সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে সাহায্য চাওয়ার স্পষ্ট দলীল


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে সাহায্য চাওয়া নাকি শিরক- এমন কুফরী কথা সালাফী, ওহাবী, দেওবন্দীরা বলে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! অথচ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কিতাবে স্পষ্টভাবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে সাহায্য চাওয়ার দলীল আছে, এবং সাহায্য চাওয়ার প্রেক্ষিতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে সাহায্যও করেছেন সেটাও উল্লেখ আছে। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে, حدثتني ميمونة بنت الحارث زوج النبي صلى الله عليه وسلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بات عندها ليلتها فقام يتوضأ للصلاة فسمعته يقول في متوضئه لبيك لبيك ثلاثا نصرت نصرت ثلاثا فلما خرج قلت يا رسول الله سمعتك تقول في متوضئك لبيك لبيك ثلاثا نصرت نصرت ثلاثا كأنك تكلم إنسانا فهل كان معك أحد فقال هذا راجز بني كعب يستصرخني ويزعم أن قريشا أعانت عليهم بني بكر অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ময়মূনা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, একরাত্রে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার হুজরা শরীফে উপস্থিত ছিলেন। তিনি যথারীতি পবিত্র তাহাজ্জুদ উনার নামাযের জন্য উঠলেন এবং অযু করার জন্য গমন করলেন। অতঃপর আমি শুনতে পেলাম যে, তিনি অযু খানায় তিনবার “লাব্বাইক” (আমি তোমার কাছে উপস্থিত) এবং তিনবার “নুসিরতা” (তোমাকে সাহায্য করা হলো) বললেন। যখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অযু করে বের হলেন তখন আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি শুনতে পেলাম- আপনি অযু খানায় তিনবার ‘লাব্বাইক’ এবং তিনবার ‘নুসিরতা’ বলেছেন। যেন আপনি কোনো মানুষের সাথে কথা বলছিলেন। আপনার কাছে আমি ব্যতীত কেউ ছিল কি? তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন- হযরত রাজেয রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি আমার কাছে ফরিয়াদ করছেন। কুরাইশরা উনাকে শহীদ করতে চাচ্ছে। (উল্লেখ্য যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন মদীনা শরীফ ছিলেন আর তখন হযরত রাজেয রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন মক্কা শরীফ)। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফরিয়াদ শুনেছেন এবং সাহায্যও করেছেন।” (দলীল: মু’জাম আছ ছগীর লি তাবরানী: ২য় খন্ড হাদীছ শরীফ নম্বর ৯৬৮, মু’জাম আছ কবীর লি তবারানী, ২৩ খন্ড ৪৩৩, ৪৩৪ পৃষ্ঠা- হাদীছ শরীফ নম্বর ১০৫০, মওয়াহিবুল্লাদুন্নিয়া ৪০১ পৃষ্ঠা) এই পবিত্র হাদীছ শরীফ ওহাবীদের মূল গুরু ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী তার লিখিত “মুখতাসার সিরাতু রসূল” কিতাবেও উল্লেখ করেছে। উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে যে বিষয়গুলো একদম পরিষ্কার হয়ে গেলো সেগুলো হচ্ছে, ১) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার কাছে সরাসরি সাহায্য চাওয়া সুন্নতে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু। ২) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিপদগ্রস্ত বা সর্ববস্থায় সাহয্য চাইলে উম্মতকে সাহায্য করেন। সুবহানাল্লাহ! ওহাবীদের ভাষায় এখন যদি সাহায্য চাওয়া শিরক হয়, তবে কি সালাফীরা বলবে- ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণ শিরিক করেছেন? নাউযুবিল্লাহ! সনদ নিয়ে আপত্তি ও তার জবাব: সালাফীরা এই পবিত্র হাদীছ শরীফ সম্পর্কে যে আপত্তি করে তা হলো এই পবিত্র হাদীছ শরীফ গরীব। একটি মাত্র সনদে বর্ণিত আছে। তাদের এই কথার উত্তরে যেটা বলা যায় সেটা হচ্ছে, বুখারী শরীফ উনার প্রথম যে পবিত্র হাদীছ শরীফ “প্রত্যেক আমল নিয়তের সাথে নির্ভরশীল”। এই হাদীছ শরীফও সনদগতভাবে গরীব। এখন তাহলে কি এই পবিত্র হাদীছ শরীফ বাদ দিয়ে তারা বুখারী শরীফ পড়বে? উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফের আলোকে এখন সালাফীরা কি জবাব দেবে? এই পবিত্র হাদীছ শরীফ মেনে নিয়ে আক্বীদা ঠিক করে নিবে, নাকি নিজেদের মুরুব্বী ইবনে আব্দুল ওহাব নজদীকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মুশরিক ফতোয়া দিবে?
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে