সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জিসমানী তথা শারীরিক পবিত্রতা মুবারক ও পরিচ্ছন্নতা মুবারক


মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জিসিম মুবারক উনার মধ্যে এমন আখাছ্ছুল খাছ বিশেষত্ব মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন, যা অন্য কারো দেহে হাদিয়া করা হয়নি। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত জিসিম মুবারক থেকে নির্গত সমস্ত কিছুই ছিলেন, পবিত্র থেকে পবিত্রতম এবং পবিত্রতাদানকারী। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
بُنِىَ الدِّيْنُ عَلَى النَّظَافَةِ.
অর্থ: “সম্মানিত দ্বীন উনার ভিত্তি হলো পবিত্রতা”। সুবহানাল্লাহ! (মাফাতিহুল গায়িব ৫/৪৮৭, আশ শিফা’ শরীফ ১/৬২, ইহইয়াউ ‘উলূমিদ্দীন ১/১২৭, কশফুল খফা ১/২৮৮, মাক্বাছিদুল হাসানাহ ১/৭৫৮ ইত্যাদি)
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে-
قَالَ حَضْرَتْ اَنَسٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ مَا شَـمِمْتُ عَنْۘبَرًا قَطُّ وَلَا مِسْكًا وَّلَا شَيْئًا اَطْيَبَ مِنْ رِّيْحِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন, যতো প্রকারের সুগন্ধি আছে চাই তা মেশক হোক বা আম্বর হোক, আমি তার ঘ্রাণ গ্রহণ করেছি। কিন্তু কোনো সুগন্ধিই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জিসিম মুবারক উনার সৌরভ মুবারক উনার সমতুল্য হতে পারে না।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, শুয়াবুল ঈমান ৩/২৪, আর রহীক্বুল মাখতুম ১/৪৭৭, আশ শিফা’ ১/৬২, মুখতাছারু তারীখে দিমাশক্ব ২/১২৯ ইত্যাদি)
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ سَـمُرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ وَاَمَّا اَنَا فَمَسَحَ خَدَّىَّ قَالَ فَوَجَدْتُّ لِيَدِهٖ بَرْدًا اَوْ رِيـْحًا كَاَنَّـمَا اَخْرَجَهَا مِنْ جُؤْنَةِ عَطَّارٍ.
অর্থ: “হযরত জাবির ইবনে সামুরা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামতিনি আমার উভয় গাল মুবারক-এ উনার সম্মানিত পবিত্র হাত মুবারক সঞ্চালন করেন। আমি উনার সম্মানিত পবিত্র হাত মুবারক থেকে এমন শীতলতা ও সুঘ্রাণ অনুভব করি, যেনো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই মাত্র আতর বিক্রেতার কৌটা থেকে উনার সম্মানিত হাত মুবারক বের করে এনেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, আত তারিখুল কবীর, আল মু’জামুল কবীর ২/৩২৫, শরহুস সুন্নাহ লিল বাগবী ১৩/২৩২, মছান্নাফু ইবনে ইবী শায়বা ১১/৪৯৭, ফতহুল বারী ৬/৫৭৩, আদ দীবাজ ‘আলাল মুসলিম ৫/৩২৫, মিশকাতুল মাছাবীহ, নাদ্বরাতুন নাঈম ১/১৭৩, আল খছাইছুল কুবরা ১/১২৬,আর রহীক্বুল মাখতুম ১/৪৭৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ২/৭৪ ইত্যাদি)
আরো বর্ণিত রয়েছে-
مَسَّهَا بِطِيْبٍ اَوْ لَـمْ يَـمَسَّهَا يُصَافِحُ الْمُصَافِحَ فَيَظَلُّ يَوْمَهٗ يَجِدُ رِيـْحَهَا وَيَضَعُ يَدَهٗ عَلـٰى رَأْسِ الصَّبِـىِّ فَيُعْرَفُ مِنْ بَيْنِ الصِّبْيَانِ بِرِيـْحِهَا.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত পবিত্র হাত মুবারক-এ খুশবু ব্যবহার করতেন বা না করতেন; কিন্তু যে ব্যক্তি একবার উনার সাথে মুসাফাহা করতো, সে সারা দিন নিজের হাত থেকে সুঘ্রাণ নিতে পারতো। সুবহানাল্লাহ! তার হাত থেকে মেশক আম্বরের চেয়ে অধিক সুঘ্রাণ বের হতো। সুবহানাল্লাহ! যদি তিনি কখনো কোনো শিশুর মাথায় ¯েœহের হাত মুবারক বুলাতেন, তাহলে ঐ শিশুকে অন্যান্য শিশুদের মধ্যে ঐ সুগন্ধির কারণে চেনা যেতো।” সুবহানাল্লাহ! (শিফা’ শরীফ)
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ دَخَلَ عَلَيْنَا النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عِنْدَنَا فَعَرِقَ وَجَاءَتْ اُمِّىْ بِقَارُوْرَةٍ فَجَعَلَتْ تَسْلُتُ الْعَرَقَ فِيْهَا فَاسْتَيْقَظَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا اُمَّ سُلَيْمٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهَا مَا هٰذَا الَّذِىْ تَصْنَعِيْنَ قَالَتْ هٰذَا عَرَقُكَ نَـجْعَلُهٗ فِىْ طِيْبِنَا وَهُوَ مِنْ اَطْيَبِ الطِّيْبِ.
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমদের নিকট (আমাদের বাড়ীতে) তাশরীফ নিলেন, ক্বায়লুলা মুবারক করলেন তথা দ্বিপ্রহরের সময় সামান্য ঘুমিয়ে বিশ্রাম মুবারক নিলেন। এমতাবস্থায় উনার সম্মানিত পবিত্র জিসিম মুবারক থেকে সম্মানিত নূরুত ত্বীব মুবারক (ঘাম মুবারক) নির্গত হচ্ছিলেন। আমার সম্মানিতা আম্মাজান একখানা শিশি নিয়ে আসলেন এবং উক্ত শিশিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নূরুত ত্বীব মুবারক জমা করতে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে ইরশাদ মুবারক করলেন, হে হযরত উম্মু সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা আপনি এটা কী করছেন? তিনি (আমার মা) বললেন, ‘এটা আপনার সম্মানিত নূরুত ত্বিব মুবারক আমরা আমাদের ব্যবহরিত সুগন্ধির সাথে এটা জমা করে রাখছি। আর তা হচ্ছে সর্বোত্তম সুগন্ধি মুবারক।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বল ৩/১৩৬, শরহুস সুন্নাহ ১৩/২৩৩, শু‘য়াবুল ঈমান ৩/২৩, ফতহুল বারী ১১/৭২, জামি‘উল উছুল ১১/৮৮১৭, মুসনাদুছ ছাহাবা ২০/১৫৯, মা’রিফাতুছ ছাহাবা লি আবী নাঈম ৬/৩৫০৫, আল আনওয়ার ফী শামাইলিন নবিয়্যিল মুখতার ১/৯৬,দালাইলুন নুবুওওয়াহ ১/৫৯, বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৬/২৯, মুখতাছরু তারীখে দিমাশক্ব ২/১২৯ ইত্যাদি)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে