সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল হিদায়েত, নছীহত ও দুর্বার তাজদীদ উনাদের নানাবিধ অনুষঙ্গে ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার অনন্য অবদান


মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা তিনি উনার পবিত্র কালাম পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন: “তোমরা সকলেই আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হয়ে যাও।”
পবিত্র এ আয়াত শরীফ উনার অর্থে বুঝা যায়, সবারই আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। মুবারক স¦ভাব-সঞ্জাত গুণ-বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে অনাবিল কোশেশ যুক্ত করে আল্লাহওয়ালা হওয়া এবং কেবল আপেক্ষিক যোগ্যতায় আপন কোশেশে আল্লাহওয়ালা হওয়ার মধ্যে বিস্তর তফাৎ।
সম্মানিত শরীয়ত উনার বিধানে জীবনের শতমুখী কর্মধারায় মানুষের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণসাধনে যাঁরা কামিয়াব, উনারা উনাদের মুবারক বিলাদত শরীফ সূত্রেই তীক্ষè মেধা, অনন্য প্রতিভা, গভীর অন্তর্দৃষ্টি, অনুপম চরিত্র মাধুর্য, অতুলনীয় সাহসিকতা, দুর্বার স¦াধীনতা, বেমেছাল তাক্বওয়া ও পরহেযগারির ধারক ও বাহক। আপন স¦ভাবে প্রচ্ছন্নভাবে মিশে থাকা এসব বৈশিষ্ট্যের উন্মেষ ঘটে একজন শায়েখ উনার মুবারক সান্নিধ্যে। উনার শিক্ষা ও দীক্ষায় এবং উনার ফায়িজ ও তাওয়াজ্জুতে। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক এবং উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হাক্বীক্বী সন্তুষ্টিলাভে কামিয়াবী অর্জনের ক্ষেত্রে পূর্বকাল থেকে চলে আসা এটিই সম্মানিত শরীয়ত সমর্থিত পদ্ধতি। এ পদ্ধতির ব্যত্যয়ে জীবনের যে তথাকথিত অগ্রগতি, তা মেকী এবং পরিণতিতে দুর্ভাগ্য ও দুর্ভোগের কারণ। দুনিয়ায় এমন সুমহান ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব বিরল। কামিয়াবীর বিজয় মুকুট মাথা মুবারকে নিয়ে এমন এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব তিনি দুনিয়ায় মুবারক তাশরীফ গ্রহণ করেন। খালিছ আল্লাহওয়ালা, অভিজাত, সম্ভ্রান্ত ও শরীফ বংশীয় সাইয়্যিদ পরিবারে উনার মুবারক বিলাদত শরীফ। তিনি হলেন নকশায়ে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, বাহরুল উলুম, কুতুবুল আলম, বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম ওয়াল কাশফ ওয়াল কারামত, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, শাফিউল উমাম, হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
বুযুর্গ পরিবারের সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মুবারক আবহেই সযত্ন লালন-পালন, প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং উনার বেড়ে উঠা। বুযুর্গ পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা উভয়েই সাইয়্যিদ, অর্থাৎ আওলাদে রসূল। মুবারক বংশ গৌরব, শরাফত, আচার-আচরণ ও কর্মে উনারা সর্বজন শ্রদ্ধেয়। উনারা খালিছ আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী। সুবহানাল্লাহ!
ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, শাফিউল উমাম, হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার ঊর্ধ্বতন বুযুর্গ পুরুষ উনারা আরব দেশের অধিবাসী। হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের পবিত্রতম মাধ্যম হয়ে ঊর্ধ্বতন বুযুর্গ পুরুষ উনাদের মুবারক সংযুক্তি ঘটেছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে। সুবহানাল্লাহ! হযরত শাহদামাদ হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ঊর্ধ্বতন বুযুর্গ পুরুষ উনাদের এক জামায়াত প্রায় তিনশত বছরেরও অধিককাল পূর্বে এদেশে আগমন করেন। বর্তমান গাজীপুর জেলাধীন কাপাসিয়া ও মনোহরদী থানার সংযোগস্থল ‘হাতিরদিয়া’তে সাময়িক অবস্থানের পর তরগাঁও ইউনিয়নের ‘উত্তর খামের’ গ্রামে উনারা স্থায়ী বসতি নির্মাণ করেন এবং সেখানেই হিদায়েত ও নছীহতের কাজে নিয়োজিত থাকেন। বাড়ির আঙ্গিনায় একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়, যা আজও বিদ্যমান। বাড়ির অদূরে উনাদের প্রতিষ্ঠিত একটি মাদরাসাও চালু ছিলো।
১৩৯৫ হিজরী সনের মুবারক ১৪ যিলক্বদ শরীফ মুতাবিক ১৯৭৫ ঈসায়ী সনের ১৯ নভেম্বর ঢাকায় শাফিউল উমাম, হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ। বুযুর্গ পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা উনাদের লখতে জিগার আওলাদ আলাইহিস সালাম উনাকে উনার মুবারক কৈশোরেই আদব, শরাফত, প্রশিক্ষণ ও পর্যায়ক্রমিক ইলম দানে সমৃদ্ধ করে তোলেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য যাবতীয় ইলম ও প্রজ্ঞায় ব্যুৎপত্তি হাছিল করেন শাফিউল উমাম, হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি। মুবারক বিলাদত শরীফ সূত্রেই তীক্ষè মেধা ও মননের অধিকারী হওয়ায় শ্রেণী বিন্যাসকৃত পরীক্ষার সকল ধাপেই তিনি কৃতিত্বের সাক্ষর রাখেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি বুয়েট থেকে ঈর্ষণীয় ফলাফলে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হন। এ.আই.ইউ.বিতে তিনি ফ্যাকাল্টি মেম্বার নির্বাচিত হয়ে কিছুদিন সেখানে অবস্থান করেন। অতঃপর প্লানিং ডিপার্টমেন্টে টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সাত বছর কাজে নিয়োজিত থাকেন।
মাহবুব ওলীগণ উনারা আবাল্য স¦াধীন। পরাধীনতা ওলীত্বের অন্তরায়। মহান পারিবারিক ঐতিহ্য, অন্তরে লালিত স¦প্ন, অনুভবে মধুর যন্ত্রণা কাতরতা অনুক্ষণ একজন শায়েখ উনার ক্বদম মুবারকে ঠাঁই নিতে হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। প্রত্যাশা পূরণের মহান লক্ষ্যে ১৪২১ হিজরী সনের পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মুতাবিক ২০০০ ঈসায়ী সনে তিনি মুজাদ্দিদে মাদারযাদ, পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল উমাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত হয়ে গন্তব্য মঞ্জিলে পৌঁছার পথ অবারিত করেন। সুবহানাল্লাহ! নিয়মিত মুবারক ছোহবত ইখতিয়ার করে, যিকির ও ফিকিরে অভ্যস্ত হয়ে এবং মুরাক্বাবা, মুশাহাদা ও ইবাদত-বন্দেগীতে নিবিষ্ট হয়ে তিনি কামিয়াবীর চূড়ান্ত সোপানে উপনীত হন। তিনি অল্প সময়ে সকল সম্মানিত তরীক্বার ছবক সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেন। সুবহানাল্লাহ!
পাশাপাশি নিয়মিতভাবে তিনি মুজাদ্দিদে মাদারযাদ, খলীফাতুল উমাম, আওলাদে রসূল, কুতুবুল আলম, খাজিনাতুর রহমাহ, মাখযানুল মারিফাহ, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, খলীফাতুল মুসলিমীন, নকশায়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, সুলত্বানুল আরিফীন, নূরে খাজীনা, নূরে মুকাররম, বাহরুল উলূম, গাউছূল আ’যম, মাহবূবে রব্বানী, আল মানছূর, ছানিয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম, কুদরতে ইলাহী, মুজিযায়ে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ছোহবত হাছিলে ধন্য হন। এতে সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার কামিয়াবীর অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হয়। সুবহানাল্লাহ!
ইমামুল উমাম, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম এবং খলীফাতুল উমাম, ছানিয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনাদের অবিরাম ধ্যান-খেয়াল, মুহব্বত, মা’রিফাত, তায়াল্লুক-নিসবতে মশগুল থাকায় টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং পদবির লোভনীয় চাকরিটি শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনাকে ধরে রাখতে পারে না। ২০০৯ ঈসায়ী সনে চাকুরিতে ইস্তফা দিয়ে পরিপূর্ণরূপে তিনি দুনিয়া বিরাগী মানসিকতায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। শুরু হয় ক্রমবর্ধিষ্ণুরূপে একের পর আরেক মাক্বাম উত্তরণে গন্তব্য অভিমুখে উনার অগ্রযাত্রা। সুবহানাল্লাহ! এখন আর কোনো পিছুটান নেই। কেবলই আপন মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ছোহবতে ও খিদমতে নিয়োজিত থেকে মুহব্বত ও মারিফাতের অথৈ পারাবারে অনুক্ষণ অবগাহন। সুবহানাল্লাহ!
মাহবুব ওলীআল্লাহ উনাদের নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার বিষয়টি আসমানী ফায়ছালার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে কোনো পক্ষেরই কালক্ষেপণ হয়না। সহজেই অনুমেয় যে, ইমামুল উমাম, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং উনার মহা-সম্মানিতা ছাহিবাতুল মুকাররামা, উম্মুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনাদের লখতে জিগার, নূরে চশম, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নাক্বীবাতুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনাকে পাত্রস্থ করার জন্য বেমেছাল মর্যাদা ও যোগ্যতাসম্পন্ন একজন সুমহান ব্যক্তিত্ব প্রয়োজন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, ত্বহিরা ওয়াত ত্বইয়্যিবা, ফক্বীহা, নূরে হাবীবা, নূরে মদীনা, গুলে মুবীনা, রাহনুমায়ে দ্বীন, ছিদ্দীক্বায়ে কুবরা, মিছদাক্বে কুরআন ওয়াল হাদীছ, মাহবুবায়ে ইলাহী, উম্মু আবীহা, আহলুল বাইতি, মুহসানাতুল উম্মাহ, ফাদ্বীলাতুন নিসা, কামিলাতুন নিসা, খাইরে নিসায়িল আলামীন, ছাহিবাতুল হুসনা, ওয়ারিছাতুন নাবিয়্যী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আওলাদে রসূল, ওলীয়ে মাদারযাদ, হাবীবাতুল্লাহ, হাবীবাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নাক্বীবাতুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনাকে পাত্রস্থ করতে যে সুমহান ব্যক্তিত্ব দরকার, সে বুযূর্গ ব্যক্তিত্ব উনার মান, শান, মর্যাদা, মর্তবা, মাক্বাম, বংশ কৌলীন্য, ইজ্জত-ঐতিহ্য প্রয়োজন, তা আমাদের আক্বল, সমঝ, উপলব্ধি ও অনুভূতির সীমাহীন ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
সে পাত্র তিনিই হলেন নকশায়ে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, বাহরুল উলুম, কুতুবুল আলম, বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম ওয়াল কাশফ ওয়াল কারামত, মাহবুবে ইলাহী, মাহিউল বিদয়াত, মিছদাক্বে কুরআন ওয়াল হাদীছ, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, শাফিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সাইয়্যিদ শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি। উনার মান, শান, মর্যাদা ও মাক্বামাত বর্ণনার অপেক্ষা রাখে না। তবে একথা সত্য যে, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নাক্বীবাতুল উমাম হযরত শাহযাদী উলা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক সান্নিধ্যে আসার কারণেই শাফিউল উমাম, হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার মান, শান, মর্যাদা, মহিমা ও মাক্বাম উনাদের পরিবৃদ্ধি ঘটেছে সীমাহীন মাত্রায়। সুবহানাল্লাহ!
১৪৩০ হিজরী সনের সুমহান ২২ শাওওয়াল শরীফ উনার পবিত্রতম নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা উনার মুবারক নির্দেশে এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সদয় উপস্থিতিতে মূলত এ পবিত্রতম নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হয় জান্নাতে। মুবারক ওই অনুষ্ঠানের একই আদলে রাজারবাগ পাক দরবার শরীফস্থ সুন্নতী জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার মাহফিল। সুবহানাল্লাহ! ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নাক্বীবাতুল উমাম, হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক উসীলায় কায়িনাতবাসী পেলো একজন শাফিউল উমাম, হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনাকে। তিনি হলেন উনার যাওজুল মুহতারাম। সুবহানাল্লাহ!
ক্বিয়ামতব্যাপী হক্ব মত ও পথ প্রদর্শন ও বাস্তবায়নের অমিয় ধারা অনুক্ষণ অক্ষুণœ রাখার মহান লক্ষ্যে নাক্বীবাতুল উমাম, হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনি এবং উনার যাওজুল মুহতারাম শাফিউল উমাম, হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনারা কায়িনাতবাসীকে হাদিয়া করেন সাইয়্যিদাতুল উমাম আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে। সুবহানাল্লাহ!
হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার ইলম, প্রজ্ঞা, তাক্বওয়া, পরহেযগারী, তা’য়াল্লুক, নিসবত, মুহব্বত ও মারিফাতের পরিধি বেমেছাল। মান, শান, ইজ্জত ও ঐতিহ্যে তিনি অতুলনীয়। প্রত্যয়ী ব্যক্তিত্ব, শৌর্য, কৌলীন্য, গাম্ভীর্য, সূক্ষ্ম মনন, তীক্ষè মেধা, ধৈর্য, স্থৈর্য, আদব, শরাফত, আন্তরিকতা, অমায়িকতা, সময়ানুবর্তিতা এবং যিকির-ফিকির ও ইবাদত-বন্দিগীর নিবিষ্টতায় তিনি অনন্য। সুবহানাল্লাহ! সর্বোপরি তিনি আওলাদে রসূল, ওলীয়ে মাদারযাদ, নাক্বীবাতুল উমাম, হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার যাওজুল মুহতারাম। এটি উনার সীমাহীন মর্যাদা ও মাক্বাম। উনার যতো লক্বব মুবারক, সে সবের মধ্যে সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম মর্যাদার লক্বব মুবারক হলো ‘হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম।” সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল উমাম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম কর্তৃক কুল-কায়িনাতব্যাপী খিলাফত আলা মিন হাজিন নুবুওওয়াহ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার মজবুত ভিত রচনা এবং উনার অপ্রতিরোধ্য তাজদীদ বাস্তবায়নের আঞ্জামদানে শাফিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি নিরন্তর নিয়োজিত। এছাড়া দরবার শরীফ উনার যাবতীয় জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ সুন্নতী তর্জ-তরীক্বায় পরিচালনা ও সমাধানে উনার সর্বক্ষণের সম্পৃক্তি। বিশাল কর্মকা- তত্ত্বাবধান ও নির্বাহে উনার সার্বক্ষণিক ব্যস্ততা। শত ব্যবস্ততার মাঝেও প্রার্থীর প্রার্থনা পূরণে, বিভিন্ন অভিযোগ শ্রবণ ও সমাধানে, বিপন্ন মানুষের দুঃখ মোচনে এবং প্রজ্ঞাময় উপদেশদানের আন্তরিকতায় তিনি ক্লান্তিহীন ও অনন্য। সুবহানাল্লাহ!
উনার মুবারক অবয়বে মাদানী নূর। মুবারক মন ও মননে খিলাফত প্রতিষ্ঠার স¦প্ন। অনুপম ব্যক্তিত্বে, মুবারক আচার-আচরণ ও বাক্যালাপে, গাম্ভীর্যপূর্ণ অমায়িকতায়, সুন্নত পালনের দায়িমী অভ্যস্ততায় এবং তুলনাহীন চরিত্র মাধুর্যে তিনি সুমহান। খাছ আওলাদে রসূল হিসেবে তিনি পূত-পবিত্র। তিনি মহা-সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, শাফিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার সীমাহীন ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী, সম্মান ও মাক্বাম সম্পর্কে আমরা একান্তই অজ্ঞ। সুমহান ১৪ যিলক্বদ শরীফ উনার মুবারক ঈদে বিলাদত শরীফ। পবিত্রতম ও সীমাহীন নিয়ামতপূর্ণ এ উপলক্ষে কেবল ইমামুল উমাম, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম, মহা-সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী সন্তুষ্টি হাছিলই আমাদের বিনীত লক্ষ্য।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে