلت به الحت عليه وجعل يقول ما فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فقالت والله مالى علم بصاحبك.
হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনাকে তারা অনেক মারপিট করলো। নাঊযুবিল্লাহ! পাপিষ্ঠ কাফির উতবা ইবনে রবীয়াহ উনার নিকট আসে এবং পুরানো ভারী দুটো জুতো দিয়ে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনাকে প্রহার করলো এবং সেগুলো দিয়ে উনার চক্ষু মুবারকে, মুখ মুবারকে আঘাত করলো এবং উনার পেট মুবারকের উপর উঠে দাঁড়ালো। হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনাকে এমন প্রহার করা হলো যে, উনার নাক-মুখ মুবারক চিনা যাচ্ছিল না। সংবাদ পেয়ে বানু তায়মের লোকজন দ্রুত সেখানে হাযির হয় এবং মুশরিকদের হাত থেকে উনাকে উদ্ধার করে। একটি কাপড়ে মুড়িয়ে তারা উনাকে তুলে নেয় এবং উনার বাড়িতে নিয়ে পৌঁছায়। উনার শাহাদাত যে আসন্ন তাতে তাদের কোনো সন্দেহ ছিলো না।
এরপর বানু তায়ম গোত্রের লোকজন কা’বা শরীফ-এ প্রবেশ করে মুশরিকদের শাসিয়ে দিয়ে বলে যে, হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি শহীদ হলে আমরা উতবা ইবনে রবীয়াকে কতল করে তার প্রতিশোধ নিব। এবার তারা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনার নিকট ফিরে আসে এবং আবু কুহাফা ও বানু তায়মের লোকেরা উনাকে ডাকতে থাকে। এক সময় তিনি তাদের ডাকে সাড়া দেন। দিনের শেষভাগে তিনি কথা বলতে শুরু করেন এবং সর্বপ্রথম যে কথাটি বললেন তা হলো আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোথায়, তিনি কেমন আছেন? একথা শুনে লোকজন উনাকে ভর্ৎসনা করে এবং উনাকে একা রেখে চলে যায়,। তারা উনার মা হযরত উম্মুল খায়ির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে বলে যায় চেষ্টা করে দেখুন উনাকে কিছু খাওয়া-দাওয়া করানো যায় কিনা? গোত্রের লোকজন চলে যাওয়ার পর উনার মা উনাকে কিছু খেয়ে নেয়ার জন্য বলাবলি করতে লাগলেন, আর হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি শুধু বলছিলেন, আখিরী নবী হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কেমন আছেন? উনার মাতা বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! আপনার যিনি রসূল হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে আমি বেশি কিছু জানি না।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে