সাতক্ষীরার ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও বিশাল মানববন্ধন


মানববন্ধনে বক্তাদের মূল বক্তব্য-

* সাতক্ষীরার ঘটনায় হিন্দুদের বিষয়টি আমলে নেয়া হলেও আখেরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অবমাননার বিষয়টি আমলে আনা হচ্ছে না কেন?
* ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী হিন্দু-মুসলিম নামধারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে
* সাতক্ষীরায় শান্তিকামী মুসলমানদের হয়রানি ও গ্রেফতার বন্ধ করতে হবে
* সুরঞ্জিতের সাম্প্রদায়িক পৃষ্ঠপোষকতা ও উস্কানীমূলক বক্তব্য বন্ধ করতে হবে

 

“সাতক্ষীরার ঘটনায় আখেরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অবমাননার বিষয়টি আমলে নেয়াসহ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী হিন্দু-মুসলিম নামধারী উভয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, শান্তিকামী মুসলমানদের হয়রানি ও গ্রেফতার বন্ধ এবং রেলমন্ত্রি সুরঞ্জিতের সাম্প্রদায়িক পৃষ্ঠপোষকতা ও উস্কানীমূলক বক্তব্য বন্ধের দাবিতে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, জাতীয় কুরআন শিক্ষা মিশন বাংলাদেশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও রাজপথে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরার ঘটনা ফুলিয়ে ফাপিয়ে প্রচার করছেন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি হিন্দু বলেই কী হিন্দুদের বিষয়ে তিনি একচেটিয়া খবরদারি করবেন? এতে কী তিনি ঘোর সাম্প্রদায়িক প্রমাণিত হলেন না? পাশাপাশি এর দ্বারা বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশে যে চরম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চলছে সেটাও কী তিনি অস্বীকার করলেন না?  তিনি কী রেলমন্ত্রী না হয়ে বাংলাদেশের হিন্দু মন্ত্রী হতে চান?
বক্তারা আরো বলেন, সাতক্ষীরার এ ঘটনা নিয়ে সুরঞ্জিতের নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র ও যুব মহাজোট তারা বিভিন্ন রকমের উস্কানীমূলক কার্যক্রম করছে। এতে করে মূলত: সুরঞ্জিতসহ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বিশেষ সাম্প্রদায়িক মনোভাব ফুটে উঠেছে। এ সাম্প্রদায়িক মনোভাবের প্রেক্ষিতেই তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ চেয়েছে। তাই অবিলম্বে সুরঞ্জিতের সাম্প্রদায়িক পৃষ্ঠপোষকতা ও উস্কানীমূলক বক্তব্য বন্ধ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, সুরঞ্জিত গং একটি কথা বার বার প্রচার করছে যে সাতক্ষীরায় হিন্দুদের বাড়ীঘর পোড়ানা হয়েছে। কিন্তু সাতক্ষীরায় যে মুসলমানদের বাড়ীঘরও পোড়ানো হয়েছে যেমন, আবুল মেম্বার ও তার তিন ভাইয়ের বাড়ী পোড়ানো হয়েছে, অভিনয়কারী ছাত্র শাহীনুর আলম তার বাড়ীও পোড়ানো হয়েছে সেসব কথা একবারও সুরঞ্জিত গংরা উচ্চারণ করছে না কেন? তবে কী মুসলমান বলে তাদের বাড়ী-ঘর, জীবন-সম্পদের কোনো দাম নেই। সুরঞ্জিত গংরা শুধু হিন্দুদের ফায়দাই চায়; মুসলমানরা তাদের কাছে মানুষ নয়?
বক্তারা বলেন, হিন্দু বিদ্বেষ থেকে এই বাড়ী-ঘর পোড়ানো হয়নি। মুসলমান বিদ্বেষ থেকে পোড়ানো হয়নি। বরং যারা এদেশের ৯৭ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানদের প্রাণ, ঈমানের ঈমান, আখেরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অবমাননা করেছে, উনাকে নারী লোলুপ বলেছে (নাঊযুবিল্লাহ) একাধিক নারীর সাথে উনার অবৈধ সম্পর্ক ছিল বলে নাটকে দেখিয়েছে (নাঊযুবিল্লাহ)। তাদের বিরো্েদ্ধ ঈমানী জজবায় আপ্লুত হয়ে প্রতিবাদী মুসলমান তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। এখানে তারা কে ইসলাম বিদ্বেষী হিন্দু অথবা কে নামধারী মুসলমান সেদিকে তাকায়নি।
বক্তারা বলেন, আজ সুরঞ্জিত গংরা সংখ্যালঘু উল্লেখ করে হিন্দুদের বাড়ী-ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে বলে মায়া কান্নার মহারোল তুলেছে। কোটি কোটি টাকার সাহায্য দেয়ার পরও তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছে। কিন্তু যে কারণে যে অপরাধে এ ঘটনার অবতারণা সে অপরাধের বিচারের দিকে একবারও তারা তাকাচ্ছে না?
আখেরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি হলেন মুসলমানদের ঈমান। সেই ঈমানের উপর আঘাত হানলে তা কোন মুসলমান তাদের জীবন থাকতে বরদাশত করতে পারবে না।
কাজেই সাতক্ষীরার ঘটনায় রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এর এদেশের ৯৭ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত এ দেশে,  দেশের চৌদ্দ কোটি মুসলমানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম-পরম আঘাত হানা হয়েছে। কিন্তু তার বিচারের কোন প্রক্রিয়া চলছে না।
বক্তারা বলেন, বরং বিচার প্রক্রিয়া আড়াল করার জন্যই শুধু হিন্দুদের কিছু ঘর-বাড়ী পোড়ানোর ঘটনা ফুলিয়ে ফাপিয়ে প্রচার করা হচ্ছে, হিন্দু তোষণ করা হচ্ছে। কিন্তু এতে শেষ রক্ষা হবে না। এ ষড়যন্ত্র ঈমানদার মুসলমান মেনে নিবেনা। এ কূটচাল দেশের ৯৭ ভাগ মুসলমান বরদাশত করবে না। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অবমাননার বিচার না হলে দেশের ৯৭ ভাগ জনগোষ্ঠী ধর্মপ্রাণ মুসলমান বসে থাকবেনা। দেশের ৯৭ ভাগ মুসলমান ভুলে যাবে না। বরং তাতে শুধু সুরঞ্জিত গংরাই সুযোগ নিবে না, তাতে ফায়দা লুটবে ধর্মব্যবসায়ী কমিনী গং ও।
কাজেই আমরা অবিলম্বে সাতক্ষীরার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। বিশেষ করে সাতক্ষীরার ঘটনায় বর্তমানে যে ‘উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে’ চাপানোর ন্যায় শান্তিকামী মুসলমানদের উল্টো হয়রানি, গ্রেফতার করা হচ্ছে ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অবমাননাকারী হিন্দু-মুসলিম নামধারী উভয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ধর্মের নামে অধর্মকারীদের শাস্তি চাই। ধর্মব্যবসায়ীদের নিপাত চাই। ধর্মকে কলঙ্কিতকারীদের মৃত্যুদ- চাই। ধর্ম নিয়ে সাম্প্রদায়িক গোলযোগকারীদের দমন চাই। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারীদের ফাঁসি চাই।
সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা মুহম্মদ আবু বকর সিদ্দিক (সহ-সভাপতি,  বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ ও সভাপতি-জাতীয় কুরআন শিক্ষা মিশন), ওলামা লীগ নেতা মাওলানা হাফেজ মোস্তফা চৌধুরী বাগেরহাটের হুজুর (সভাপতি-বাংলাদেশ এতিমখানা কল্যাণ পরিষদ), হাফেয মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার (সভাপতি-বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা পরিষদ) ওলামা লীগ নেতা মাওলানা মুজিবুর রহমান চিশতী, মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সুবহান, মাওলানা মুহম্মদ ওয়াছিউদ্দিন নূরানী, মাওলানা মুহম্মদ রুহুল আমীন নূরী, মাওলানা মুঈনুদ্দীন চিশতী আল ফারাজী, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মাওলানা হাবীবুল্লাহ আল ক্বাদরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র পরিষদের মুহম্মদ হাবীবুর রহমান, মুহম্মদ পলাশ, মুহম্মদ জাহাঙ্গীর এবং বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্ধ।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+