সাগর পাড়ে তরমুজের বাম্পার ফলন


বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় এবার তরমুজের বাম্পার ফলন হয়ছে। কঠোর পরিশ্রমে ফলানো তরমুজ বিক্রি শুরুর সাথে সাথেই কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি ফুটতে শুরু করেছে। এক সময় এ অঞ্চলে তরমুজ চাষাবাদের কেউ চিন্তাও করতো না। এখন পদ্মার এপার, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ জেলা ভোলা থেকে শুরু করে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা পর্যন্ত হাজার হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষাবাদ হচ্ছে। কলাপাড়ার ধানখালী, লালুয়া, ধুলাসার, লতাচাপলী ও খাপড়াভাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা উন্নতজাতের তরমুজের বীজ বপন করে বিগত বছরের চেয়ে এ বছর ভালো ফলন পেয়েছে বলে কৃষকরা জানায়। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও গলাচিপাতেও এবার তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে এবার অকাল বর্ষণ, শিলা বৃষ্টি বা জোয়ারের পানি না উঠায় তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। ২০০৭ সালে ভয়াল ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর তরমুজ চাষাবাদে কিছুটা বিপাকে পড়ে এ অঞ্চলের কৃষকরা। বর্ষা মৌসুমের আগেই আকস্মিক জোয়ারে পানি উঠে তরমুজ চাষাবাদ নষ্ট হয়ে যেতো। পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় তরমুজ ফলানোর আগেই গাছ মরে যেতো। এবার সবচেয়ে ভালো তরমুজের ফলন হয়েছে বঙ্গোপসাগরের কূলঘেঁষে থাকা সর্বদক্ষিণের উপজেলা কলাপাড়ায়। সেখানকার কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এক সময় এ উপজেলায়  লবণাক্ততার কারণে তরমুজসহ অন্যান্য রবিশস্য উত্পাদন হতো না। ধীরে ধীরে লবণাক্ততা কমে যাওয়ার ফলে কৃষকরা তরমুজ ও রবিশস্য উত্পাদন শুরু করে। বর্তমানে কৃষকদের কাছে তরমুজ ও রবিশস্য অর্থকরী ফসল হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। এ বছর ১ হাজার ৪শ ৯২ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তরমুজ চাষিরা ১ হাজার ৫শ ৮০ হেক্টর জমিতে তরমুজের বীজ রোপণ করেছে। এরমধ্যে মাত্র ধানখালী ইউনিয়নেই ১ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে তরমুজের বীজ রোপণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সাগরপাড়ের কলাপাড়া উপজেলাসহ রাঙ্গাবালী, গলাচিপা, ভোলার লালমোহন ও চরফ্যাশন থেকে তরমুজ আসতে শুরু করেছে বরিশালের মোকামগুলোতে। সৌখিন ক্রেতারা চড়ামূল্যে এসব তরমুজ ক্রয় করলেও এখন পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে তরমুজের স্বাদ।  নগরীর মোকামে তরমুজ বিক্রি করতে আসা পাইকার ও কৃষকরা জানায়, গত বছর তরমুজ চাষ অকাল জোয়ারের কারণে ব্যাহত হয়েছে। এবার কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় তারা কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে শুরু করেছেন। তারা জানান, উন্নত জাতের বীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক ওষুধের অধিক মূল্য হওয়ার কারণে প্রথম পর্যায় কৃষকদের হিমশিম খেতে হয়েছে।

সাগর ঘেঁষা চর গঙ্গামতি গ্রামের সুমন প্যাদা জানান, মৌসুমের শুরুতেই নিজের ৪০ কড়া জমিতে তরমুজ চাষ শুরু করেন। পরে তিনি অন্যের আরো ৪০ কড়া জমি একসনা নগদ টাকায় নিয়ে চাষ করেন। মোট তার ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি ৬০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন।

পুরোদমে তরমুজ বিক্রি শুরু হলে হয়তো দাম কিছুটা কমে যাবে। তবুও তিনি এবার দ্বিগুণ লাভের আশায় বুক বেঁধে আছেন। দক্ষিণাঞ্চলে উত্পাদিত তরমুজ শুধু বরিশালের মোকামেই আসে না। এসব তরমুজ ক্রয় করতে ঢাকার পাইকাররা ট্রাক নিয়ে ছুটে আসেন বিভিন্ন উপজেলায়। তারা তরমুজের মাঠ থেকেই নগদ টাকায় তরমুজ ক্রয় করে ঢাকার কাওরান বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+