সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

সানকি ইয়াদিম (ধরো আমি খেয়েছি) মসজিদ !


জামে সানকি ইয়াদিম। বাংলায় ‘ধরো আমি খেয়েছি’ মসজিদ। এমন অদ্ভুত নামের এই মসজিদটি ইস্তাম্বুল শহরের ফাতেহ এলাকায় অবস্থিত।

উসমানী শাসনামলে ১৭ শতকে ইস্তাম্বুল শহরের ফাতেহ এলাকায় বাস করতেন এক হতদরিদ্র মুসলমান। উনার নাম খায়রুদ্দিন আফেন্দী। পথে-ঘাটে ঘুরে বেড়াতেন তিনি।মাঝে মধ্যে বাজারের অলিগলিতে একা একা হাটঁতেন।

রাস্তার দুই ধারে দোকানের ভিতর সাজানো হরেক রকম খাবার দেখে কখনো কখনো উনার খুদার্ত মন অস্থির হতো। নানা স্বাদের খাবার দেখে উনার সাধ জাগত সেসব মুখে দেওয়ার।কিন্তু সাধ থাকলেও মনকে প্রবোধ দিতেন।

কোন খাবার প্রতি উনার লোভ হলে ওই খাবারের দাম জিজ্ঞেস করতেন তিনি তারপর পকেট থেকে সে পরিমাণ অর্থ বের করে সঙ্গে রাখা একটি বাক্সে ফেলতেন।আর মনে মনে নিজেকে প্রবোধ দিতেন , ধরো, আমি তা খেয়েছি ।সানকি ইয়াদিম।

তারপর অন্য দিকে চলে যেতেন ।দিন শেষে ঘরে ফিরতেন এই সহজ সরল মানুষটি। এভাবে দিন চলে যায় মাস পেরিয়ে যায় উনার এমন কাণ্ড চলতে থাকে কোন খাবার খেতে মন চাইলে তিনি ওই খাবারের মূল্য জানতে চাইতেন তারপর সেই পরিমাণ অর্থ উনার বাক্সে ভড়তেন। নিজ মনকে প্রবোধ দিতেন ধরো আমি তা খেয়েছি।

ধীরে ধীরে এই বাক্সে জমানো অর্থ বাড়তে থাকে বেশ কয়েক বছর পর, একদিন তিনি বাক্সটি ভেঙে ফেলেন। সব অর্থ বের করে গুনতে শুরু করলেন । দেখা গেল যা জমেছে তা দিয়ে ছোট একটি মসজিদ নির্মাণ করা সম্ভব এই মহল্লায়।

কিছুদিন পর তিনি একটি মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন ।এতদিনের জমানো সব পয়সা কড়ি খরচ করলেন মসজিদ তৈরির কজে।

ভালো খাবারের লোভ সামলেই অর্থ বাক্সে জমিয়ে রাখার যে অভ্যাস ছিল উনার তা জানা ছিল, খায়রুদ্দীন আফেন্দীর এলাকাবাসীর।তারা যখন দেখল, তিনি তার জীবনের সঞ্চিত সব অর্থ দিয়ে এমন মসজিদ তৈরি করছেন , তারা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন এ মসজিদের নাম হবে, ধরো আমি খেয়েছি মসজিদ।

১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয় আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় পুরো মসজিদ দীর্ঘদিন পর ১৯৬০ সালে এলাকাবাসী মসজিদটি পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করে।

আবারও তাতে শুরু হয় ৫ ওয়াক্ত নামায আদায়। আজও সেখানে পাচঁবার ধ্বনিত হয় মুয়াজ্জিনের আজান।প্রায় ২০০ নামাজি একসঙ্গে মসজিদটিতে নামায পড়তে পারেন।
জীবনভর নিজের লোভ ও ইচ্ছাকে দমন করে সব সঞ্চয় দিয়ে মসজিদ তৈরি করেছিলেন তিনি। এমন কল্যাণময় কাজের বদৌলতে আজও তুরস্কের ইস্তাবুলের আল ফাতেহ এলাকার মানুষের কাছে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

(সুবহানাল্লাহ)

Views All Time
49
Views Today
173
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

৫টি মন্তব্য

  1. sal sa bill sal sa bill says:

    সুবহানাল্লাহ! আমাদেরও সবার উচিত এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে মসজিদ -মাদরাসা নির্মাণে এগিয়ে আসা।

  2. মেঘমালা says:

    সুবহানাল্লাহ! আমাদেরও সবার উচিত এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে মসজিদ -মাদরাসা নির্মাণে এগিয়ে আসা।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে