‘সাগরে কোনো নিরাপত্তা নাই, সরকারিভাবে কোনো ভূমিকা নাই’


অনিরাপদ হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর এলাকা। নৌদস্যুদের আক্রমণ আতঙ্কে এখন দুশ্চিন্তায় গভীর সমুদ্রগামী জেলেরা। মাঝসমুদ্রে হরহামেশাই গায়েব করে ফেলা হচ্ছে জাহাজ। ফোন করে চাওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ। এই অবস্থায় অভিযানের নামে শুধু নৌমহড়ায় সীমাবদ্ধ আছে কোস্টগার্ডের কার্যক্রম।
আনসার উদ্দিনের নৌকার জেলেদের অপহরণ করার পর মুক্তিপণ দাবি করে ফোনে হুমকি দেয়া হয়। বলা হয়- আপনার নৌকা ধরেছি, সবার কাছে যা নিচ্ছি আপনি আমাকে সেটাই দেবেন। এক ঘোড়া নৌকার জন্য এক লাখ টাকা, দুই ঘোড়া নৌকার জন্য দুই লাখ টাকা দেবেন।
গভীর বঙ্গপোসাগরে মাছ ধরতে এসে আলীপুর গ্রামের বহু জেলে আনসার উদ্দিনের নৌকার জেলেদের মতো বিভিন্ন বাহিনীর নৌদস্যুদের হাতে এখনো আটক রয়েছে। গত চার মাসে কুয়াকাটায় বঙ্গপোসাগর এলাকা এবং ভারত বাংলাদেশ নৌসীমান্তে ফেয়ার বয়ারসহ বিভিন্ন পয়েন্টে চার দফা গণডাকাতি হয়। প্রতিবারই নৌদস্যুরা জেলেদের অপহরণ করে ট্রলারসহ নিয়ে যায় সুন্দরবনের গহীন জঙ্গলে। যেখানে জেলেদের বন্দি রেখে ট্রলার মালিকদের কাছ থেকে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ।
আলীপুর মৎস্য ট্রলার ও আড়তদার সমিতির সভাপতি আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘বিভিন্ন নৌকার মাঝি এবং নৌকাসহ জিম্মি করে। আসার পথে ডাকাতদের লুণ্ঠিত মাল কোস্টগার্ডদের ট্রলারে উঠিয়ে দেয়’।
খুলনার ফুলতলা দামুড়া এলাকার বাচ্চু ব্যাগ ওরফে গালা বাচ্চু ভারতে অবস্থান করে সহযোগীদের মাধ্যমে ডাকাতি করে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ডাকাতির কাজে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্চিন বোট, দেশী ও ভারতের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়। আর বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আদায় করা হয় মুক্তিপণ। শুধু তাই নয়; এসব নৌদস্যুদের সাথে রয়েছে প্রশাসনের গোপন সখ্যতা।
অপহরণের শিকার এক ব্যক্তি বলেন, ‘অপহরণ করে এত মার মারে, মারধর করে মোবাইল টোবাইল, মাছটাছ সব নিয়ে যায়’। এক জেলে বলেন, ‘সাগরে কোনো নিরাপত্তা নাই। সরকারিভাবে কোনো ভূমিকা নাই’।
পটুয়াখালী কলাপাড়া কোস্টগার্ডর সিপিও আনিসুর রহমান বলেন, আমরা আগেও অভিযান চালিয়েছি এবং আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
এ অবস্থায় গভীর সমুদ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।

 

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+